সকলেই জানি যে বর্তমান যুগ হচ্ছে তথ্য ও প্রযুক্তির যুগ। এখন প্রায় প্রত্যেকের হাতেই রয়েছে এক বা একাধিক মোবাইল ফোন এবং প্রত্যেক ফোনেই রয়েছে ইন্টারনেট ব্যবহার করার সুবিধা।
এই ইন্টারনেট ব্যবহার করে আমরা প্রতিনিয়ত বিভিন্ন রকম ওয়েবসাইট ভিজিট করে থাকি এবং অনেক ওয়েবসাইটে নিজের রিয়েল ইনফরমেশন বা ব্যক্তিগত তথ্য দিয়ে অ্যাকাউন্ট তৈরি করে থাকি।
কিন্তু আপনি কি জানেন? যে আপনার তথ্য অন্য কেউ চুরি করে অপরাধ মূলক কর্মকান্ড করতে পারে। পরবর্তীতে তখন আপনি কিছু না করেও বিভিন্ন রকম ঝামেলার সম্মুখিন হবেন।
তাই ইন্টারনেট ব্যবহার করলে আপনাকে অবশ্যই জানতে হবে যে কোন ধরনের ওয়েবসাইট গুলোতে নিজের পারসোনাল বা রিয়েল ইনফরমেশন শেয়ার করা যাবে না।
সেজন্য এই আর্টিকেলে আমরা যেসব ওয়েবসাইটে কখনোই নিজের রিয়েল ইনফরমেশন শেয়ার করবেন না তা নিয়ে বিস্তারিত জানানোর চেষ্টা করেছি।
১. এডভারটাইজিং ওয়েবসাইট (Advertising Websites)
ফেসবুক, ইউটিউব, ইনস্টাগ্রাম সহ বিভিন্ন ওয়েবসাইটে ভিজিট করার সময় দেখবেন যে বিভিন্ন ধরনের আকর্ষনীয় বিজ্ঞাপন সামনে আসে। যেমন: আজকে এই পণ্যটি কিনলে ৫০% ডিসকাউন্ট, কিংবা একটি কিনলে একটি ফ্রী সহ বিভিন্ন ধরনের আকর্ষনীয় অফার আসবে।
আপনি যখন তাদের ADS বা বিজ্ঞাপনে ক্লিক করে কোনো কিছু কিনতে যাবেন তখন তারা প্রথমে আপনার নাম, ঠিকানা, ফোন নাম্বার সহ আরও বিভিন্ন তথ্য দিয়ে Sign Up করতে বলবে।
আর সেখানে সাইন আপ করলেই তাদের কাছে আপনার তথ্য গুলো চলে যাবে।
এক্ষেত্রে করণীয় কী?
এক্ষেত্রে প্রচরণা এড়াতে আপনি যাদের বিজ্ঞাপন দেখে কোনো কিছু নিতে চাচ্ছেন তারা কতটা ট্রাস্টেড, আদৌ ট্রাস্টেট কিনা তা যাচাই করে নিবেন।
যাচাই করার করার জন্য সেই কোম্পানি সম্পর্কে গুগল, ফেসুবক বা ইউটিউবে সার্চ করে সেই কোম্পানি সম্পর্কে জানতে পারবেন।
তাছাড়া তাদের ওয়েবসাইটের এডড্রেসে “htps://” আছে কিনা তাও দেখে নিবেন।
২. পাবলিক ফ্রী ওয়াইফাই (Public Free Wi-fi)
বিভিন্ন পাবলিক প্লেসে ফ্রিতে ওয়াইফাই ব্যবহার করার সুবিধা রয়েছে। যেমন: বিভিন্ন রেস্টুরেন্ট, ক্যাফে, শপিংমল ইত্যাদি। প্রতারক মহল অনেক সময় এই পাবলিক ফ্রী ওয়াইফাই এর সুযোগ নেয়।
আপনি যখন এসব যায়গায় ফ্রি ওয়াইফাই ব্যবহার করতে যাবেন। তখন ওয়াইফাই কানেক্ট করার জন্য আপনাকে কোন একটি ওয়েবসাইটে নিয়ে যাবে এবং সেখানে আপনার সামনে একটি সাইন আপ ফর্ম আসবে।
সেখানে আপনার বিভিন্ন তথ্য দিয়ে সাইন আপ করতে বলবে। যেহেতু আপনি সেইসব ওয়েবসাইট সম্পর্কে তেমন কিছু জানেন না তাই আপনার তথ্য সেখান থেকে চুরি হওয়ার সম্ভবনা রয়েছে।
তাছাড়া আপনি যদি পাবলিক ফ্রি ওয়াইফাই ব্যবহার করেন তবে চেষ্টা করবেন VPN ব্যবহার করে চালানোর।
VPN আপনার ডাটাকে এনক্রিপ্ট করে রাখবে, যা আপনাকে সাইবার আক্রমণ থেকে রক্ষা করবে। এবং পাবলিক ফ্রী ওয়াইফাই ব্যবহার করে গুরূত্বপূর্ণ কোন তথ্য আদান-প্রদান করা থেকে বিরত থাকুন।
৩. ফ্রী ট্রায়াল ওয়েটসাইট (Free Trial Website)
অনলাইনে অনেক ওয়েবসাইট তাদের বিভিন্ন সেবা কেনার পূর্বে গ্রাহককে ১ সপ্তাহ বা ১ মাসের জন্য ফ্রী ট্রায়াল দিয়ে থাকে। ফলে গ্রাহক সেবা না কিনেই সেই সেবাটি অল্প সময়ের জন্য ব্যবহার করার সুযোগ পায়।
তবে ফ্রী ট্রায়াল করার শর্ত হচ্ছে আপনাকে তাদের ওয়েবসাইটে আপনার বিভিন্ন তথ্য প্রদান করে সাইন আপ করতে বা একাউন্ট তৈরি করতে হবে।
আর একটি মহল এখানেই সুযোগটি নেয়। তারা বিভিন্ন সার্ভিস বা সেবা দেওয়ার কথা বলে ফেইক ওয়েবসাইট তৈরি করে এবং সেখানে মানুষকে দিয়ে সাইন আপ করিয়ে তাদের তথ্য গুলো চুরি করে থাকে।
সেজন্য অনলাইনে ফ্রী ট্রায়াল ওয়েবসাইটে সাইন আপ (Free Trial Website Sign Up) করার পূর্বে সেই ওয়েবসাইট সম্পর্কে গুগলে সার্চ করে দেখুন যে তারা কতটা বিশ্বস্ত।
বিশ্বস্ত হলে সাইন আপ করবেন না হলে করবেন না।
৪. এককালীন কেনাকাটা করার ই-কমার্স ওয়েবসাইট (E-Commerce Website)
কেনাকাটা করার জন্য অনলাইনে এখন ই-কমার্স ওয়েবসাইট গুলোর জনপ্রিয়তা ব্যাপক। মানুষ এখন ঘরের তরি তরকারি থেকে শুরু করে টিভি, ফ্রিজ সব কিছুই অনলাইন কিনতে শুরু করেছেন।
অনলাইনে কেনাকাটা করার সময় আমরা এমন কিছু ই-কমার্স ওয়েবসাইট থেকে কিনতে যাই যেগুলোতে অতীতেও কোন দিন কিছু কিনি নাই এবং ভবিষ্যতেও কেনার সম্ভবনা নেই।
ই-কমার্স ওয়েবসাইট থেকে কোনো কিছু কেনার জন্য নিজের পারসোনাল ইনফরমেশন দিতে হয়। তাই আপনি যখন না জেনে এই ধরনের এককালীন ই-কমার্স ওয়েবসাইট গুলো থেকে কোনো কিছু কিনতে যাবেন তখন আপনার তথ্য চুরি হওয়ার সম্ভবনা থাকে।
সেজন্য এই ধরনের এককালীন ই-কমার্স ওয়েবসাইট থেকে কোনো কিছু কেনার পূর্বে সেই ই-কমার্স সাইট সম্পর্কে গুগলে সার্চ করে বিস্তারিত জানার চেষ্টা করবেন।
এবং তাদের ওয়েবসাইটের এডড্রেসে “htps://” আছে কিনা তাও দেখে নিবেন।
৫. অনলাইনে সার্ভে ও কুইজ ওয়েবসাইট (Online Survey & Quiz Website)
আপনি অনলাইনে বিভিন্ন ধরনের সার্ভে ও কুইজ রিলেটেড ওয়েবসাইট দেখতে পাবেন। এ জাতীয় ওয়েবসাইট গুলোতে সহজ কিছু সার্ভে বা কুইজ দেওয়া থাকে এবং এই সার্ভে বা কুইজে অংশগ্রহণ করে জিতলে বড় ধরনের পুরস্কার দেওয়ার কথা উল্লেখ করা থাকে। যেমন: লক্ষাধিক টাকা বা Iphone Mobile ইত্যাদি।
মানুষ পুরস্কারের আশায় সেইসব ওয়েবসাইটে গিয়ে সার্ভে কমপ্লিট করে বা কুইজে অংশগ্রহণ করে। এবং সার্ভে বা কুইজে অংশগ্রহণ করার পূর্বে প্রথমে তাদের পারসোনাল ইনফরমেশন দিয়ে সেখানে একাউন্ট তৈরি করে।
এভাবেই এই ধরনের সার্ভে ও কুইজ রিলেটেড ওয়েবসাইট গুলো থেকে পুরস্কার তো পাওয়া যায়না বরং নিজের রিয়েল ইনফরমেশন গুলো চুরি হয়ে যায়।
তাই তথ্য প্রযুক্তির এই যুগে ইন্টারনেট ব্যবহারে সর্বোচ্চ সর্তকতা অবলম্বন করতে হবে।
৬. F-Commerce এ কেনাকাটা
ফেসবুক পেইজ বা আইডি ব্যবহার করে বিভিন্ন ধরনের কেনা বেচা বা বিজনেজ করাকেই মূলত এফ-কমার্স (F-Commerce) বলে।
ফেসবুক স্ক্রল করার সময় দেখবেন বিভিন্ন পেইজ থেকে অনেক ধরনের পণ্যের বিজ্ঞাপন আসবে আপনার সামনে। আপনি যখন এই বিজ্ঞাপনে ক্লিক করবেন তখন তাদের পেইজে বা আইডিতে নিয়ে যাবে আপনাকে।
এবং পণ্য ক্রয় করার জন্য আপনার কাছ থেকে পারসোনাল ইনফরমেশন চাইবে।
এক্ষেত্রে করণীয় কী?
প্রথমে পেইজটি সম্পর্কে ফেসবুকে একটু ঘাটাঘাটি করে দেখবেন যে পেইজটি বিশ্বস্ত কিনা। যদি আপনার কাছে বিশ্বস্ত মনে হয় তাহলে আপনার ইনফরমেশন দিবেন। আর বিশ্বস্ত মনে না হলে আপনার ইনফরমেশন দিবেন না এবং সেই পেইজ থেকে কেনাকাটাও করবেন না।
৭. অনলাইন ফ্যান কমিউনিটিজ (Online Fan Communities)
অনলাইন ফ্যান কমিউনিটি গুলোতে নির্দিষ্ট কোনো ইন্টারেস্ট বা টপিক নিয়ে আলোচনা করার জন্য ইন্টারনেট ব্যবহারকারীরা একত্রিত হয়।
সেইম ইন্টারেস্টের ফ্রেন্ড বানানোর জন্য এই ধরনের অনলাইন ফ্যান কমিউনিটি গুলো খুবই চমৎকার।
তবে এই ধরনের অনলাইন ফ্যান কমিউনিটি গুলোতে পাবলিকালি নিজের পারসোনাল বা রিয়েল ইনফরমেশন শেয়ার করার ফলে আপনার তথ্য চুরি হওয়ার ঝুঁকি থাকে।
তাই পাবলিকালি অনলাইনে কোনো প্লাটফর্মেই নিজের পারসোনাল ইনফরমেশন শেয়ার করা উচিৎ নয়।
আরও পড়ুন:
- কোন ফ্রিজ ভালো তা কিভাবে বুঝবো? [গুরুত্বপূর্ণ ১২টি উপায়]
- আপনার কোন স্কিলটা শেখা উচিত ভবিষ্যতের জন্য [৫টি স্কিল]
- কাজু বাদাম খাওয়ার নিয়ম ও ১০টি উপকারিতা
- যে ৫টি অভ্যাস আপনাকে ২০২৪ সালে সফল হতে সাহায্য করবে
- শিশুদের মোবাইল আসক্তি কমানোর ১১টি কার্যকরী উপায়
পরিশেষে, যেহেতু অলনাইন ব্যবহারকারীর সংখ্যা ব্যাপক, তাই অনলাইন প্রতারণারও তৈরি হচ্ছে নতুন নতুন ফাঁঁদ। তাই অনলাইনে নিজেকে নিরাপদ রাখতে যেখানে সেখানে নিজের রিয়েল ইনফরমেশন শেয়ার করবেন না। আশাকরি এই ‘যে ৭ ধরনের ওয়েবসাইটে কখনোই নিজের রিয়েল ইনফরমেশন শেয়ার করবেন না’ আপনার একটু হলেও উপকারে আসবে।


