আনুমানিক ৭৭৫ খ্রিস্টাব্দে তৃতীয় বিগ্রহ পালের পুত্র দ্বিতীয় মহীপাল এ পাল সাম্রাজ্যের সিংহাসনে বসেন। দ্বিতীয় মহীপালের রাজত্বকালে উত্তর বাংলার কৈবর্ত বিদ্রোহ বা সামন্ত বিদ্রোহ হচ্ছে একটি গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা।
এই কৈবর্ত বিদ্রোহের ফলে পাল সাম্রাজ্যের সাময়িক অবসান ঘটে এবং কৈবর্তদের নায়ক দিব্যের নেতৃত্বে সেখানে কৈবর্ত শাসন প্রতিষ্ঠিত হয়।
কৈবর্ত বিদ্রোহ কী বা কৈবর্ত বিদ্রোহ কাকে বলে?
রাজা হিসেবে দ্বিতীয় মহীপাল ছিলেন অত্যাচারী, স্বেচ্ছাচারী এবং অদূরদর্শী। এই সুযোগে উত্তর বাংলার তথা বরেন্দ্র অঞ্চলের সামন্তরা পাল শাসন ও দ্বিতী মহীপালের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ ঘোষণা করে। ইতিহাসে এই বিদ্রোহই কৈবর্ত বিদ্রোহ বা বরেন্দ্র বিদ্রোহ নামে পরিচিত।
বরেন্দ্র কৈবর্ত বিদ্রোহের কারণ কী?
এই বরেন্দ্র বিদ্রোহের কারণ, উৎপত্তি ও প্রকৃতি নির্ণয় করা কঠিন। কারো কারো মতে, দ্বিতীয় মহীপাল ছিলেন অত্যাচারী রাজা। তার এই অত্যাচারমূলক শাসন ব্যবস্থার কারণেই সূত্রপাত হয় কৈবর্ত বিদ্রোহের।
আবার কারো কারো মতে, দ্বিতীয় মহীপাল সিংহাসনে আরোহণ করার পর অহেতুক সন্দেহের ফলে তার ভ্রাতৃদ্বয় রামপাল ও শুরপালকে কারাবন্দী করেন।
এবং এ থেকেই কৈবর্ত বিদ্রোহের উৎপত্তি হয়। আবার অনেকে বলেন যে, পাল রাজারা মৎসজীবী কৈবর্তদেরকে নানাভাবে নির্যাতন করতেন। কারণ, কৈবর্তদের জীবিকা বৌদ্ধধর্মের বিরোধী ছিল। তাই কৈবর্তদের নেতা দিব্য দেশে বিরাজমান অসন্তোষের সুযোগে বিদ্রোহ ঘোষণা করে।
দ্বিতীয় মহীপালের মৃত্যু
দ্বিতীয় মহীপালের শাসনামলে পাল শাসনের দুর্বলতা প্রকাশ পেলে উত্তর বাংলায় বরেন্দ্র অঞ্চলের সান্তবর্গ বিদ্রোহী হয়ে ওঠে। দ্বিতীয় মহীপাল এ বিদ্রোহ দমন করতে গেলে সেখানে তাদের হাতেহ মৃত্যবরণ করে।ৎ
দিব্য কর্তৃক বরেন্দ অধিকার ও স্বাধীনতা ঘোষণা
রামচরিতে বর্ণনা আছে যে, দ্বিতীয় মহীপালের মৃত্যুর পর দিব্য নামে তাঁরই উচ্চ রাজকর্মচারী বরেন্দ্রভূমি অধিকার করেন এবং নিজ শাসন প্রতিষ্ঠিত করেন। দিব্য যেভাবে উত্তর বাংলা দখল করে তাতে মনে হয় তার সাথে সামন্তদের গোপন সম্পর্ক ছিলো। দ্বিতীয় মহীপালের পরাস্ত ও মৃত্যুর পর দিব্য বরেন্দ্র অধিকার করে স্বাধীনতা ঘোষণাপূর্বক স্বাধীন রাজত্বের সূচনা করে।
রামপাল কর্তৃক বরেন্দ্র অধিকার ও কৈবর্ত বিদ্রোহের অবসান
রামপাল আনুমানিক ১০৭৭ খ্রিস্টাব্দে সিংহাসনে আরোহণ করে পিতৃভূমি বরেন্দ্র পুনরুন্ধারের জন্য সচেষ্ট হন। রামপাল বিভিন্ন অঞ্চলের সামন্তদের সম্পত্তির লোভ দেখিয়ে হাত করেন। আর এদিকে দিব্য মৃত্যুবরণ করলে তার ভ্রাতা রুদ্দোক বা রুদ্র এবং তার পুত্র ভীম বারেন্দ্রীয় সিংহাসনে আরোহণ করেন। রামপাল ভীমের বিরুদ্ধে প্রথমে শিরাজ্যের নেতৃত্বে একদল সৈন্য পাঠান। এবং ভীম বারেন্দ্রী বন্দী হন। এভাবেই রামপাল পিতৃরাজ্যে পুনরায় তার রাজত্ব প্রতিষ্ঠিত করে।
পরিশেষে বলা যায় যে, এই কৈবর্ত বিদ্রোহের শুরু বা সূত্রপাত হয় মূলত দ্বিতীয় মহীপালের নির্দয় অত্যাচারী এবং দূর্নীতিপরায়ণ মনোভাবের কারণে। এর ফলে বরেন্দ্র অঞ্চলের শাসনক্ষমতা সাময়িকভাবে পাল রাজাদের হাত থেকে হারিয়ে যায়। পরে অবশ্য রামপাল কর্তৃক তা আবার ফিরে পায়।
আরও পড়ুন:
- বিদ্রোহী কবিতার মূলভাব ও জ্ঞানমূলক প্রশ্ন ও উত্তর
- আবেগ ও আবেগিক বিকাশ কি? | আবেগিক বিকাশের বৈশিষ্ট্য
- চর্যাপদের শিল্পমূল্য নির্ণয় কর
- চর্যাপদ নিয়ে ৫০+ টি গুরুত্বপূর্ণ জ্ঞানমূলক প্রশ্ন উত্তর
- ধূমকেতু কবিতার মূলভাব ও জ্ঞানমূলক প্রশ্ন উত্তর
- বারমাসী বা বারমাস্যা বলতে কী বুঝ?
- কপোতাক্ষ নদ কবিতার মূলভাব, MCQ ও জ্ঞানমূলক প্রশ্ন উত্তর
- সেমিকোলন কি? | সেমিকোলন ব্যবহারের নিয়ম



