কামাল পাশা কবিতার মূলভাব ও জ্ঞানমূলক প্রশ্ন উত্তর

আর্টিকেল সূচি

জাতীয় কবি বা বিদ্রোহী কবি কাজী নজরুল ইসলাম জন্মেই দেশ ও জাতিকে দেখেছেন পরাধীনতার শৃঙ্খলে আবদ্ধ। কবি মনেপ্রাণে চেয়েছেন যেন জনজীবনের সকল অন্যায় অত্যাচারের বিনাশ হয় এবং দেশ স্বাধীন হয়।

সেজন্য কবি কাজী নজরুল ইসলাম তাঁর ‘অগ্নিবীণা’ কাব্যে তুলেছেন জাগরণের সুর। জাতির গৌরবময় ইতিহাস ঐতিহ্য তুলে ধরে স্বাধীনতা সংগ্রামে ঝাঁপিয়ে পড়তে অনুপ্রাণিত করার চেষ্টা করেছেন।

কামাল পাশা’ হচ্ছে ’অগ্নিবীণা’ কাব্যের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বা তাৎপর্যপমণ্ডিত একটি কবিতা।

এই আর্টিকেলে কামাল পাশা কবিতার মূলভাব ও জ্ঞানমূলক প্রশ্ন উত্তর নিয়ে আলোচনা করা হয়েছে।

 

কামাল পাশা কবিতার মূলভাব

 

প্রথম বিশ্বযুদ্ধে পরাজিত তুরস্ক কামাল পাশার নেতৃত্বে আক্রমণকারী গ্রিকদের পরাজিত করে মুসলিম বিশ্বের মধ্যে প্রথম গণতান্ত্রিক দেশ হয়ে উঠতে পেরেছিল। কবি কাজী নজরুল ইসলাম সেজন্য এ কামাল পাশা কবিতায় এই তুর্কি বীরের শৌর্য-বীর্যের জয়গান গেয়ে জাতীয় জীবনে জাগরণ আনতে চেয়েছেন। ‘কামাল পাশা’ কবিতাটি নাটকের মতোন দৃশ্য থেকে দৃশ্যান্তরে পরিবর্তিত হয়েছে।

কামাল পাশা কবিতাটি রচিত হয়েছে সমিল মুক্তক স্বরবৃত্ত ছন্দে। কবি ‘কামাল পাশা’ কবিতায় কামাল পাশার বীরত্বের প্রশংসা করে তার  ‍দৃষ্টান্ত অনুসরণ করতে আহ্বান করেছেন বাঙালি জাতিকে।

 

ঐ ক্ষেপেছে পাগলী মায়ের দামাল ছেলে কামাল ভাই

অসুর পুরে শোর জেগেছে জোরসে সামাল সামাল ভাই।

 

এই ‘কামাল পাশা’ কবিতায় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিভিন্ন দৃশ্যে কবি পররাজ্য অধিকারীদের প্রতি তীব্র ঘৃণা এবং স্বাধীনতার প্রতি প্রবল আগ্রহ প্রকাশ পেয়েছে। পাশাপাশি রণাঙ্গনের কোলাহলের সঙ্গে সঙ্গে সৈনিক জীবনের বেদনা ও ট্রাজেডিও অঙ্কিত হয়েছে।

 

কামাল পাশা কবিতার জ্ঞানমূলক প্রশ্ন ও উত্তর

 

এবার কামাল পাশা কবিতার জ্ঞানমূলক প্রশ্ন ও উত্তর গুলো দেওয়া হলো নিচে:

 

’দেশ বাঁচাতে আপনারি জান শেষে করেছে’ – কোন কবিতা হতে চয়নিত?

 

উত্তর: অগ্নিবীণা কাব্যের ‘কামাল পাশা’ কবিতা হতে চয়নিত।

 

কামাল পাশা কোন দেশের অধিবাসী?

 

উত্তর: কামাল পাশা তুরস্কের অধিবাসী ছিলেন।

 

কামালা পাশা কবিতা অবলম্বনে কে ক্ষেপেছে?

 

উত্তর: পাগলী মায়ের দামাল ছেলে কামাল ক্ষেপেছে।

 

কামাল পাশা কে?

 

উত্তর: কামাল হচ্ছে গ্রিক-তুরস্ক যুদ্ধে তুরস্কের জাতীয় সৈন্যদলের কাণ্ডারি বিশ্বত্রাস।

 

’আহা কচি ভাইরা আমার’ – কাদেরকে কারা বলেছে?

 

উত্তর: গ্রিক-তুর্কি যুদ্ধে গ্রিকদের পরাজিত করে তুর্কি বীরেরা বিজয়ী বেশে তাঁবুতে ফেরার সময় তাদের সহযোদ্ধাদের লাশ বুকে পিঠে করে নিয়ে আসছে, এই শহীদ তরুণ বীরদেরকে কচি ভাই বলে সম্বোধন করা হয়েছে।

 

কাজী নজরুল ইসলামের মতে কাদের বরাতে কেবর আঘাত আর আঘাত?

 

উত্তর: যারা অন্যের মুলুকে জোরপ্রবেশম করে লুট করে যায়, তাদের বরাতে জোটে শুধু আঘাত।

 

’এক মুরগির জোর গায়ে নেই, ধরতে আসেন তুর্কি তাজী’ – কাদের কথা বলা হয়েছে?

 

উত্তর: ‍গ্রিক সৈন্যদের কথা বলা হয়েছে।

 

কী দেখে হাজার তরুণ শহীদ বীরের গা শিউরে ওঠে?

 

উত্তর: গ্রিক-তুর্কি যুদ্ধে গ্রিকদের তুর্কির শহীদ সেনার ছোট লাল টুকটুকে বৌ যে স্বামীর রক্ত ছোপানো কাপড় পরে আছে, তাকে দেখে সমস্ত তরুণ শহীদদের গা শিউরে ওঠে।

 

তুর্কি বীর শহীদেরা কীভাবে বেশ করেছে?

 

উত্তর: তারা দেশের স্বাধীনতা রক্ষার্থে আত্মাহুতি দিয়েছে – এর চেয়ে শ্রেষ্ঠ কাজ আর নেই, তাই তারা বেশ করেছে। বীরের মত জীবন দেওয়াই জীবনের শ্রেষ্ঠ কাজ।

 

কামাল পাশা কবিতায় আসমানের ক’টি রঙের উল্লেখ আছে?

 

উত্তর: দুইটি । যথা: ১. নীল সিয়া ও ২. গভীর লাল।

 

’কামাল পাশা’ কবিতায় – ‘এই তো চাই, থাকলে স্বাধীন সবাই আছি, নেই তো নাই’ – এ কথার অর্থ কী?

 

উত্তর: এ কথাটির অর্থ হচ্ছে – হয় সবাই মিলে স্বাধীনভাবে বাঁচবো, না হয় সবাই স্বাধীনতার জন্য জীবন দেব, পরাধীন হয়ে বাঁচা নিরর্থক।

 

তরুণ শহীদদের বাসর কোথায় হবে?

 

উত্তর: তুর্কি যুদ্ধে তরুণ শহীদদের বাসর হবে কবরের বাসর ঘরে- সেখানে তার বধূটি আঁধার শাড়ি পরবে।

 

’কামাল পাশা’ কবিতাটি প্রথম কোথায় প্রকাশিত হয়?

 

উত্তর: ‘কামাল পাশা’ কবিতা ১৯২১ সালে মোসলেম ভারত পত্রিকায় ‘কামাল পাশা’ প্রথম প্রকাশিত হয়।

 

মুস্তফা কামাল আতাতুর্ক কে?

 

উত্তর: মুস্তফা কামাল আতাতুর্ক নব্য তুরস্কেল জন্মদাতা (জন্ম ১৮৯১, মৃত্যু ১৯৩৮ খ্রি.)।

 

কামাল আতাতুর্ক ‘পাশা’ উপাধিপ্রাপ্ত হন কেন?

 

উত্তর: অসাধারণ রণ-কুশলতার জন্য তিনি ’পাশা’ উপাধিতে ভূষিত হন।

 

আতাতুর্ক শব্দের অর্থ কী?

 

উত্তর: আতাতুর্ক শব্দের অর্থ হচ্ছে, ‘তুর্কি জনতার পিতা’।

 

’কামাল পাশা’ কবিতায় কী প্রকাশ পেয়েছে?

 

উত্তর: কামাল পাশা কবিতাটিতে বিজয়োন্মত্ত সৈন্যদের আনন্দগীতি ও উল্লাস প্রকাশ লাভ করেছে।

 

কামাল শব্দের অর্থ কী?

 

উত্তর: কামাল শব্দের অর্থ হচ্ছে পূর্ণতাপ্রাপ্ত বা নিখুঁত।

 

গদ্যপদ্যময় সংস্কৃত নাম কী?

 

উত্তর: গদ্যপদ্যময় সংস্কৃত নাম হচ্ছে ‘চম্পু’।

 

’কামাল পাশা’ কবিতাটিতে কী চম্পু বলা যায়?

 

উত্তর: কামাল পাশা কবিতাটিতে চম্পু বলা যায় না এ কারণে যে, কবিতাটিতে যে উদ্দীপনা আছে তা চম্পুতে বোঝায় না। এ ধরনের কবিতা বাংলা সাহিত্যে নতুন।

 

আরও পড়ুন:

 

পরিশেষে: আশা করি এই, ‘কামাল পাশা কবিতার মূলভাব ও জ্ঞানমূলক প্রশ্ন উত্তর’ আর্টিকেলটি আলোচিত বিষয় আপনার একটু হলেও উপকারে এসেছে।

Spread the love

হ্যালো "ট্রিকবিডিব্লগ" বাসী আমি ওসমান আলী। দীর্ঘদিন থেকে অনলাইনে লেখালেখির পেশায় যুক্ত আছি। Trick BD Blog আমার নিজের হাতে তৈরি করা একটি ওয়েবসাইট। এখানে আমি প্রতিনিয়ত ব্লগিং, ইউটিউবিং ও প্রযুক্তি সহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ টিপস এন্ড ট্রিক্স রিলেটেড আর্টিকেল প্রকাশ করে থাকি।

Leave a Comment