সুতা কী? | সুতা কত প্রকার ও কি কি?

Join Telegram Channel

দৈনন্দিন জীবনে আমাদের ব্যবহার করা প্রত্যেকটি পোশাকেই সুতার ব্যবহার রয়েছে। কোয়ালিটি ভেদে সুতা অনেক রকমের হয়ে থাকে।

তাই আজকের আর্টিকেলে সুতা কী?, সুতা কত প্রকার ও কি কি?, বিভিন্ন প্রকার সুতার নামের তালিকা, কিভাবে সুতা তৈরি করা হয় এইসব বিষয় নিয়ে আলোচনা করবো।

 

সুতা কী বা সুতা কাকে বলে?

 

বিভিন্ন প্রকার টেক্সটাইল ফাইবার দিয়ে তৈরি করা একটি অবিচ্ছিন্ন রৈখিক বস্তুকে মূলত সুতা বলা হয়। সুতা অত্যন্ত প্রয়োজনীয় একটি উপাদান। পৃথিবীতে কোটি কোটি মানুষ রয়েছে এবং প্রত্যেকেই বিভিন্ন রকম পোশাক পরিধান করে। আর এই পোশাক গুলো তৈরি হয় সুতা দিয়ে। তাছাড়া সেলাইয়ের কাজে সুতা ব্যবহার করা হয়।

 

সুতা কত প্রকার ও কি কি?

 

গঠন কৌশলের উপর ভিত্তি করে সুতা বিভিন্ন প্রকারের হয়ে থাকে। উদাহরণস্বরূপ:

Filament Thread: ফিলামেন্ট থ্রেড এক বা একাধিক ফিলামেন্ট twisting প্রক্রিয়ায় তৈরি হয়। Filament Thread আবার তিন (০৩) প্রকার হয়ে থাকে। যথা:

  • Monofilament Thread: মোনোফিলামেন্ট থ্রেড যেসব তৈরি করার জন্য ব্যবহার করা হয় তা হচ্ছে Flags, Seams, Upholstery, Hair warps প্রভৃতি।
  • Multifilament Thread: মাল্টিফিলামেন্ট থ্রেড যেসব তৈরি করার জন্য ব্যবহার করা হয় তা হচ্ছে চামড়া জাতীয় পণ্য, লাগেজ, ফুটওয়ারস প্রভৃতি।
  • Bulb Filament thread: বাল্ব ফিলামেন্ট থ্রেড যেসব তৈরি করার জন্য ব্যবহার করা হয় তা হচ্ছে বিভিন্ন প্রকার পোশাক তৈরি করার জন্য। যেমন: মহিলা ও পুরুষের দৈনন্দিন ব্যবহৃত পোশাক, খেলোয়ারদের পোশাক প্রভৃতি।

 

Spun Thread: প্রাকৃতিক ও সিনথেটিক এ উভয় প্রকারের ফাইবার থেকে এই স্পুন থ্রেড সুতাটি তৈরি করা হয়। এই টেকসই এবং দীর্ঘস্থায়ী। এই স্পুন থ্রেড সুতার একটি উদাহরণ হচ্ছে এটি পলিস্টার ধরনের সুতা।

স্পুন থ্রেড সুতা যেসব কাজে ব্যবহার করা হয় তা হচ্ছে: শার্ট, আন্ডার ওয়ার, জিন্স, শিশুদের পোশাক, ব্লাউজ, জ্যাকেট প্রভৃতি।

 

Core Spun Thread: কোর স্পুন থ্রেডকে ইনডাস্ট্রিয়াল থ্রেডও (Industrial Thread) বলা হয়ে থাকে। Continuous Filament ও Staple Fiber এই দুইটি উপাদানকে সংমিশ্রণ করে তৈরি করা হয় কোর স্পুন থ্রেড।

কোর স্পুন থ্রেড যেসব কাজে ব্যবহার করা হয় তা হচ্ছে: ইউনিফর্ম, চামড়া জাতীয় পণ্য প্রভৃতি।

 

সুতার উৎস কি বা কাকে বলে?

 

একধরনের ফাইবার বা আশ হচ্ছে সুতার উৎস। আবার এই ফাইবার গুলো আসে বিভিন্ন উৎস থেকে। এই উৎসগুলোর ‍উপর ভিত্তি করেই সুতাকে প্রকারভেদ করা হয় ও বিভিন্ন রকমের নামের হয়ে থাকে। প্রধাণত এই ফাইবার বা আশ গুলো আসে প্রাকৃতিগতভাবে উদ্ভিদ ও প্রাণী হতে।

উদাহরণস্বরূপ: কটন আসে উদ্ভিতজাস উৎস থেকে এবং উল আসে প্রাণীজ উৎস থেকে।

এসব ছাড়াও আরও প্রাকৃতিক ফাইবার রয়েছে। যেমন: সিল্ক, রেয়ন, লিলেন, হেম্প, পাট ইত্যাদি।

প্রাকৃতিক ফাইবার ছাড়াও আরও এক ধরনের ফাইবার রয়েছে যাকে কৃত্রিম ফাইবার বলা হয়। এই কৃত্রিম ফাইবার তৈরি করা হয় বিভিন্ন রকম কেমিক্যাল ও রাসায়নিক দ্রবাদির মাধ্যমে।

নাইলন ও পলিস্টার তৈরি হয় এই কৃত্রিম ফাইবার থেকে।

 

সুতা কিভাবে তৈরি করা হয়?

 

সুতার নাম ও বিভিন্ন প্রকারভেদের উপর ভিত্তি করে সুতা উৎপাদন করার প্রক্রিয়াটিও আলাদা আলাদা হয়ে থাকে।

ফাইবার বা আশ হচ্ছে টেক্সটাইল জগতে উৎপাদন চেইনের প্রথম ধাপ বা ফার্স্ট স্টেপ। ফাইবারের Spinning এর পর সেলাই করার উপযোগী সুতা ইর্য়ান পাওয়া যায়। একাধিক ফাইবারের সমন্বয়ে গঠিত হয় ইর্য়ান।

তারপর এই ইর্য়ানকে বুনন বা উইভিংয়ের মাধ্যমে তৈরি করা হয়ে থাকে বিভিন্ন রকমের পোশাক বা কাপড়।

 

বিভিন্ন প্রকার সুতার নামের তালিকা

 

নিচে টিবিল আকারে বিভিন্ন প্রকার সুতার নামের তালিকা দেওয়া হলো:

 

 

বিভিন্ন প্রকার সুতার নামের তালিকা

ক্রমিক নংসুতার নাম
লিলেন
সিল্ক
নাইলন
পলিস্টার
রেয়ন
উলের সুতা
কটন: নরম কটন সুতা, মারসেরাইজড কটন সুতা, গ্লেইজড কটন সুতা
তুলার সুতা

 

 

আরও পড়ুন:

 

পরিশেষে, আশাকরি এই ‘সুতা কী? | সুতা কত প্রকার ও কি কি?’ আর্টিকেলটি পড়া শেষে আপনি সুতা সম্পর্কে সার্বিক একটি ধারণা পেয়ে গেছেন।

Spread the love
Join Telegram Channel

হ্যালো "ট্রিকবিডিব্লগ" বাসী আমি ওসমান আলী। দীর্ঘদিন থেকে অনলাইনে লেখালেখির পেশায় যুক্ত আছি। Trick BD Blog আমার নিজের হাতে তৈরি করা একটি ওয়েবসাইট। এখানে আমি প্রতিনিয়ত ব্লগিং, ইউটিউবিং ও প্রযুক্তি সহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ টিপস এন্ড ট্রিক্স রিলেটেড আর্টিকেল প্রকাশ করে থাকি।

Leave a Comment