কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতাল: সেবা, সময়সূচি, যোগাযোগ ও ডাক্তার দেখানোর নিয়ম

Join Telegram Channel

কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতাল হলো ঢাকা শহরের অন্যতম প্রধান এবং আধুনিক সরকারি চিকিৎসা সেবা কেন্দ্রগুলোর একটি। এখানে কম খরচে উন্নত চিকিৎসার জন্য এই (Kurmitola General Hospital)
হাসপাতালটি অত্যন্ত সুপরিচিত।

সেজন্য এই আর্টিকেলে কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালটি সম্পর্কে আপনার প্রয়োজনীয় সব প্রশ্নের উত্তর নিচে বিস্তারিতভাবে দেওয়া হয়েছে।

কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালের পরিচিতি

 

KGH এর পূর্ণরূপ হচ্ছে কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতাল (Kurmitola General Hospital) ঢাকা শহরের বুকে অবস্থিত কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতাল অত্যন্ত আধুনিক ও স্বনামধন্য একটি সরকারি চিকিৎসা সেবা কেন্দ্র। এই হাসপাতালটির নির্মান কাজ শুরু হয়েছিলো ২০০৪ সালে এবং নির্মাণ কাজ শেষ হয় ২০১১ সালে। পরবর্তীতে হাসপাতালটি ১৩ মে ২০১২ সালে উদ্বোধন করেন তৎকালীন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা

কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালটি মূলত সামরিক ও বেসামরিক যৌথ ব্যবস্থাপনায় পরিচালিত একটি তৃতীয় পর্যায়ের (Tertiary Level) রেফারেল হাসপাতাল। এখানে সাধারণ মানুষের জন্য অত্যন্ত সুলভে বা সাশ্রয়ী মূল্যে বিশ্বমানের ও উন্নত চিকিৎসা নিশ্চিত করা হয়। এই হাসপাতালটি সম্পূর্ণ সরকারি অর্থায়নে পরিচালিত হয়। হাসপাতালটির শয্যা (Bed) সংখ্যা হচ্ছে ৫০০টি। যার মধ্যে আধুনিক আইসিইউ (ICU), সিসিইউ (CCU) এবং নিওনেটাল কেয়ারের (NICU) চমৎকার ব্যবস্থা রয়েছে।

 

কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালের সঠিক অবস্থান ও ঠিকানা

কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালটির সঠিক অবস্থান (Location) ও ঠিকানা নিচে দেওয়া হলো:

ঠিকানা: কুর্মিটোলা, এয়ারপোর্ট রোড, ঢাকা ক্যান্টনমেন্ট, ঢাকা-১২০৬।

চেনার সহজ উপায়: ঢাকা বিমানবন্দর সড়ক বা এয়ারপোর্ট রোডের পাশে বিখ্যাত পাঁচ তারকা হোটেল ‘র‍্যাডিসন ব্লু ঢাকা ওয়াটার গার্ডেন’ (Radisson Blu)-এর ঠিক বিপরীত পাশে এই কুর্মিটোলা হাসপাতালটি অবস্থিত।

থানা: কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালটি ঢাকা মেট্রোপলিটনের ক্যান্টনমেন্ট থানার অধীনে পড়েছে।

আরও কিছু দিকনির্দেশনা: যেকোনো বাস, সিএনজি বা নিজস্ব যানে করে কুর্মিটোলা গলফ ক্লাব বা র‍্যাডিসন ব্লু হোটেলের সামনে নামলেই এই বিশাল ও দৃষ্টিনন্দন হাসপাতালটি সরাসরি চোখে পড়ে।

 

কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালের জরুরি যোগাযোগ ও ফোন নাম্বার

 

কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালের জরুরি যোগাযোগ ও ফোন নাম্বার গুলো নিচে দেওয়া হলো:

  • মোবাইল (জরুরি বিভাগ): ০১৭৬৯-০১০৫১৪
  • টেলিফোন (পিএবিএক্স): +৮৮-০২-৫৫০৬২৩৩১-৪০
  • পরিচালক মহোদয়ের কার্যালয়: +৮৮-০২-৫৫০৬২৩৩০

 

কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালে ডাক্তার দেখানোর নিয়ম ও সময়সূচি

 

কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালে প্রতিদিন হাজার হাজার মানুষ আউটডোর বা বহির্বিভাগে চিকিৎসা নিতে আসেন।

আপনি যদি এই হাসপাতালে ডাক্তার দেখাতে চান, তবে নিচের নিয়ম ও সময়সূচিগুলো ভালোমতো জেনে রাখা জরুরি:

ডাক্তার দেখানোর সঠিক নিয়ম (আউটডর, ইনডর ও জরুরী বিভাগ)

আপনি আউটডর না ইনডরে রোগী দেখাবেন তার উপর নির্ভর করবে ডাক্তার দেখানোর নিয়ম।

আউটডরে রোগীদের জন্য ডাক্তার দেখানোর নিয়ম: হাসপাতালে গিয়ে প্রথমে আউটডর রোগীর কাউন্টারে গিয়ে টিকিক সংগ্রহ করতে হবে। টিকিটে রোগীর নাম, বয়স ও বিভাগ উল্লেখ থাকবে। তারপর বিভাগ অনুযায়ী নির্দিষ্ট বিভাগের সিরিয়ালে গিয়ে দাড়াতে হবে।

বিভাগ সেখানে উপস্থিত থাকা স্টাফ বা সিরিয়াল ডেস্ক থেকে ডাক্তার দেখানোর সিরিয়াল দেওয়া হয়। যে আগে আসবে সে আগে আসবে সে আগে সিরিয়াল পাবে।

ইনডরে রোগীদের জন্য ডাক্তার দেখানোর নিয়ম: যে সকল হাসপাতালে ভর্তি হয়ে চিকিৎসা গ্রহণ করে থাকেন তাদেরকেই মূলত ইনডর রোগী বলা হয়ে থাকে। ইনডোর রোগীদের ডাক্তার দেখানোর নিয়ম হচ্ছে:

  • সংশ্লিষ্ট ওয়ার্ডের দায়িত্বপ্রাপ্ত ডাক্তার নিয়মিতভাবে রাউন্ড দেন।
  • প্রয়োজন হলে বিশেষজ্ঞ ডাক্তার কনসাল্ট করে থাকেন।
  • এছাড়াও, নার্স ও স্টাফদের মাধ্যমে নিয়মিতভাবে ইনডর রোগীদের তত্ত্বাবধান করানো করা হয়।

 

জরুরী বিভাগের রোগীদের ডাক্তার দেখানোর নিয়ম: হঠাৎ করে যদি কেউ গুরুতর অসুস্থ হয়ে যায় বা কোন দূর্ঘটনার স্বীকার হয়ে থাকেন তবে সরাসরি প্রথমে জরুরী বিভাগে নিয়ে যেতে হবে। জরুরী বিভাগে টিকিট ছাড়াই প্রাথমিক ভাবে প্রয়োজনীয় সকল চিকিৎসা দেওয়া হয়। এবং রোগীর অবস্থা বুঝে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেওয়ার পাশাপাশি প্রয়োজন হলে রোগীকে ভর্তি করানো হয়।

 

ডাক্তার দেখানোর সময় কোন কোন বিষয় খেয়াল রাখতে হবে?

হাসপাতালে ডাক্তার দেখানোর সময় আপনি বেশ কিছু বিষয়ে একটু নজর রাখলে আপনার জন্য ভালো হবে। ডাক্তার দেখানোর সময় যেসব বিষয় খেয়াল রাখবেন:

টাইম মেইনটেইন: সরকারি হাসপাতালে টিকিট দেওয়া মূলত ৮ টাতে শুরু হলেও আপনার উচিত ৭ টা থেকে ৭:৩০ এর ভিতর যাওয়া। এতে করে লাইনের সামনে থেকে প্রথমে টিকিট নিয়ে দ্রুত ডাক্তার দেখাতে পারবেন।

প্রয়োজনীয় কাগজপত্র: আপনার কাছে যদি পূর্বের কোন ডাক্তারের পেসক্রিপশন বা টেস্ট রিপোর্ট থাকে সেগুলো সাথে নিয়ে যাবেন।

ডাক্তারকে সব খুলে বলা: ডাক্তারের কাছে যাওয়ার পরে কিছু জিজ্ঞেস সবকিছু গুছিয়ে সুন্দর করে বলবেন। কোন সমস্যার কথা গোপণ রাখবেন না।

টিকিট ও স্লিপ: আপনি ১০ টাকা দিয়ে টিকিট বা স্লিপটি নিবেন সেটি যত্ন সহকারে কাছে রাখবেন। কারণ, টিকিটটি হারিয়ে ফেললে ডাক্তার দেখাতে পারবেন না।

সহযোগীতা করার জন্য কাউকে সাথে রাখুন: হাসপাতালে টিকিট কাউন্টার খোঁজা, ডাক্তার খোঁজা বা লাইনে দাড়িয়ে থাকতে থাকতে অসুস্থতাও বোধ করতে পারেন। সে সময় আপনি যাকে সাথে নিয়ে যাবেন সে আপনার খুবই কাজে লাগবে বা আপনাকে সহযোগীতা করতে পারবে।

ফ্রি ঔষুধ ও টেস্টের নিয়ম: ডাক্তার পেসক্রিপশন লিখে দেওয়ার পর সেখানে ফ্রিতে বা কম মুল্যে কোন ঔষুধ পাওয়া যায় কিনা তা জেনে লাইনে দাড়ান। এবং যদি কোন টেস্ট (এক্স-রে, রক্ত পরীক্ষা) দেয় তা হাসপাতালেই বাইরের চেয়ে অনেক কম খরচে হাসপাতালে করতে পারবেন। সেজন্য নির্ধারিত কাউন্টারে টাকা জমা দিয়ে সিরিয়ালে দাড়াতে হবে।

 

কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালে অনলাইন/ডিজিটাল টিকিট কাটবো কিভাবে?

কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালে অনলাইন/ডিজিটাল টিকিট কাটার নিয়ম:

যদিও সরকারি কিছু উদ্যোগের মাধ্যমে অনলাইনে অগ্রিম টিকিট বুকিংয়ের প্রক্রিয়া সীমিত পরিসরে চালু রয়েছে, কিন্তু এখনো শতভাগ নিশ্চিত সেবার জন্য সরাসরি সকালে এসে টিকিট কাটাই সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য মাধ্যম। সেজন্য চেষ্টা করবেন নির্ধারিত সময়ের চেয়ে একটু আগে হাসপাতালে পৌছানো।

 

কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালের সময়সূচি

 

টিকিট কাটার সময়: কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালে সহ সহ সকল সরকারি হাসপাতালে টিকিট কাউন্টার খোলার সময় হচ্ছে সকাল ৮:০০ টা থেকে দুপুর ১:০০ টা পর্যন্ত। এই নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই টিকিট সংগ্রহ করার চেষ্টা করবেন (মনে রাখবেন, ১:০০ টার পর আর বহির্বিভাগের টিকিট দেওয়া হয় না)।

ডাক্তার দেখানেরা সময়: সকাল ৮:০০ টা থেকে দুপুর ২:৩০ টা পর্যন্ত নিয়মিতভাবে চিকিৎসকেরা বহির্বিভাগে রোগী দেখেন।

জরুরি বিভাগ: দিন-রাত ২৪ ঘণ্টা এবং বছরের ৩৬৫ দিনই ‍জুরুরী বিভাগ খোলা থাকে।

 

কুর্মিটোলা জেরারেল হাসপাতালে সাপ্তাহিক বন্ধের দিন কবে কবে?

 

কুর্মিটোলা জেরারেল হাসপাতালে সাপ্তাহিক বন্ধের দিন কবে কবে তা নিচে দেওয়া হলো:

বহিঃবিভাগ (OPD) বন্ধ: কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালের সাধারণ বহির্বিভাগ প্রতি সপ্তাহের শুক্রবার করে সম্পূর্ণ বন্ধ থাকে।

সরকারি ছুটি: দেশের সকল সাধারণ সরকারি ছুটির দিনগুলোতেও হাসপাতালে বহির্বিভাগের সকল কার্যক্রম বন্ধ থাকে।

তবে জরুরি বিভাগ (Emergency) ও ইনডোর (ভর্তি রোগী) সেবা শুক্রবার বা ছুটির দিনেও পুরোদমে চালু থাকে।

আপনার জন্য একটি জরুরি টিপস: যেহেতু কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতাল একটি জনপ্রিয় সরকারি হাসপাতাল, তাই বিশেষজ্ঞ ডাক্তার দেখানোর জন্য সকাল ৮:০০ টার আগেই হাসপাতালের টিকিট কাউন্টারের লাইনে দাঁড়ানো সবচেয়ে বুদ্ধিমানের কাজ হবে।

 

কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালে ডাক্তার তালিকা

 

কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালে ডাক্তার তালিকা নিচে দেওয়া হলো:

  • মেডিসিন বিভাগ (Department of Medicine)
  • হৃদরোগ বিভাগ (Cardiology Department)
  • শিশু রোগ বিভাগ (Pediatrics Department)
  • গাইনী ও প্রসূতি রোগ বিভাগ (Gynecology & Obstetrics)
  • জেনারেল ও ল্যাপারোস্কোপিক সার্জারি বিভাগ (Surgery Department)
  • অর্থোপেডিক্স ও ট্রমা বিভাগ (Orthopedics Department)
  • চর্ম ও যৌন রোগ বিভাগ (Dermatology / Skin & VD)
  • নাক, কান ও গলা বিভাগ (ENT Department)
  • চক্ষু বিভাগ (Ophthalmology / Eye Department)

 

উপরে উল্লিখিত বিভাগ গুলোতে আপনি হাসপাতাল খোলা থাকাকালীন নিয়মিত ডাক্তার দেখাতে পারবেন।

Disclaimer: যে কোন সরকারি হাসপাতালের নিয়ম অনুযায়ী ডাক্তারদের পোস্টিং, বদলি এবং ডিউটি রোস্টার (সাপ্তাহিক ডিউটি) প্রতিনিয়ত পরিবর্তিত হয়ে থাকে। এছাড়া অনেক সময় শিক্ষাদানের কাজে বা ইনডোর ডিউটির কারণে ওপিডি-তে নির্দিষ্ট দিনে ডাক্তার পরিবর্তন হতে পারে। সেজন্য শতভাগ নিশ্চিত হতে রোগীকে হাসপাতালে এসে সরাসরি ওপিডি (OPD) তথ্য কেন্দ্র বা নোটিশ বোর্ড থেকে ওই দিনের দায়িত্বরত ডাক্তারের নাম ও রুম নম্বর জেনে নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।

 

আরও পড়ুন:

 

শেষ কথা, জীবিকা নির্বাহের জন্য কাজ করা যেমন জুরুরী তার চেয়েও বেশি জুরুরী হচ্ছে সুস্থ্য থাকা। যেদিন হাসপাতালে যাবেন চেষ্টা করবেন সময় একটু বেশি নির্ধারিত সময়ের আগে হাসপাতালে পৌছানোর এবং সাথে একজন জানাশোনা মানুষকে নিবেন। এতে করে আপনার নতুন করে কিছু খুঁজতে হবে না, ফলে অনেক সময়ও সাশ্রয় হবে।

আর্টিকেলটি ভালো লাগলে আপনার শুভাকাঙ্খীদের সাথে সেয়ার করে দিবেন।

Spread the love
Join Telegram Channel

হ্যালো "ট্রিকবিডিব্লগ" বাসী আমি ওসমান আলী। দীর্ঘদিন থেকে অনলাইনে লেখালেখির পেশায় যুক্ত আছি। Trick BD Blog আমার নিজের হাতে তৈরি করা একটি ওয়েবসাইট। এখানে আমি প্রতিনিয়ত ব্লগিং, ইউটিউবিং ও প্রযুক্তি সহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ টিপস এন্ড ট্রিক্স রিলেটেড আর্টিকেল প্রকাশ করে থাকি।

Leave a Comment