বর্তমান সময়ের অন্যতম জনপ্রিয় একটি মেসেজিং প্লাটফর্ম হচ্ছে টেলিগ্রাম (Telegram)। তবে এই টেলিগ্রাম শুধু মেসেজেই সীমাবদ্ধ নয়। আপনি টেলিগ্রামে টেলিগ্রাম গ্রুপ (Telegram Group), টেলিগ্রাম চ্যানেল (Telegram Channel) তৈরি করে বড় একটি কমিউনিটি তৈরি করতে পারবেন।
যাইহোক, আজকের আর্টিকেলে আমাদের আলোচনার বিষয় হচ্ছে, ‘টেলিগ্রাম চ্যানেল থেকে কিভাবে আয় করা যায়? (How earn money with telegram channel?)’
এই আর্টিকেলে আমরা ‘টেলিগ্রাম চ্যানেল থেকে আয় বা ইনকাম করার সেরা ১০টি নিয়ম বা উপায় (10 Best Tips to earn money with telegram channel)’ আপনাদের সাথে সেয়ার করবো যা অনুসরণ করে আপনিও টেলিগ্রাম চ্যানেল তৈরি করে ইনকাম করতে পারবেন।
তাই আর দেরী না করে চলুন মূল আলোচনা শুরু করা যাক।
টেলিগ্রাম চ্যানেল থেকে ইনকাম করার সেরা ১০টি নিয়ম বা উপায়
টেলিগ্রাম চ্যানেল থেকে ইনকাম অনেক নিয়ম বা উপায় রয়েছে যা এখনো অনেকে জানেই না। সেজন্য আজকের এই আর্টিকেলটিতে আমি চেষ্টা করেছি টেলিগ্রাম চ্যানেল থেকে আয় বা ইনকাম করার ১০টি নিয়ম বা উপায় আপনাদের সাথে সেয়ার করার। আশা করি টেলিগ্রাম চ্যানেল থেকে ইনকাম করার উপায় গুলো আপনার কাজে আসবে।
নিচে এক এক করে টেলিগ্রাম চ্যানেল থেকে ইনকাম করার সেরা ১০টি নিয়ম বা উপায় দেওয়া হলো।
১. টেলিগ্রাম এডস (Telegram Ads)
টেলিগ্রাম চ্যানেল থেকে আয় বা ইনকাম করার সবচেয়ে সহজ উপায় হচ্ছে ’টেলিগ্রাম এডস’ এর মাধ্যমে ইনকাম করা। টেলিগ্রাম চেনেলে টেলিগ্রাম এডস ব্যবহার করার জন্য আপনার চ্যানেলে সর্বনিম্ন ১০০০ সাবস্ক্রাইবার থাকতে হবে।
১ হাজার সাবস্ক্রাইবার হলে টেলিগ্রাম চ্যানেল মনিটাইজ করতে পারবেন এবং Telegram Ads ব্যবহার করতে পারবেন।

টেলিগ্রাম এডস এর মাধ্যমে যা ইনকাম হবে তার ৫০% পাবলিশারদের দেওয়া হয় এবং বাকী ৫০% টেলিগ্রাম নিজে রেখে দেয়।
পেমেন্ট মেথড: টেলিগ্রাম টন (TON) এর মাধ্যমে পাবলিশারদের পেমেন্ট করে থাকে। টন (TON) একটি অনলাইন ক্রিপ্টোকারেন্সি (Cryptocurrency)।
২. টেলিগ্রাম অ্যাফিলিয়েট প্রোগ্রাম (Telegram Affiliate Programs)
টেলিগ্রাম অ্যাফিলিয়েট প্রোগ্রাম হচ্ছে টেলিগ্রামের অফিসিয়াল একটি সেবা। আপনার টেলিগ্রাম চ্যানেলের সেটিংস অপশনে গেলেই সেখানে Telegram Affiliate Programs সেবাটি দেখতে পাবেন।

এটিতে যুক্ত হয়ে আপনার টেলিগ্রাম চ্যানেলে বিভিন্ন Service প্রোমোট করতে পারবেন। এবং কেউ যখন সেই সেবাটি গ্রহণ করবে তখন তার বিনিময়ে আপনি নির্দিষ্ট পরিমাণ টাকা বা TON Coin পাবেন।
৩. অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং (Affiliate Marketing)
আপনি যে বিষয় নিয়ে আপনার টেলিগ্রাম চ্যানেলটি তৈরি করেছেন সেই রিলেটেড অ্যাফিলিয়েট প্রোগ্রামে জয়েন হবেন। তারপর আপনার চ্যানেলে তাদের পণ্য বা সেবা প্রোমোট করার মাধ্যমে আপনার টেলিগ্রাম চ্যানেল থেকে ইনকাম করতে পারবেন।
৪. স্পনসরড (Sponsored)
আপনার টেলিগ্রাম চ্যানেলটিতে যখন সাবস্ক্রাইবার সংখ্যা বেড়ে যাবে তখন আপনি বিভিন্ন কোম্পানি থেকে তাদের পণ্য বা সেবা প্রোমোট করার জন্য স্পনসার পাবেন।
এবং পণ্য প্রোমোশন করার জন্য আপনি নির্দিষ্ট পরিমাণ অর্থ বা টাকা চার্জ করবেন। এভাবেই স্পনসরের মাধ্যমে অনেকেই টেলিগ্রাম চ্যানেল থেকে ইনকাম করে থাকে।
৫. ডোনেশন (Donation)
আপনার টেলিগ্রাম চ্যানেলের সাবস্ক্রাইবারদের কাছ থেকে ডোনেশন নিতে পারেন। কারণ একটি চ্যানেলে নিয়মিত কাজ করে সাবস্ক্রাইবারদের সবসময় তথ্য দেওয়া অনেক সময় সাপেক্ষ কাজ এবং অনেক পরিশ্রমেরও কাজ।
যদি আপনার টেলিগ্রাম চ্যানেলটি সাবস্ক্রাইবারদের আসলেই কাজে লাগে তবে অনেকেই আপনাকে ডোনেশন দিবে। এবং আপনি ডোনেশনের মাধ্যমে আপনার টেলিগ্রাম চ্যানেলটি থেকে অর্থ উপার্জন করতে পারবেন।
৬. ইউআরএল শর্টনার ওয়েবসাইট (URL Shortener Websites)
অনলাইনে অসংখ্য ইউআরএল শর্টনার ওয়েবসাইট রয়েছে যাদের কাজ হচ্ছে বিভিন্ন লিংক বা ইউআরএল কে ছোট বা শর্ট করা।
কিছু কিছু URL Shortener Websites রয়েছে যেগুলোর মাধ্যমে লিংক শর্ট করলে যখন কেউ সেই শর্ট লিংক বা ইউআরএল এ ক্লিক করে তখন প্রথমে তাদের সামনে বিজ্ঞাপন চালু হয়ে তারপর কাঙ্খিত লিংটি বা ইউআরএলটি ওপেন হয়।
এইযে প্রথমে বিজ্ঞাপন দেখালো এর বিনিময়ে আপনাকে টাকা দেওয়া হবে। তাই আপনার টেলিগ্রাম চ্যানেলে ইউটিউব ভিডিওর লিংক, বিভিন্ন আর্টিকেলের লিংক এইসব URL Shortener Websites দিয়ে লিংক শর্ট করে আপনার টেলিগ্রাম চ্যানেলে দিতে পারেন।
সেই শর্ট লিংকে মানুষ ক্লিক করলেই আপনার সেখান থেকে ইনকাম হবে।
কয়েকটি URL Shortener Websites এর নাম নিচে দেওয়া হলো:
- adf.ly
- cpm.link
- linkvertise
- shorte.st
- shrinkme.io
- adpaylink.com
৭. পেইড প্রোমোশন (Paid Promotion)
আপনার টেলিগ্রাম চ্যানেলে যদি অনেক সাবস্ক্রাইবার থাকে তবে অনেকেই আপনার টেলিগ্রাম চ্যানেলে পেইড প্রোমোশন করাতে চাইবে। কারণ বর্তমানে ছোট ছোট কন্টেন্ট ক্রিয়েটররাও তাদের আর্টিকেল বা ভিডিওতে ভিউ বাড়ানোর জন্য পেইড প্রোমোশন করে থাকেন। এছাড়াও আরও অনেক সেক্টরের মানুষ পেইড প্রোমোশন করে।
তবে প্রথম অবস্থায় আপনাকে বিভিন্ন ফেসবুক গ্রুপ বা পেজে গিয়ে ক্লাইন্ট খুঁজতে হবে।
৮. পণ্য রিসেলিং (Resseling Products)
অনলাইনে এমন অনেক ই-কমার্স ওয়েবসাইট বা এপস রয়েছে যারা তাদের পণ্য রিসেলিং করা অফার দেয়। আপনি তাদের কাছ থেকে পর্ণ নিয়ে নিজের হিসেবে বিক্রি করতে পারবেন।
আপনাকে এমন কোনো রিসেলিং এপ বা ই-কমার্স ওয়েবসাইটে রেজিস্ট্রেশন করে সেখান থেকে পণ্যের লিংক নিয়ে আপনার টেলিগ্রাম চ্যানেলে দিতে হবে। যখন কেউ সেখান থেকে কিছু কিনবে তখন আপনাকে কমিশন বা আপনার প্রাপ্য টাকা বুঝিয়ে দেওয়া হবে।
৯. রেফারেল ইনকাম (Referral Income)
ইন্টারনেটে এমন অনেক এপস রয়েছে যারা রেফার করার বিনিময়ে টাকা দেয়। যেহেতু আপনার টেলিগ্রাম চ্যানেলে অনেক সাবস্ক্রাইবার রয়েছে তাই প্রথমে এমন রেফারেল এপ গুলোতে রেজিস্ট্রেশন করে সেখান থেকে রেফারেল লিংক নিয়ে আপনার টেলিগ্রাম চ্যানেলে সেয়ার করবেন।
সেই লিংকে মানুষ ক্লিক করলে আপনার রেফারেল এপটিতে টাকা যোগ হবে এবং আপনি যেকোনো সময় সেই টাকা Withdraw করে নিতে পারবেন।
১০. পেইড সাবস্ক্রিপশনস (Paid Subscriptions)
আপনার টেলিগ্রাম চ্যানেলে যদি প্রিমিয়াম কন্টেন্ট বা প্রয়োজনীয় ডাউনলোড লিংকস সেয়ার করে তবে আপনার টেলিগ্রাম চ্যানেলটিকে প্রাইভেট রাখতে পারেন। এবং কেউ যদি সেই Private Telegram Channel জয়েন হতে চায় তবে তার বিনিময়ে আপনি নির্দিষ্ট পরিমাণ টাকা চার্জ করবেন।
টাকা দেওয়ার পরে আপনি তাকে সেই টেলিগ্রাম চ্যানেলে যুক্ত করে নিবেন। আপনি চাইলে মান্থলি চার্জ, বাৎসরিক চার্জ বা লাইফটাইম চার্জ এই হিসেবে ক্যাটাগরি করে চার্জ Subscriptions Fee নিতে পারেন।
আরও পড়ুন:
- নতুন টেলিগ্রাম একাউন্ট খোলার নিয়ম (সম্পূর্ণ গাইডলাইন)
- টেলিগ্রাম একাউন্ট ডিলিট করার নিয়ম (সম্পূর্ণ গাইডলাইন)
- টেলিগ্রাম চ্যানেল ডিলিট করার নিয়ম (সম্পূর্ণ গাইডলাইন)
- টেলিগ্রাম গ্রুপ ডিলিট করার নিয়ম (সম্পূর্ণ গাইডলাইন)
পরিশেষে, আপনি যদি ‘টেলিগ্রাম চ্যানেল থেকে ইনকাম (Earn Money With Telegram Channel)’ করতে চান তবে এই আর্টিকেল দেখানো উপায় আপনার অনেক কাজে আসবে। এই আর্টিকেলে দেখানো নিয়ম বা উপায় গুলো অনুসরণ করে আপনার টেলিগ্রাম চ্যানেল থেকে অনেক উপায়ে ইনকাম করতে পারবেন।



