বাংলা সাহিত্যের অঙ্গনে উপনিবেশ-শৃঙ্খলিত অন্তর্দ্বন্দ্বময় জাতীয় জীবনের জাগরণ কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিদ্রোহী রূপে প্রবেশ করেছিলেন।
জাতীয়তাবাদী ও স্বাজাত্যপ্রেমী কবি সচেতনভাবে জাতীয় জীবনে জাগরণ আনতে তাঁর সাহিত্যে জাতির ইতিহাস ও ঐতিহ্যকে উপস্থাপন করেছেন।
কবি তাঁর বিখ্যাত কাব্যগ্রন্থ ‘অগ্নিবীণার’ কবিতা ‘খেয়াপারের তরণী’ তে মুসলিম ঐতিহ্যের সার্থক রূপায়ন ঘটিয়েছেন।
খেয়াপারের তরণী কবিতার মূলভাব
বাংলা সাহিত্যে ‘খেয়াপারের তরণী’ কবিতাটি হচ্ছে ইসলামি ঐতিহ্যমূলক উল্লেখযোগ্য একটি কবিতা যা ১৩২৭ বঙ্গাব্দের শ্রাবণ সংখ্যায় প্রকাশিত ঢাকার নওয়াবজাদী মেহেরবানু অঙ্কিত একটি চিত্র অবলম্বনে রচিত।
প্রত্যেক মুসলমানের বিশ্বাসের একটি অঙ্গ হচ্ছে শেষ বিচারের দিন বা রোজ কেয়ামত। কবি এই ধর্মীয় বিশ্বাসের অভিজ্ঞতায় ’খেয়াপারের তরণী’ কবিতাটি রচনা করেছেন।
কবি কাজী নজরুল ইসলাম তরুণদেরকে ইসলামের নব যাত্রার জন্য তরুণদের আহ্বান জানিয়েছেন। পুরানো জরাজীর্ণ ও কুসংস্কারকে পরিত্যাগ করে ইসলামের চার খলিফা আবু বকর, উসমান, ওমর ও আলী এর নাম এ কবিতায় উল্লিখিত হয়েছে।
পুণ্যবানদের নির্ভাবনার কারণ ‘কান্ডারী এ তরীর পাকা মাফি মাল্লা’ কিংবা ‘দাড়ী মুখে সারি গান পুনরায় বাংলার নদ-নদীতে ভাসমান নৌকা ও মাঝি-মাল্লাদের চিরপরিচিত দৃশ্য উপস্থাপন করতে কবি অভিনবত্ব এনেছেন সারিগানের বৈশিষ্ট্যে, ’লা শরীক আল্লাহ’ -আল্লাহর কোনো শরীক নেই- ধর্মবিশ্বাসের এই মূল কথাটি অত্যন্ত সার্থকভাবে এ কবিতায় ব্যবহার করেছেন।
খেয়াপারের তরণী কবিতার জ্ঞানমূলক প্রশ্ন ও উত্তর
এবার আমরা খেয়াপারের তরণী কবিতার কিছু গুরুত্বপূর্ণ জ্ঞানমূলক প্রশ্ন ও উত্তর নিয়ে আলোচনা করবো।
কার কোন চিত্রকে উপলক্ষ করে খেয়াপারের তরী কবিতাটি রচিত?
উত্তর: ঢাকার নওয়াব আহসানুল্লার কন্যা নওয়াবজাদী মেহের বানুর আঁকা একটি চিত্রকে উপলক্ষ করে খেয়াপারের তরণী কবিতাটি কবি কাজী নজরুল ইসলাম রচনা করেছেন।
খেয়াপারের তরণী কবিতায় শেষ পর্যন্ত কারা খেয়া পার হয়?
উত্তর: খেয়াপারের তরণী কবিতায় শেষ পর্যন্ত তরণীর যাত্রীরা খেয়া পার হয়।
খেয়াপারের তরণী কবিতায় ‘জান্নাত’ হতে রাশি রাশি ফুল ফেলে কারা?
উত্তর: জান্নাত হতে রাশি রাশি ফুল ফেলে হুরীরা।
’খেয়াপারের তরণী’ কবিতায় কাণ্ডারী কে?
উত্তর: কাণ্ডারী আহমদকে বলা হয়েছে।
’খেয়াপারের তরণী’ কবিতায় কারা ত্রাসে কাঁপছিল?
উত্তর: তরণীর যাত্রী যারা তারা ত্রাসে কাঁপছিল।
”বৃথা ত্রাসে প্রলয়ের সিন্ধু ও দেয়া ভার- ঐ হল পুণ্যের যাত্রীরা খেয়া পার ।” -কোন কবিতা হতে চয়নিত?
উত্তর: ’অগ্নিবীণা’ কাব্যগ্রন্থ্যের ‘খেয়াপারের তরণী’ কবিতা হতে চয়নিত।
খেয়াপারের তরণীর পালে কী লেখা?
উত্তর: খেয়াপারের তরণীর পালে লেখা ‘শাফায়াত’।
খেয়াপারের তরণী কবিতাটি কোন ছন্দে রচিত?
উত্তর: খেয়াপারের তরণী কবিতাটি চার মাত্রার চালের মাত্রাবৃত্ত ছন্দে রচিত।
’খেয়াপারের তরণী’ কবিতায় রাত্রিতে কারা কী উদ্দেশ্যে এসেছে?
উত্তর: যাত্রীরা রাতে খেয়াপারের উদ্দেশ্যে এসেছে।
আরও পড়ুন:
- বিদ্রোহী কবিতার মূলভাব ও জ্ঞানমূলক প্রশ্ন ও উত্তর
- কামাল পাশা কবিতার মূলভাব ও জ্ঞানমূলক প্রশ্ন উত্তর
- ধূমকেতু কবিতার মূলভাব ও জ্ঞানমূলক প্রশ্ন উত্তর
- কপোতাক্ষ নদ কবিতার মূলভাব, MCQ ও জ্ঞানমূলক প্রশ্ন উত্তর
- আগমনী কবিতার মূলভাব ও জ্ঞানমূলক প্রশ্ন উত্তর
- প্রলয়োউল্লাস কবিতার মূলভাব ও জ্ঞানমূলক প্রশ্ন উত্তর
- রক্তাম্বর ধারিণী মা কবিতার মূলভাব ও জ্ঞানমূলক প্রশ্ন উত্তর
- মোহররম কবিতার মূলভাব ও জ্ঞানমূলক প্রশ্ন উত্তর
পরিশেষে বলা যায় যে, ‘খেয়াপারের তরণী’ কবিতার অভিজ্ঞতা মুসলমানদের ধর্ম বিশ্বাস থেকে উৎসাহিত কিন্তু কবিতাটি বাংলাদেশের প্রকৃতির বর্ষা, ঝঞ্ঝা, তরণী ও মাঝি-মালা প্রভৃতি দৃশ্যের সাহায্যে রচনা করে কবি মুসলমান জাতির ঐতিহ্য তুলে ধরে একটি আধ্যাত্মিক ব্যঞ্জনা সৃষ্টি করেছেন। এই ‘খেয়াপারের তরণী’ কবিতাটির মূল অন্তর্নিহিত ভাব হচ্ছে সত্যের জয় মিথ্যার পরাজয়, পুণ্যের পরিত্রাণ।



