‘দুঃসময়’ কবিতার মূলভাব আলোচনা কর

’কল্পনা’ কাব্যের প্রথম কবিতা হচ্ছে ‘দুঃসময়’। এই কবিতাটি পুরো অবয়ব জুড়ে একটা বিষাদময়তা ব্যাপ্ত হয়ে আছে। স্মৃতিরোমন্থনের বেদনাবিহ্বল অধ্যায়ের মধ্যে একটা প্লট তৈরি করে দেয়।

 

‘দুঃসময়’ কবিতাটির মূল ভাবার্থ

 

‘কল্পনা’ কাব্যে ‘দুঃসময়’ কবিতা সন্ধ্যার শঙ্কা-সঙ্কুল বিষাদে পূর্ণ। সন্ধ্যার লগ্নটি সন্দেহের মুহূর্ত, একদিকে দিনের স্পষ্ট প্রখর আলো নিভে আসছে, অন্যদিকে নক্ষত্র ভাস্বর শান্ত নিবিড়তা এখনো প্রকটিত হয়নি।

এমন একটি দ্বিধার ক্ষণ সন্ধ্যা। যে ভাবের কথা বলা হলো তার সন্ধিক্ষণে দাঁড়িয়ে কবি কেমন যেন উদ্বিগ্ন সন্ধিগ্ধ অন্যমনস্ক, ‘কল্পনা’ কাব্যগ্রন্থের ‘দুঃসময়’ কবিতায় তার যথার্থ প্রমাণ মেলে।

এই দ্বিধা-দ্বন্দ্বের মুহূর্তে কবির অপেক্ষাকৃত জড় অংশ ভীত ও সন্ধিগ্ধ, কিন্তু তবু তাঁর অগাধ বিশ্বাস নিজের অন্তরতম কবি প্রকৃতির প্রতি। এ কবিতায় সন্দেহরস প্রধান। এ কবিতায় লক্ষ করা যায়, অনাগত জীবনের অজানা আশঙ্কা কবিকে পেয়ে বসেছে। তরঙ্গবিক্ষুব্ধ ভয়ংকর এক সর্বনাশা ভবিষ্যৎ ঘনিয়ে এসেছে।

এখানে কোনোরকম আশ্বস্ত হওয়ার অবলম্বন নেই। অজানা বলেই তা ধরাছোঁয়ার বাইরে অনিশ্চিত ভবিষ্যতের ভেলায় সশঙ্ক ভরাডুবি ছাড়া আর কি-বা থাকতে পারে? কবি এ অবস্থায় অতীতের সুনিশ্চিত জীবন মাধুর্যের রূপপ্রকৃতিকে বারবার ফিরে পেতে ব্যাকুল। রবীন্দ্রনাথ সবসময় অতীতের প্রতি একটা মুগ্ধপ্রাণ অতি-অভিপ্রায় ব্যক্ত করেছেন।

অতীতেরই একটা স্থিতিশীল ভাষা ও রূপমাধুরী প্রত্যক্ষ করা সম্ভব। বর্তমানের নেই ভবিষ্যৎ তো অনিশ্চিত স্বপ্নের দোলায় দোদুল্যমান। রবীন্দ্রনাথ সারাজীবনই এই অতীতের মাধুর্যভরা দৃশ্যপট নানারূপ সৃষ্টি সাধনায় প্রতিবিম্বিত করে তোলেন।

যেমন কথা কাব্যের শুরুতেই তিনি বলেন,

 

“কথা কও, কথা কও

অনদি অতীত, অনন্ত রাতে

কেন বসে চেয়ে রও”

 

আরও পড়ুন:
 

 

‘দুঃসময়’ কবিতায় রবীন্দ্রনাথের স্মৃতিকাতর অতীতপ্রীতির কাব্যিক ব্যঞ্জনা অনুরণিত হয়ে উঠে। কবিতায় অনাগত দিনের ভয়ংকর বৈরী বিনাদ কবিপ্রাণকে ব্যাকুল করে তোলে, একটা সুখস্বপ্নপূর্ণ অতীত জীবনের দৃশ্যপট চোখের সামনে বাবার উদ্ভাসিত হয়ে উঠে।

পরিশেষে বলা যায় যে, কবি প্রকৃতি সৌন্দর্য মাধুর্যের চিরকাঙ্গাল রূপ ও রসের ক্ষুধায় সে নিত্য লালায়িত, সেই নব নব রূপ-রসভোগের মহোল্লাস হতে নিজেকে বঞ্চিত করতে কবিচিত্ত যে বেদনায় বিদীর্ণ হবে এটাই স্বাভাবিক। কিন্তু বৃহত্তর ও গভীরতর জীবনের আহবআনে তার সাড়া না দিয়ে উপায় নাই। জীবনের এই রূপান্তর অন্তরতম জীবনের প্রবল তাগিদে আত্নোপলব্ধির ক্রম-পরিণতির প্রবল বেগে। তাই এই ভোগ ও ত্যাগের প্রবল দ্বন্দ্ব তাঁর অন্তর জীবনে দেখা দিয়েছে আর এই দ্বন্দ্বের পূর্ণ বহিঃপ্রকাশ ঘটেছে এই ‘দুঃসময়’ কবিতায়।

Spread the love

হ্যালো "ট্রিকবিডিব্লগ" বাসী আমি ওসমান আলী। দীর্ঘদিন থেকে অনলাইনে লেখালেখির পেশায় যুক্ত আছি। Trick BD Blog আমার নিজের হাতে তৈরি করা একটি ওয়েবসাইট। এখানে আমি প্রতিনিয়ত ব্লগিং, ইউটিউবিং ও প্রযুক্তি সহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ টিপস এন্ড ট্রিক্স রিলেটেড আর্টিকেল প্রকাশ করে থাকি।

Leave a Comment