চর্যাপদ নিয়ে ৫০+ টি গুরুত্বপূর্ণ জ্ঞানমূলক প্রশ্ন উত্তর

আর্টিকেল সূচি

এই আর্টিকেলটিতে চর্যাপদের গুরত্বপূর্ণ জ্ঞানমূলক ও সৃজনশীল প্রশ্ন ও উত্তর নিয়ে আলোচনা করা হয়েছে।

তাই এ বিষয়ে বিস্তারিত জানতে পুরো আর্টিকেলটি মনোযোগ সহকারে পড়ুন।

 

চর্যাপদের আবিস্কারক কে?

উত্তর: চর্যাপদের আবিস্কারক হচ্ছে মহামহোপাধ্যায় হরপ্রসাদ শাস্ত্রী।

 

হরপ্রসাদ শাস্ত্রীর উপাধি কি?

উত্তর: হরপ্রসাদ শাস্ত্রীর উপাধি হচ্ছে ‘মহামহোপাধ্যায়’।

 

বাংলা সাহিত্যের আদি নিদর্শন চর্যাপদ কে কত সালে আবিষ্কার করেন?

উত্তর: বাংলা সাহিত্যের আদি নিদর্শন চর্যাপদ ১৯০৭ খ্রি. মহামহোপাধ্যায় হরপ্রসাদ শাস্ত্রী আবিষ্কার করেন।

 

চর্যাচর্যবিনিশ্চয়ে মোট কত জন পদকর্তার পরিচয় পাওয়া যায়?

উত্তর: ‘চর্যাচর্যবিনিশ্চয়ে’ মোট ২৩ জন মতান্তরে ২৪ জন পদকর্তার পরিচয় পাওয়া যায়।

 

নেপালের রাজগ্রন্থশালা থেকে কোন ৪টি পুঁথি সংগৃহীত হয়?

উত্তর: নেপালের রাজগ্রন্থশালা থেকে যে ৪টি পুঁথি সংগৃহীত করা হয় সেগুলো হচ্ছে, যথা: চর্যাচর্যবিনিশ্চয়, কৃষ্ণপাদের দোহা, সরহপাদ ও ডাকর্ণব।

 

হরপ্রসাদ শাস্ত্রী পুঁথি সন্ধানে কতবার নেপালে গিয়েছেন?

উত্তর: হরপ্রসাদ শাস্ত্রী পুঁথি সন্ধানে তিনবার (০৩) নেপালে গিয়েছেন।

 

চর্যাপদের মূল উপজীব্য বিষয় কি?

উত্তর: চর্যাপদের মূল উপজীব্য বিষয় বৌদ্ধধর্মের সাধণ প্রণালী ও দর্শন তত্ত্ব।

 

চর্যাপদের পদকর্তা কতজন?

উত্তর: চর্যাপদের পদকর্তা ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহর মতে ২৩ জন এবং ড. সুকুমার সেনের মতে ২৪ জন।

 

রাজা রাজেন্দ্রলাল কোন গ্রন্থে বৌদ্ধতান্ত্রিক সাহিত্যের কথা প্রকাশ করেন?

উত্তর: রাজা রাজেন্দ্রলাল যে গ্রন্থে বৌদ্ধতান্ত্রিক সাহিত্যের কথা প্রকাশ করেন সেটি হচ্ছে ‘SANSKRIT BUDDHIST LITERATURE INN NEPAL.

 

চর্যা শব্দের অর্থ কী?

উত্তর: চর্যা শব্দের অর্থ হচ্ছে ‘আচরণ’।

 

চর্যার তিব্বতি অনুবাদ কে করেন?

উত্তর: চর্যার তিব্বতি অনুবাদ করেন ড. প্রবোধচন্দ্র বাগচী।

 

প্রোবধ বাগচী কত সালে চর্যায় তিব্বতি অনুবাদ করেন?

উত্তর: প্রবোধ বাগচী ১৯৩৮ সালে চর্যায় তিব্বতি অনুবাদ করেন।

 

চর্যাপদের প্রাপ্ত পুঁথিতে উল্লেখকৃত সংস্কৃত টীকাকার মুনিদত্তের মতানুসারে এর নাম কি?

উত্তর: চর্যাপদের প্রাপ্ত পুঁথিতে উল্লেখকৃত সংস্কৃত টীকাকার মুনিদত্তের মতানুসারে এর নাম হচ্ছে ‘আশ্চর্যাচর্যাচয়’।

 

পদাবলীর মত এতেও রাগরাগিণীর উল্লেখ আছে এবং কবির ভণিতা রয়েছে মন্তব্যটি কার?

উত্তর: ড. সুকুমার সেন এই মন্ত্যবটি করেছেন যে পদাবলীর মত এতেও রাগরাগিণীর উল্লেখ আছে এবং কবির ভণিতা রয়েছে।

 

চর্যাপদের বিষয়বস্তু কী?

উত্তর: চর্যাপদের বিষয়বস্তু হচ্ছে বৌদ্ধধর্ম মতে সাধন ভজনের তত্ত্ব প্রকাশ।

 

চর্যাপদ কথায় আবিষ্কৃত হয়?

উত্তর: চর্যাচদ আবিষ্কৃত হয় নেপালের রাজদরবারের পুঁথিশালা থেকে।

 

চর্যাপদের দাবিদার এমন তিনটি ভাষার নাম লেখ

উত্তর: চর্যাপদের দাবিদার এমন তিনটি ভাষার নাম হচ্ছে সন্ধ্যা বা সান্ধ্য ভাষা, বঙ্গকামরূপী এবং আলো আধাঁরের ভাষা।

 

বাঙালি চর্যাপদ- এর পদ কর্তা করা?

উত্তর: বাঙালি চর্যাপদের পদকর্তা হচ্ছে লুইপা, বিরুপা, কুক্কুরীপা, ডোম্বী, শবর ধাম।

 

চর্যায় গানের সংখ্যা কয়টি?

উত্তর: চর্যায় গানের সংখ্যা হচ্ছে ৫১টি।

 

চর্যায় কয়টি পদের নষ্ট অংশ পাওয়া গেছে?

উত্তর: চর্যায় ৩টি পদের নষ্ট অংশ পাওয়া গিয়েছে। যথা: ২৪, ২৫ ও ৪৮ ।

 

চর্যার প্রাপ্ত পুঁথিতে কয়টি পদ পাওয়া গেছে?

উত্তর: চর্যার প্রাপ্ত পুঁথিতে সাড়ে ৪৬টি পদ পাওয়া গেছে।

 

চর্যাপদ- এর পদ কর্তারা প্রায়ই কি ছিলেন?

উত্তর: চর্যাপদ- এর পদ কর্তারা প্রায়ই ছিলেন ‘চৌরাশি সিদ্ধার’ অন্তর্গত।

 

চর্যাপদ রচনায় ২য় স্থানে রয়েছে কার পদ এবং এর সংখ্যা কত?

উত্তর: চর্যাপদ রচনায় দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে ভুসুকু পা-পদ এবং এর পদ সংখ্যা হচ্ছে ৮টি।

 

চর্যাপদের প্রথম পদটির রচয়িতা কে?

উত্তর: চর্যাপদের প্রথম পদটির রচয়িতা হচ্ছে লুইপা এর লেখা।

 

প্রথম চর্যাপদটি কোন সুরে বা রাগে গীত হয়েছিল?

উত্তর: প্রথম চর্যাপদটি ‘পটমঞ্জুরী’ সুরে বা রাগে গীত হয়েছিল।

 

চর্যাপদ গুলো কোন ভাষায় রচিত?

উত্তর: চর্যাপদগুলো সন্ধ্যা বা সান্ধ্য ভাষায় রচিত।

 

সন্ধ্যা ভাষা কী?

উত্তর: চর্যাপদের ভাষাকে সন্ধ্যা ভাষা বলা হয়।

 

চর্যাপদের কত নম্বর পদটি খণ্ডিত আকারে পাওয়া গেছে?

উত্তর: চর্যাপদের ২৩ নম্বর পদটি খণ্ডিত আকারে পাওয়া গেছে।

 

চর্যাপদ কোন ছন্দে রচিত?

উত্তর: চর্যাপদ মাত্রাবৃত্ত ছন্দে রচিত।

 

আরও পড়ুন:

 

চর্যাপদে কয় প্রকারের অর্থ পাওয়া যায়?

উত্তর: চর্যাপদে দুই প্রকারের অর্থ পাওয়া যায়। যথা: বাহ্যিক ও অভ্যন্তরীণ।

 

গঙ্গা, যমুনা নদীর কথা উল্লেখ আছে কত নং চর্যায়?

উত্তর: গঙ্গা, যমুনা নদীর কথা উল্লেখ আছে ১৪ নং চর্যায়। যথা: গঙ্গা জউন মাঝে বহই নাঈ।

 

চর্যাপদ থেকে একটি প্রবাদ উদ্ধৃত কর?

উত্তর: চর্যাপদ থেকে একটি প্রবাদ উদ্ধৃত করা হলো: “অপর্ণা মাংসে হরিণা বৈরী ৬নং চর্যা”।

 

চর্যাপদের জন্ম হয়েছিল কোন প্রাকৃত থেকে?

উত্তর: চর্যাপদের জন্ম হয়েছিল গৌড়ীয় প্রাকৃত থেকে।

 

চর্যাপদ প্রথমে কী নামে প্রকাশিথ হয়েছিল?

উত্তর: চর্যাপদ প্রথমে ‘হাজার বছরের পুরান বাংলা ভাষার বৌদ্ধগান ও দোঁহা’ নামে প্রকাশিত হয়েছিল।

 

চর্যাপদে কি প্রকাশ পেয়েছে?

উত্তর: চর্যাপদে বৌদ্ধ সহজিয়া সাধনার গূঢ় তত্ত্ব প্রকাশ পেয়েছে।

 

বাংলা ছাড়া অন্য আর কোন ভাষার সাথে চর্যার মিল রয়েছে?

উত্তর: বাংলা ছাড়া আরও অপভ্রংশ, প্রাচীন হিন্দি, মৈথিলি, উড়িষ্যা বা আসামী ভাষার সাথে চর্যার ভাষার মিল রয়েছে।

 

চর্যাপদ নেপালে পেয়ে যাওয়ার কারণ কী?

উত্তর: সেন শাসকদের আক্রমণ থেকে বাঁচার জন্য বৌদ্ধ সাধকরা পুঁথিসহ নেপালে পালিয়ে যাওয়ার করণে।

 

চর্যাপদের কবিরা কোন শতকের ছিলেন?

উত্তর: চর্যাপদের কবিরা ছিলেন সপ্তম শতকের।

 

চর্যাপদে ডোম্বীর বাস কোথায়?

উত্তর: চর্যাপদে ডোম্বীর বাস হচ্ছে নগরের বাহিরে।

 

চর্যা দেখতে কবিতা হলেও মূলত কী?

উত্তর: চর্যা দেখতে কবিতা হলেও মূলত সাহিত্যের মাধ্যমে ধর্মের তত্ত্বকথার প্রচার।

 

চর্যাপদ আবিষ্কারের কত বছর পর তা গ্রন্থাকারে প্রকাশিত করা হয়?

উত্তর: চর্যাপদ আবিষ্কারের ৯ বছর পর তা গ্রন্থাকারে প্রকাশিত হয়।

 

চর্যার ছন্দে কি রয়েছে?

উত্তর: চর্যার ছন্দে রয়েছে সংস্কৃত পজ্ঝটিকা ছন্দের প্রভাব।

 

চর্যাপদের মহিলা কবি কে ছিলেন?

উত্তর: চর্যাপদের মহিলা কবি ছিলেন কুক্কুরী পা।

 

চর্যার মাধ্যমে কি ফুটে উঠেছে?

উত্তর: চর্যার মাধ্যমে সে সময়ের জীবনযাত্রার নানা আচারব্যবহার, রীতিনীতি, জীবিকা ইত্যাদি বিষয় ফুটে উঠেছে।

 

চর্যাপদের কবিদের মধ্যে বয়সের দিক থেকে প্রাচীন কে?

উত্তর: চর্যাপদের কবিদের মধ্যে বয়সের দিক থেকে প্রাচীন হচ্ছেন শবর পা।

 

চর্যাপদের ৩৩ সংখ্যক পদের রচয়িতা কে?

উত্তর: চর্যাপদের ৩৩ সংখ্যক পদের রচয়িতা হচ্ছেন ঢেগুন পা।

 

“টালত মোর ঘর নাহি পড়বেশী, হাড়ী ও ভাত নাহি নিতি আবেশী” – চর্যাদ্বয়ের অর্থ কী?

উত্তর: উপরোক্ত চর্যাদ্বয়ের অর্থ হচ্ছে বস্তিতে আমার ঘর, কোনো প্রতিবেশি নেই। হাড়িতে ভাত নেই কিন্তু নিত্য অতিথি আসে।

 

মুনিদত্ত কে ছিলেন?

উত্তর: মুনিদত্ত চর্যাপদের একজন টীকাকার ছিলেন।

 

চর্যাপদ কারা রচনা করেন?

উত্তর: চর্যাপদ রচনা করেন ‘বৌদ্ধ সহজিয়ারা’।

 

চর্যাপদ কোন সম্প্রদায়ের সাধন সংগীত?

উত্তর: চর্যাপদ বৌদ্ধ সহজিয়া সম্প্রদায়ের সাধন সংগীত।

Spread the love

হ্যালো "ট্রিকবিডিব্লগ" বাসী আমি ওসমান আলী। দীর্ঘদিন থেকে অনলাইনে লেখালেখির পেশায় যুক্ত আছি। Trick BD Blog আমার নিজের হাতে তৈরি করা একটি ওয়েবসাইট। এখানে আমি প্রতিনিয়ত ব্লগিং, ইউটিউবিং ও প্রযুক্তি সহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ টিপস এন্ড ট্রিক্স রিলেটেড আর্টিকেল প্রকাশ করে থাকি।

Leave a Comment