আমরা একটানা অবিরাম কথা বলে যেতে পারি না; শ্বাস নেওয়ার জন্য আমাদের থামতে হয়, কখনো অল্পক্ষণ আবার কখনো সামান্য সয়ম থেমেই পড়তে হয়।
এই যে থেমে যাওয়া এবং আবার পড়া- এজন্যই বাক্যে ব্যবহৃত হচ্ছে যতি চিহ্নের।
সেমিকোলন হচ্ছে যতি চিহ্নের একটি। আর এই আর্টিকেলে আমরা সেমিকোলন কি? ও সেমিকোলন ব্যবহারের নিয়ম-কানুন নিয়ে আলোচনা করবো।
সেমিকোলন কি?
সেমিকোলন হচ্ছে বাক্যের ভিতর ব্যবহৃত হওয়া যতি চিহ্ন গুলোর একটি। এর পরিভাষা হচ্ছে ‘অর্ধচ্ছেদ’। এই ‘অর্ধচ্ছেদ’ কথাটি বা শব্দটি দিয়ে সেমিকোলনের অর্থ বোঝা যায় না; বরং যদি বলা হয় কমা ও দাঁড়ি মাঝামাঝি হলো সেমিকোলন।
বাক্যে কমা থাকলে যতটুকু থামা হয়, সেমিকোলন থাকলে তার চেয়ে সামান্য বেশিক্ষণের জন্য থামতে হয়। তবে তা অবশ্যই দাঁড়ির চেয়ে কম হবে।
সেমিকোলন ব্যবহারের নিয়ম
সেমিকোলন ব্যবহারের নিয়মে আমরা সেমিকোলন ব্যবহারের ক্ষেত্রসমূহ অর্থাৎ বাক্যে কোথায় কোথায় সেমিকোলন ব্যবহৃত হয় সে বিষয়ে জানবো।
১. একাধিক স্বাধীন বাক্যকে একটি বড় বাক্যের অন্তর্গত করলে তার মাঝে সেমিকোলন বসে। যেমন:
- তিনি শুধু তামাশা দেখিতেছিলেন; কোথাকার জল কোথায় গিয়ে পড়ে।
- তার বাড়িতে যাওয়ােই হলো না; যদিও সে যাব যাব বলে তৈরি হয়ে আছে অনেকক্ষণ।
২. বক্তব্য স্পষ্ট করার জন্য সমজাতীয় বাক্য পাশাপাশি প্রতিস্থাপন করলে সেমিকোলন বসে। যেমন:
- বৃদ্ধরা নব অভিযানের জয়যাত্রায় কেবল বাধা নয়, বিঘ্ন; সময়ের সঙ্গে তাল মিলিয়ে তারা চলতে পারে না; তারা জীব হয়েও জড়।
- আমরা বীরের জাতি; বীরত্ব কেবল কথায় নয়, আত্মদানের মধ্যে প্রকাশ করতে পারি।
৩. পরস্পর নির্ভরশীল বাক্য সংযোজন অব্যয় দিয়ে যুক্ত হলেও কখনো কখনো প্রথম বাক্যের শেষেও সংযোজক অব্যয়ের আগে সেমিকোলন হতে পারে। যেমন:
- তমি চলে যাবে একথা সত্যি; তবু একবার আশার কথা রাখ।
- দুঃখ তো মানুষের জন্যই আসে; কিন্তু তা জয় করার জন্য চাই মনোবল।
৪. শ্রেণিভুক্ত করার সময় সমজাতীয় বিষয়কে অন্য শ্রেণি থেকে পৃথক করতে সেমিকোলন ব্যবহার হয়। যেমন:
- তুমি বাজার থেকে আম, জাম, লিচু বেগুন, কুমড়া ও আলু এনেছ।
- করিম ইংরেজি, বাংলা, ইতিহাস ও চারুকলায় ভর্তি পরীক্ষা দিয়েছে।
৫. বাক্যের কোনো বক্তব্যকে পরবর্তী অংশে বিশদভাবে বর্ণনা করার সময় দু’ অংশের মাঝে সেমিকোলন বসে। যেমন:
- আমরা স্বাধীন জাতি; আমাদের উন্নতি কিসে হবে, কিভাবে হবে তা এখনই ভেবে দেখা দরকার।
- সত্য কখনো বিলুপ্ত হওয়ার নয়; মিথ্যাই বিলুপ্ত হবে, সত্য চিরঞ্জীব।
৬. একটি বৃহৎ বাক্যের মাঝে সঙ্গতিপূর্ণ বক্তব্যকে ছোট উপবাক্যের দ্বারা সন্নিবেশ করার জন্য সেমিকোলন ব্যবহার করার যায়। যেমন:
- রতন চুপ করে থাকল, বাইরে তখন বৃষ্টি; দাদাবাবুর প্রশ্নের কোনো উত্তর খুঁজে পেল না সে।
আরও পড়ুন:
- বিদ্রোহী কবিতার মূলভাব ও জ্ঞানমূলক প্রশ্ন ও উত্তর
- কামাল পাশা কবিতার মূলভাব ও জ্ঞানমূলক প্রশ্ন উত্তর
- ধূমকেতু কবিতার মূলভাব ও জ্ঞানমূলক প্রশ্ন উত্তর
- কপোতাক্ষ নদ কবিতার মূলভাব, MCQ ও জ্ঞানমূলক প্রশ্ন উত্তর
- আগমনী কবিতার মূলভাব ও জ্ঞানমূলক প্রশ্ন উত্তর
- প্রলয়োউল্লাস কবিতার মূলভাব ও জ্ঞানমূলক প্রশ্ন উত্তর
- রক্তাম্বর ধারিণী মা কবিতার মূলভাব ও জ্ঞানমূলক প্রশ্ন উত্তর
- মোহররম কবিতার মূলভাব ও জ্ঞানমূলক প্রশ্ন উত্তর
পরিশেষে বলা যায় যে, বাংলা ভাষায় এই সেমিকোলনের গুরুত্বপূর্ণ ব্যবহার লক্ষ করা যায়।



![আপনার কোন স্কিলটা শেখা উচিত ভবিষ্যতের জন্য [৫টি স্কিল]](https://trickbdblog.com/wp-content/uploads/2023/07/Screenshot_68.png)