নতুন ওয়েবসাইটে অর্গানিক ভিজিটর আনার ৫টি সেরা উপায়

একটি ওয়েবসাইট তৈরি করার পর আমাদের প্রথমে যে সমস্যা ফেইস করতে হয় সেটি হচ্ছে ওয়েবসাইটের ভিজিটর।

কারণ নতুন ওয়েবসাইট তৈরি করার পর সেই ওয়েবসাইটে ভিজিটর আনা একটি চ্যালেঞ্জ হয়ে দ্বারায়। অনেকে ওয়েবসাইটে ভিজিটর আনতে না পারায় হতাশ হয়ে এক সময় ব্লগিং ছেড়েই দেয়।

তাই আপনাকেও যেন তাদের মতোন ভিজিটর আনতে না পারায় হতাশ হয়ে ব্লগিং ছেড়ে দিতে হয়, সেজন্যই মূলত এই আর্টিকেলটি লেখা।

প্রথমেই দেখে নেওয়া যাক কি কি থাকছে এই আর্টিকেলে:

  • কিওয়ার্ড রিসার্চ,
  • রিলেটেড কিওয়ার্ড রিসার্চ,
  • কিওয়ার্ড সম্পর্কে জ্ঞান সমৃদ্ধ করা,
  • আর্টিকেলে সঠিক ভাবে কিওয়ার্ড প্লেসমেন্ট করা,
  • আর্টিকেলে পর্যাপ্ত পরিমাণে ইন্টারনাল ও এক্সটারনাল লিংকিং করা।

 

নতুন ওয়েবসাইটের জন্য কিভাবে কিওয়ার্ড রিসার্চ করতে হবে?

 

একটি নতুন ওয়েবসাইট কিন্তু গুগলের কাছে অপরিচিত। আপনি যখন আপনার ওয়েবসাইটে কোনো আর্টিকেল প্রকাশ তখন কিন্তু গুগল সেটিকে ভালো কোনো পজিশনে রেংক দিবে না। আর রেংক না দেওয়ার কারণে আপনার ওয়েবসাইটে ট্রাফিক বা ভিজিটরও আসবে না।

তাই আপনার নতুন ওয়েবসাইটে ভিজিটর আনার জন্য  আপনাকে ভালোভাবে কিওয়ার্ড রিসার্চ করতে হবে।

আপনার নতুন ওয়েবসাইটের জন্য তাই এমন কিওয়ার্ড গুলো আপনাকে খুঁজে বের করতে হবে যেগুলোতে কম্পিটিশন কম।

এবং প্রথম অবস্থায় চেষ্টা করবেন যেই কিওয়ার্ড ‍গুলোর সার্চ ভলিয়ম কম সেই কিওয়ার্ড গুলোকে সিলেক্ট করতে।

কারণ এই কিওয়ার্ড গুলোকে নিয়ে যখন আর্টিকেল লিখবেন তখন আপনার আর্টিকেল গুলো দ্রুত রেংকে আসবে। এবং আস্তে আস্তে ওয়েবসাইটে ভিজিটরও আসা শুরু করবে।

তারপরে যখন আপনি একটু বেশি সার্চ ভলিয়ম ওআলা কিওয়ার্ড গুলো নিয়ে আর্টিকেল লিখবেন সেগুলোও তখন গুগলে রেংক করবে।

ফলে আপনার ওয়েবসাইটের ভিজিটরের সংখ্যাও ধীরে ধীরে বেড়ে যাবে।

 

রিলেটেড কিওয়ার্ড রিসার্চ কাকে বলে?

 

আপনি যখন একটি কিওয়ার্ড খুঁজে বের করবেন তখন কিন্তু সেই কিওয়ার্ডটির সাথে আরও কিছু রিলেটেড কিওয়ার্ড থাকে।

যেমন: মনে করেন একটি কিওয়ার্ড হচ্ছে, ‘মোবাইল ফোন’। এখন এই একটি রিলেটেড কিওয়ার্ড হচ্ছে, ‘১০ হাজার টাকার মধ্যে ভালো ৫টি মোবাইল ফোন’। মানুষ কিন্তু এভাবেও মোবাইল ফোন সম্পর্কে সার্চ করে থাকে।

সুতরাং এটিও একটি রিলেটেড কিওয়ার্ড।

আরও একটি সহজ ‍উদাহরণ দিয়ে আপনাদের বিষয়টি বুঝিয়ে দিচ্ছি। মনে করেন এই আর্টিকেলের মেইন কিওয়ার্ড হচ্ছে, ‘নতুন ওয়েবসাইটে অর্গানিক ভিজিটর আনার ৫টি সেরা উপায়’ আর এখন আমি আলোচনা করছি, ‘রিলেটেড কিওয়ার্ড রিসার্চ কাকে বলে’।

এমনটা করার কারণ হচ্ছে কিওয়ার্ডই কিন্তু একটি আরেকটির সাথে রিলেটেড। এমন করার ফলে একটি আর্টিকেলের রেংক করার সম্ভবনাও অনেক বেড়ে যায়।

 

কিভাবে কিওয়ার্ড সম্পর্কে জ্ঞান সমৃদ্ধ করা যায়?

 

এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ কাজ যা আমরা অনেকেই করি না। যার ফলে আমাদের আর্টিকেলগুলো কিন্তু সহজে রেংক করে না এবং ওয়েবসাইটে ট্রাফিকও আসে না।

আপনি যেই কিওয়ার্ডটি নিয়ে আর্টিকেল লিখবেন সে কিওয়ার্ড সম্পর্কে যদি আপনার কোনো জ্ঞানই না থাকে তাহলে আপনি কখনও একটি মানসম্মত আর্টিকেল লিখতে পারবেন না।

আর গুগল এখন অনেক স্মার্ট, একটি মানহীন আর্টিকেলকে গুগল সহজে কোনো ভালো পজিশনে রেংক দিবে না।

তাই একটি মানসম্মত আর্টিকেল লেখার জন্য অবশ্যই আপনার টার্গেটেড কিওয়ার্ড সম্পর্কে জ্ঞান সমৃদ্ধ করতে হবে। তবেই কেবল একটি আর্টিকেল মানসম্মত হবে এবং সেটি দ্রুত গুগলে ভালো পজিশনে রেংকে আসবে। এবং রেংকে আসলে আপনার ওয়েবসাইটে অর্গানিক ভিজিটরের সংখ্যাও বেড়ে যাবে।

কিওয়ার্ড সম্পর্কে জ্ঞান সমৃদ্ধ করার জন্য প্রথমে কিওয়ার্ডটিকে গুগলে সার্চ করবেন। তারপর প্রথমে যে সার্চ রেজাল্ট গুলো আসবে সেগুলো পড়বেন। তাহলেই আপনার টার্গেটেড কিওয়ার্ড সম্পর্কে জ্ঞান সমৃদ্ধ হবে।

 

আরও পড়ুন:

 

আর্টিকেলে সঠিক ভাবে কিওয়ার্ড প্লেসমেন্ট করা বলতে কি বুঝায়?

 

একটি আর্টিকেলের ভিতর মেইন কিওয়ার্ড ও রিলেটেড কিওয়ার্ড প্লেসমেন্ট করার বা ব্যবহার করার কিছু নিয়ম রয়েছে। অনেকেই সেসব নিয়ম ফলো না করেই আর্টিকেল লিখে, ফলস্বরূপ তাদের আর্টিকেল অনেক বড় হওয়া সত্ত্বেও রেংকে আসে না।

একটি আর্টিকেল লেখার আর্টিকেলটির ভিতরে অদরকারে কখনো মেইন কিওয়ার্ড বা রিলেটেড কিওয়ার্ডকে ব্যবহার করবেন না। যখন আর্টিকেলে কিওয়ার্ড লেখার প্রয়োজন পড়বে একমাত্র তখনই সেখানে কিওয়ার্ড ব্যবহার করবেন।

তবেই আপনার আর্টিকেলটি একটি মানসম্মত আর্টিকেলে পরিণত হবে।

 

আর্টিকেলে পর্যাপ্ত পরিমাণে ইন্টারনাল ও এক্সটারনাল লিংকিং করা

 

আর্টিকেল লেখার ক্ষেত্রে ইন্টারনাল ও এক্সটারনাল লিংকিং করা অনেক গুরুত্বপূর্ণ একটা কাজ।

ইন্টারনাল লিংকিং: যখন আপনার আর্টিকেলের ভিতর একই ওয়েবসাইটের অন্যান্য আর্টিকেলকে লিংকিং করবেন তখন তাকে ইন্টারনাল লিংক বা ইন্টারনাল লিংকিং বলা হয়।

আর্টিকেলের ভিতর এই ধরনের লিংকিং করলে ওয়েবসাইটের এনগেজমেন্ট টাইম বেড়ে যায় এবং বাউন্স রেট অনেক কমে যায়, যা একটি ওয়েবসাইটের জন্য খুবই ইতিবাচক ভূমিকা পালন করে থাকে।

এক্সটারনাল লিংকিং: একটি পরিপূর্ণ আর্টিকেল লেখার জন্য আমাদের বিভিন্ন যায়গা থেকে বিভিন্ন তথ্য উপাত্ত সংগ্রহ করার প্রয়োজন হয়ে থাকে। এবং আর্টিকেলে সেই তথ্য উপাত্ত গুলো ব্যবহার করার সময় আমরা সেই সাইটের সেই আর্টিকেলগুলোকে লিংকিং করে ক্রেডিট দিয়ে থাকে। আর এই লিংকিংকেই মূলত বলা হয়ে থাকে এক্সটারনাল লিংক বা এক্সটারনাল লিংকিং।

সহজ কথায়, আপনার ওয়েবসাইটের আর্টিকেলে যখন অন্য ওয়েবসাইটের আর্টিকেলকে লিংকিং করবেন তখন সেই আর্টিকেলকে বলা হয় এক্সটারনাল লিংকিং।

একটি ভালো আর্টিকেল সঠিক নিয়মে পর্যাপ্ত ইন্টারনাল ও এক্সটারনাল লিংকিং কার্যকরী ভূমিকা পালন করে থাকে।

আশাকরি এই আর্টিকেলে বর্ণিত বিষয় গুলো যদি মাথায় রাখেন তাহলে একটি নতুন ওয়েবসাইটেও আপনি প্রচুর পরিমাণে অর্গানিক ভিজিটর আনতে পারবেন।

Spread the love

হ্যালো "ট্রিকবিডিব্লগ" বাসী আমি ওসমান আলী। দীর্ঘদিন থেকে অনলাইনে লেখালেখির পেশায় যুক্ত আছি। Trick BD Blog আমার নিজের হাতে তৈরি করা একটি ওয়েবসাইট। এখানে আমি প্রতিনিয়ত ব্লগিং, ইউটিউবিং ও প্রযুক্তি সহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ টিপস এন্ড ট্রিক্স রিলেটেড আর্টিকেল প্রকাশ করে থাকি।

Leave a Comment