মোহররম কবিতার মূলভাব ও জ্ঞানমূলক প্রশ্ন উত্তর

আর্টিকেল সূচি

কবি কাজী নজরুল ইসলামের বাংলা সাহিত্যে আগমন বিদ্রোহীবেশে। কাজী নজরুল ইসলাম সকল অনিয়ম, অত্যাচার, শোষণ, নিপীড়ন, বঞ্চনার বিরুদ্ধে হয়ে উঠিছিলেন প্রতিবাদী ও বিদ্রোহী।

কবি তাঁর বহুল আলোচিত ও আলোড়িত কাব্যগ্রন্থ অগ্নিবীণা’য় পরাধীন এ জাতিকে স্বাধীনতার মন্ত্রে উজ্জীবিত করার জন্য বিদ্রোহ ও জাগরণের সুর তুলে ধরেন।

এজন্য কবি তাঁর ’অগ্নিবীণা’ কাব্যে তিনি জাতির ইতিহাস ও ঐতিহ্যকে সচেতনভাবে ব্যবহার করেছেন। ‘মোহররম’ কবিতাটি হচ্ছে এই ‘অগ্নিবীণা’ কাব্যগ্রন্থের অন্যতম মুসলিম ঐতিহ্যমূলক কবিতা।

 

মোহররম কবিতার মূলভাব

 

’অগ্নিবীণা’ কাব্যের এই ‘মোহররম’ কবিতাটি প্রথম প্রকাশিত হয়েছিল ১৩২৭ বঙ্গাব্দের আশ্বিন সংখ্যায় ‘মোসলেম ভারত’ পত্রিকায়। এই মোহররম কবিতার উপজীব্য বিষয় হচ্ছে কারবালার বিষাদময় কাহিনী। এ কাহিনীর মূল ইতিহাসে গ্রথিত।

মহররম কবিতার শুরুতেই দেখা যায় নীল আকাশের রং সিয়া বা কৃষ্ণবর্ণ যা শোকের কিন্তু দুনিয়ার রং লাল যা কারবালার রক্তের রং।

হযরত মুহাম্মদ (স.) এর কন্যা ফাতেমার পুত্র ইমাম হোসেন- এর উদ্দেশ্যে বলা হয়েছে ‘আম্যা! লাল তেরি খুন কিয়া খুনিয়া।’

কারবালার নিষ্ঠুর শোকাবহ ঘটনায় প্রকৃতিও যে মুহ্যমান এ কবিতায় ধ্বনিরূপময় চিত্রকল্পে কবি প্রকাশ করেছেন-

 

’কাঁদে কোন ক্রন্দসী কারবালা ফোরাতে,

সে কাঁদনে আঁসু আসে সীমারেরও ছোরাতে’

 

প্রথম বিশ্বযুদ্ধোত্তর মুসলিম জাহানে যে সাড়া জেগেছিল ‘মোহররম’ কবিতায় সে পটভূমিকাতে অতীতের মহিমা বর্তমানকে উদ্দীপ্ত করার জন্যে কবি আরো করেছে এ কবিতায়।

 

মোহররম কবিতার জ্ঞানমূলক প্রশ্ন ও উত্তর

 

এবার আমরা মোহররম কবিতার কিছু গুরুত্বপূর্ণ জ্ঞানমূলক প্রশ্ন ও উত্তর নিয়ে আলোচনা করব।

 

কাসিম কে?

উত্তর: কাসিম হচ্ছে ইমাম হাসানের পুত্র, ইমাম হোসেনের জামাতা, সকিনার স্বামী।

 

পানির জন্য কে গড়াগড়ি দিয়ে কাঁদে?

উত্তর: ইমাম হোসেনের ছোট মেয়ে ফাতিমা তৃষ্ণায় পানির জন্য গড়াগড়ি দিয়ে কাঁদে।

 

সীমার কে?

উত্তর: সীমার হচ্ছে এজিদের পক্ষের নেতা-হোসেনের হত্যাকারী।

 

দুলদুল কী?

উত্তর: দুলদুল হচ্ছে ইমাম হোসেনের ঘোড়ার নাম।

 

’মহররম’ কবিতা প্রথম কোথায় প্রকাশিত হয়েছিল?

উত্তর: মহররম কবিতা প্রথম ‘মোসলেম ভারত’ পত্রিকায় ১৩২৭ বঙ্গাব্দে প্রকাশিত হয়।

 

’মোহররম’ কবিতার উপজীব্য বিষয় কী?

উত্তর: মহররম কবিতার উপজীব্য বিষয় হচ্ছে কারবালার বিষাদান্ত কাহিনী।

 

বানু কে? সে কেঁদে কী বলে?

উত্তর: বানু হচ্ছেন ইমাম হোসেনের স্ত্রী। সে আজগরের মা। সে তার শিশুপুত্র আজগরকে পানি দিতে না পারায় কান্নাকাটি করে।

 

হোসেন কারবাল প্রান্তরে কার হাতে কবে নিহত হন?

উত্তর: হোসেন ১০ মোহররম কারবালা প্রান্তরে সীমারের হাতে নিহত হন।

 

মহররম মাস এলে কবি কী চেয়েছেন?

উত্তর: কবি মহররম মাস এলে কান্নাকাটি শোক প্রভৃতি ভুলে ত্যাগ চেয়েছেন-মর্সিয়া নয়।

 

”কাঁদে কোন ক্রন্দসী কারবালা ফোরাতে, সে কাঁদনে আঁসু আনে সীমারেরও ছোরাতে।” -এ কথার তাৎপর্য কী?

উত্তর: কারবালা রণাঙ্গনে বিধবাদের ক্রন্দনধ্বনির রেশ যে আজও শ্রুত হয় আর ঘাতক সীমারের ছোরাতে হোসেনের শোকে অশ্রুর আভাস।

 

”ফিরে এলো আজি সেই মহররম মাহিনা, ত্যাগ চাই, মর্সিয়া ক্রন্দন চাহিনা।”- কোন কবিতা হতে উদ্ধৃত?

উত্তর: অগ্নিবীণা কাব্যের মহররম কবিতা হতে উদ্ধৃত।

 

”মা ফাতিমা আসমানে কাঁদে খুল কেশপাশ, বেটাদের লাশ নিয়ে বধুদের শ্বেত বাস।” -এখানে কী বলা হয়েছে?

উত্তর: কারবালায় সন্তানের মৃত্যুতে মায়ের এলোকেশে ক্রন্দন এবং স্বামীর মৃত্যুতে স্ত্রীর বৈধব্যের চিহ্ন সাদা বসনের চিত্র এখানে তুলে ধরা হয়েছে।

 

মহররম কবিতাটি কোন ছন্দে রচিত?

উত্তর: মহররম কবিতাটি চারমাত্রা চালের মাত্রাবৃত্ত ছন্দে রচিত।

 

’মোহররম’ কোন জাতীয় কবিতা?

উত্তর: ‘মোহররম’ হচ্ছে বহুল প্রশংসিত শোক গাঁথামূলক কবিতা।

 

আরও পড়ুন:

 

পরিশেষে বলা যায় যে, ‘মোহররম’ কবিতায় শুধু কারবালার কাহিনী বর্ণনা নয়, শুধু কারবালার বেদনা বিলাস নয়, শুধু হাহাকার দীর্ঘশ্বাস নয়, শুধু অতীতেরর পুনর্জাগরণ নয় বরং পতিশোধ নেবার জন্যে, বর্তমানের হতাশা দূর করার জন্যে সর্বোপরি নব জাগরণের জন্য অতীত থেকে প্রেরণা লাভ হচ্ছে এই ‘মোহররম’ কবিতার মূল প্রতিপাদ্য।

Spread the love

হ্যালো "ট্রিকবিডিব্লগ" বাসী আমি ওসমান আলী। দীর্ঘদিন থেকে অনলাইনে লেখালেখির পেশায় যুক্ত আছি। Trick BD Blog আমার নিজের হাতে তৈরি করা একটি ওয়েবসাইট। এখানে আমি প্রতিনিয়ত ব্লগিং, ইউটিউবিং ও প্রযুক্তি সহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ টিপস এন্ড ট্রিক্স রিলেটেড আর্টিকেল প্রকাশ করে থাকি।

Leave a Comment