বিদ্রোহী কবি কাজী নজরুল ইসলাম এর এই ‘রক্তাম্বর ধারিণী মা’ কবিতায় আছে দুর্গার মধ্যে যে সৃষ্টিশীলতা রয়েছে। এই ‘রক্তাম্বর ধারিণী মা’ কবিতায় কবি কাজী নজরুল ইসলাম হিন্দু পুরানের দেবদেবীকে আহ্বান করেছেন সমাজের অত্যাচারীদের নাশ করার জন্য।
রক্তাম্বর ধারিণী মা কবিতার মূলভাব
কাজী নজরুল ইসলাম তৎকালীন সময়ের অবক্ষয় এবং বিপন্নতা অতিক্রমের তীব্র বাসনায়, অপশক্তি ধ্বংসের আকঙ্ক্ষায় দেবী দুর্গার দ্বৈতসত্তা সমরণ করেছেন। এবং কবি পুরাণের দেবী দুর্গা সমকালের সঙ্গে সংলগ্ন হয়ে বিকিরণ করেছে নতুন মহিমায়।
দেখা মা আবার দনুজ দলনী
আশিব-নাশিনী চণ্ডী রূপ;
দেখাও মা ঐ কল্যাণ করই
আনিতে পারে কি বিনাশ স্তূপ।
রক্তাম্বরধারিণী মা কবিতায় কবি তাঁর সৃষ্টিশীলতা অনুসঙ্গ হিসেবে দেবী দুর্গার অসুরনাশিনী রুদ্ররূপের চিত্র এঁকেছেন। এই রক্তাম্বর ধারিণী মা কবিতাটিতে দেবী দুর্গাকে আহ্বান জনিয়েছেন অত্যাচরীদের বিনাশ করার জন্য। সমকালীন জাতী জীবনের দুঃসহ সময়কে অতিক্রম করার বাসনায় সকল অপশক্তি ও অনাচার ধ্বংসের আকাঙ্ক্ষায় দেবীর ভয়ংকরী রূপের কামনা করেছেন। যেমন-
এলোকেশে তব দুলুক ঝঞ্ঝা
কাল-বৈশাখী ভীম তুফান।
চরণ-আঘাতে উদগারে যেন
আহত বিশ্ব রক্ত-বাণ।
এই ’রক্তাম্বর ধারিণী মা’ কবিতায়ই ঘোষিত হয়েছে দানব শক্তিকে পরাজিত করার মূলমন্ত্র। মূলত কবি কামনা করেছেন দানব শক্তিকে পরাজিত বা বিনাশ করার মধ্য দিয়ে ব্রিটিশ শাসনের অবসান। এবং ধ্বংসের মধ্য দিয়ে কবি নতুন পৃথিবী সমাজ গড়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন চণ্ডী দেবীর কাছে।
সেজন্য কবি বলেছেন-
ধ্বংসের বুকে হাসুক মা তোর
সৃষ্টির নব পূর্ণিমা।
কবি কাজী নজরুল ইসলাম এই ‘রক্তাম্বর ধারিণী মা’ কবিতায় দেবী দুর্গার অবিনাশী রূপকে আহ্বান জানিয়েছেন ব্রিটিশ শাসনের অবসানকল্পে এবং ভারতবাসীর মুক্তির আকাঙ্ক্ষায়।
রক্তাম্বর ধারিণী মা কবিতার জ্ঞানমূলক প্রশ্ন ও উত্তর
এবার আমরা রক্তাম্বর ধারিণী মা কবিতার কিছু গুরুত্বপূর্ণ জ্ঞানমূলক প্রশ্ন ও উত্তর নিয়ে আলোচনা করবো।
রক্তাম্বর ধারিণী মা কবিতায় সিঁদুর মুছে ফেলে সেখানে কবি কী জ্বালতে বলেছেন?
উত্তর: কাল ফিতা জ্বালাতে বলেছেন।
রক্তাম্বর-ধারিণী মাকে কি দিয়ে চাবুক করতে বলা হয়েছে?
উত্তর: মায়ের মেখলা ছিঁড়ে চাবুক করতে বলা হয়েছে।
”ধ্বংসের বুক হাসুক মা তোর সৃষ্টির নব পূণিমা।” – কোন কবিতা হতে উদ্ধৃত?
উত্তর: অগ্নিবীণা কাব্যের ‘রক্তাম্বর ধারিণী মা’ কবিতা হতে উদ্ধৃত।
কবি ‘রক্তাম্বর ধারিণী মা’ কবিতায় মাকে কোন রূপ ধারণের আহ্বান করেছেন?
উত্তর: কবি মাকে শ্বেতবসন পরিত্যাগ করে রক্তাম্বর ধারণ করে জাগতের অনাচার, অবিচার, অত্যাচরকে ধ্বংস করে পৃথিবীকে নতুন করে সাজাবার আহ্বান জানিয়েছেন।
’রক্তাম্বর ধারিণী মা’ কবিতাটি কোথায় প্রথম প্রকাশিত হয়?
উত্তর: ‘রক্তাম্বর ধারিণী মা’ কবিতাটি প্রথম ‘ধূমকেতু’ প্রত্রিকার দ্বিতীয় সংখ্যায় ১৯২২ সালে প্রকাশিত হয়।
’রক্তাম্বর ধারিণী মা’ কবিতায় কবি কেন দুর্গাদেবীর রণরঙ্গিণী মূর্তিকে রূপকার্থে সম্ভাষণ জানিয়েছেন?
উত্তর: ব্রিটিশ সরকারের অত্যাচার ও দেশের অর্থনৈতিক সংকট প্রতিরোধের উদ্দেশ্যে কবি দুর্গাদেবীর রণরঙ্গিণী মূর্তিকে সম্ভাষণ জানিয়েছেন।
আরও পড়ুন:
- বিদ্রোহী কবিতার মূলভাব ও জ্ঞানমূলক প্রশ্ন ও উত্তর
- কামাল পাশা কবিতার মূলভাব ও জ্ঞানমূলক প্রশ্ন উত্তর
- ধূমকেতু কবিতার মূলভাব ও জ্ঞানমূলক প্রশ্ন উত্তর
- বারমাসী বা বারমাস্যা বলতে কী বুঝ?
- কপোতাক্ষ নদ কবিতার মূলভাব, MCQ ও জ্ঞানমূলক প্রশ্ন উত্তর
- আগমনী কবিতার মূলভাব ও জ্ঞানমূলক প্রশ্ন উত্তর
- প্রলয়োউল্লাস কবিতার মূলভাব ও জ্ঞানমূলক প্রশ্ন উত্তর
পরিশেষে বলা যায় যে, রক্তাম্বর ধারিণী মা কবিতায় কবি দেবীর অসুরনাশিনী শক্তির মতো জাতিকেও শক্তি সঞ্চয় করে দানবরূপ ঔপনিবেশিক শক্তির ধ্বংস তথা অবসান কামনা করেছে। এবং ধ্বংসের মাধ্যমেই গড়তে চেয়েছেন একটি শোষণহীন নতুন সমাজ।




আরেকটু তথ্য সংযোগ করা উচিত ছিল।যেমন: কবিতার প্রকাশকাল, কবিতাটি অগ্নিবীণা কাব্যে কখন সংযোজন করা হয়েছে, কোন পত্রিকায় প্রকাশিত হয়েছে ইত্যাদি
আপনার মূল্যবান মন্তব্যের জন্য ধন্যবাদ