বিদ্রোহী কবিতার মূলভাব ও জ্ঞানমূলক প্রশ্ন উত্তর

এই আর্টিকেলটিতে জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম এর অগ্নিবীণা কাব্যের বিদ্রোহী কবিতার মূলভাব আলোচনা করা হয়েছে এবং এই কবিতার গুরুত্বপূর্ণ জ্ঞানমূলক প্রশ্ন ও উত্তর দেওয়া হয়েছে।

তাই যারা এই বিষয়ে আগ্রহী তারা এ বিষয়ে বিস্তারিত জানতে পুরো আর্টিকেলটি অবশ্যই মনোযোগ সহকারে পড়বেন।

 

বিদ্রোহী কবিতার মূলভাব সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা কর

 

বিংশ শতাব্দীর দ্বিতীয় দশকে সমগ্র বাংলা তথা ভারত, যখন সাধারণ মানুষের ওপর সাম্রাজ্যবাদীদের নিপীড়ন চরম আকার ধারণ করেছ। নিরস্ত্র মানুষের রক্তে রাজপথ রঞ্জিত। প্রথম বিশ্বযুদ্ধোত্তর পৃথিবীর চালচিত্র ছিন্নভিন্ন। চারদিকে অন্যায়, অবিচার শোষণ ঠিক তখনই বাংলা সাহিত্যাকাশে ধূমকেতুর মতো কাজী নজরুল ইসলামের উজ্জ্বল আবির্ভাব।

পরাধীনতার গ্লানি কবি পরাধীন দেশে জন্মগ্রহণ করে হৃদয় দিয়ে অনুভব করেছেন। সকল শাসন শোষণ অন্যায়ের বিরুদ্ধে কবি হয়ে উছেছেন প্রতিবাদী ও বিদ্রোহী।

এই চেতনায়ই তিনি রচনা করলেন অগ্নিবীণা কাব্যের সবচেয়ে আলোচিত ও আলোড়িত কবিতা ‘বিদ্রোহী’।

অনেক কথা হলো চলুন এবার মূল আলোচনায় আসা যাক।

‘অগ্নিবীণা’ (১৯২২) কাজী নজরুল ইসলামের অন্যতম শ্রেষ্ঠ কাব্য। তৎকালীন জাতীয় জীবনে এই বিদ্রোহী কবিতার মাধ্যমে আলোড়ন সৃষ্টি করতে সক্ষম হন।

এ কবিতা পরাধীন জাতির জীবনাভূতিতে আত্মোপলব্ধির গভীর ব্যঞ্জনাই শুধু বয়ে আনেনি, কবিকেও এনে দিয়েছে বিদ্রোহী কবির মর্যাদা।

মানুষের প্রতি প্রেম, ভালোবাসা ও সহমর্মিতাবোধই ছিল কবির মূল অভিজ্ঞান। কবি বন্দী জীবনের যন্ত্রণঅ মর্মে মর্মে উপলব্ধি করে জতিকে স্বাধীনতা সংগ্রামে উদ্বুদ্ধ করতে চেয়েছেন এই ‘বিদ্রোহী’ কবিতার মাধ্যমে।

প্রত্যেককে পর্বত শিখরের মতো আপন শির উঁচু করতে বলেছেন।

 

“বল বীর
বল উন্নত মম শির ”

কবি অগ্নিঝরা বিদ্রোহের বাণী উচ্চারণ যেমন, স্বাধিকার আন্দোলনে অংশগ্রহণের প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন তেমনি জাতীয় জীবনে মুক্তি না আসা পর্যন্ত তিনি সেই দুর্বার আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন।

 

“মহা বিদ্রোহী রণ ক্লান্ত
আমি সেই দিন হব শান্ত।”

 

যতদিন উৎপীড়িতের কান্নার ধ্বনি পৃথিবী থেকে নিশ্চিহ্ন না হওয়া পর্যন্ত তিনি তাঁর অগ্নিঝরা আন্দোলন চালিয়ে যেতে চেয়েছেন ‘বিদ্রোহী’ কবিতার মাধ্যমে।

আলোচনা শেষে বলা যায় যে, এই ‘বিদ্রোহী’ কবিতাটি শুধু কবির বিদ্রোহের বাণীর বাহক নয়, এর অভ্যন্তরে প্রবাহিত হয়েছে এমন এক উন্মাদনা যা কবির আত্মবোধের পরিচায়ক। এ কবিতার মধ্য বিদ্রোহের সে সুর কবি সৃষ্টি করেছেন তাতে পরাধীন জাতির মুক্তির মন্ত্রই ধ্বনিত হয়ে।

 

আরও পড়ুন:

 

বিদ্রোহী কবিতার জ্ঞানমূলক প্রশ্ন উত্তর

 

এবার আমরা বিদ্রোহী কবিতার কিছু গুরুত্বপূর্ণ জ্ঞানমূলক প্রশ্ন ও প্রশ্নের উত্তর নিচে তুলে ধরবো।

 

বিদ্রোহী কবিতার মূল বিষয় কী?

উত্তর: বিদ্রোহী কবিতার মূল বিষয় হচ্ছে অন্যায়ের বিরুদ্ধে সর্বদা সচ্চার থাকা।

 

বিদ্রোহী কবিতায় কবির কিসের বিরুদ্ধে ক্ষোভ ও বিদ্রোহ ঘোষিত হয়েছে?

উত্তর: বিদ্রোহী কবিতায় ঔপনিবেশিক শাসনের বিরুদ্ধে কবির ক্ষোভ ও বিদ্রোহ ঘোষিত হয়েছে।

 

‘বিদ্রোহী’ কবিতাটি কোন কাব্যগ্রন্থ হতে সংকলিত করা হয়েছে?

উত্তর: বিদ্রোহী কবিতাটি ‘অগ্নিবীণা’ কাব্যগ্রন্থ হতে সংকলিত করা হয়েছে।

 

কোন প্রত্যাশার মধ্য দিয়ে বিদ্রোহী কবিতা শেষ হয়েছে?

উত্তর: অত্যাচারের অবসানের মধ্য দিয়ে বিদ্রোহী কবিতা শেষ হয়েছে।

 

বিদ্রোহী কবিতায় কবি কার বুকের ক্রন্দন শ্বাস?

উত্তর: বিদ্রোহী কবিতায় কবি বিধবার বুকের ক্রন্দন শ্বাস।

 

বিদ্রোহী কবিতা কত সালে প্রকাশিত হয়?

উত্তর: বিদ্রোহী কবিতা ১৯২৩ সালে প্রকাশিত হয়।

 

বিদ্রোহী কবিতায় কবি কি মানেন না বলেছেন?

উত্তর: বিদ্রোহী কবিতায় কবি কোনো আইন মানেন না।

 

কবি বিদ্রোহী কবিতায় কাকে ছাড়া আর কাউকেই কুর্নিশ করে না?

উত্তর: বিদ্রোহী কবিতায় কবি নিজেকে ছাড়া আর কাউকেই কুর্নিশ করে না।

 

বিদ্রোহী কবিতায় ‘চির-উন্নত-শির’ কথাটি কীসের পরিচায়ক?

উত্তর: চির-উন্ন-শির কথাটি অন্যায়ের সামনে মাথা নত না করার পরিচায়ক।

Spread the love

হ্যালো "ট্রিকবিডিব্লগ" বাসী আমি ওসমান আলী। দীর্ঘদিন থেকে অনলাইনে লেখালেখির পেশায় যুক্ত আছি। Trick BD Blog আমার নিজের হাতে তৈরি করা একটি ওয়েবসাইট। এখানে আমি প্রতিনিয়ত ব্লগিং, ইউটিউবিং ও প্রযুক্তি সহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ টিপস এন্ড ট্রিক্স রিলেটেড আর্টিকেল প্রকাশ করে থাকি।

Leave a Comment