ভারতীয় সমাজে জাতিবর্ণ প্রথার আদি রূপ এবং বর্তমান রূপ একেবারে অভিন্ন প্রতিপন্ন হয় না। ভারতীয় সমাজে এই জাতি-বর্ণ প্রথা সুপ্রাচীন কাল থেকে দীর্ঘকাল যাবৎ প্রচলিত রয়েছে।
এই জাতি-বর্ণ প্রথা দীর্ঘকাল প্রচলিত থাকার ফল হিসেবে জাতি বর্ণ প্রথার মধ্যে বহুবিধ পরিবর্তন ঘটা স্বাভাবিক। এই রকম অনুমান অনস্বীকার্য।
জাতি-বর্ণ ব্যবস্থা কি বা জাতি-বর্ণ ব্যবস্থা কাকে বলে?
ভারত বর্ষের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ প্রথা হচ্ছে জাতি-বর্ণ প্রথা। ভারতবর্ষে সুপ্রাচীনকাল থেকেই এই জাতি-বর্ণ প্রথা প্রচলিত রয়েছে। জাতি-বর্ণ প্রথা হচ্ছে ভারতের নিজস্ব এক সামাজিক বৈশিষ্ট্য। ভারতবর্ষের প্রাচীন ও জটিল সভ্যতার এক বৈশিষ্ট্যপূর্ণ অভিব্যক্তি হলো এই জাতি-বর্ণ প্রথা।
এই জাতি-বর্ণ প্রথা ভারতীয় সভ্যতা সংস্কৃতির সমন্বয়ের বিভিন্ন সামাজিক কাঠামো ও ধমাচরণের সঙ্গে গভীরভাবে সম্পর্কযুক্ত। হিন্দু সমাজ ছাড়াও ভারতবর্ষে মুসলমানদের মতো কিছু অ-হিন্দু গোষ্ঠীর মধ্যেও জাতি-বর্ণ প্রথা প্রচলিত রয়েছে।
তাছাড়া ভারতবর্ষের বাইরে বসবাসকারী হিন্দুদের মধ্যে জাতি-বর্ণ প্রথার প্রচলন দেখা যায়।
জাতি-বর্ণ প্রথা সম্পর্কে সমাজবিজ্ঞানীদের কতিপয় সংজ্ঞা
জাতি-বর্ণ প্রথাকে সমাজবিজ্ঞানীরা বিভিন্নভাবে সংজ্ঞায়িত করেছেন। যেমন:
বটোমোর এর মতে, ‘জাতি-বর্ণ প্রথার ভিত্তিতে সমাজবিজ্ঞানীরা সামাজিক স্তরবিন্যাসের কিচু সূত্র বে করেন। এটা একটা হিন্দু ধর্মীয় ব্যবস্থা হলে ও এর সাথে ভারতীয় সমাজের শ্রেণী বিভাগের সম্পর্ক রয়েছে। তাছাড়া সনাতন অর্থনীতিতে বর্ণ প্রথা ছিল একটি গুরুত্বপূর্ণ চালিকাশক্তি।’
আঁদ্রে বেটেইলি’র মতে, ‘সনাতন সমাজগুলোতে দেখা যায় যে, ৫০ বছরের আগে ও শ্রেণি কাঠামোর ভিত্তিতে সামাজিক ব্যবস্থা নির্মিত হয়। অর্থাৎ মালিকানা বিশেস করে জমির মালিকানা এবং উৎপাদন মাধ্যমের সাথে সম্পর্কের উপর নির্ভর করে জাতি-বর্ণ প্রথা পরিচালিত হয়।’
জাতি-বর্ণ ব্যবস্থার বৈশিষ্ট্যসমূহ কি কি?
সামাজিক স্তর বিন্যাস ব্যবস্থাসমূহের মধ্যে ভারতীয় জাতি-বর্ণ প্রথা হলো সবচেয়ে বেশি পার্থক্যসূচক বৈশিষ্ট্যমণ্ডিত। ভারতের হিন্দু সমাজের সনাতন বা ঐতিহ্যগত জাতি-বর্ণ প্রথার মধ্যে বহু ও বিভিন্ন বৈশিষ্ট্য বিদ্যমান।
জাতি-বর্ণ ব্যবস্থার বৈশিষ্ট্যসমূহ:
- বংশানুক্রমিতা: জাতিবর্ণ প্রথার প্রথম বৈশিষ্ট্য হচ্ছে বংশানুক্রমিতা। অর্থাৎ, এর সদস্যপদ বংশানুক্রমিতা আরোপিত হয়। জন্মসূত্রে জাতি নির্ধারিত বা নিয়ন্ত্রিত হয়।
- অন্তবিবাহমূলক গোষ্ঠী: জাতি-বর্ণ হলো এক অন্তবিবাহমূলক গোষ্ঠী। সাধারণত নিজ জাতি বা বর্ণের বাইরে এর কোন সদস্য বিয়ে করে না।
- সমপাঙক্তেয়তা: জাতি-বর্ণ প্রথার আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বৈশিষ্ট্য হচ্ছে সমপাঙক্তেয়তা। জাতি বর্ণ ব্যবস্থার এই সমপাঙক্ষেয়তা ধারণাটি ব্যাখ্যা করা দরকার।
- নিজস্ব বিধি-বিধান প্রথা: প্রতিটি জাতি বা বর্ণেরই নিজস্ব কিছু বিধি-বিধান প্রচলিত থাকে। জাতি মাত্রেই তার সতন্ত্র মর্যাদা যথাযথভাবে সংরক্ষেণের স্বার্থে এই সমস্ত বিধিব্যবস্থা ও প্রচলিত প্রথাকে কার্যকর করার জন্য খুবই সতর্ক ও সচেষ্ট থাকে।
- সামাজিক গতিশীলতা অনুপস্থিত: জাতি বর্ণে ক্ষেত্রে সামাজিক হতিশীলতা অনুপস্থিতি বিশেষভাবে লক্ষ্য করা যায়। গুণগত যোগ্যতার বিচারে বর্ণের পরিবর্তন আনা যায় না।
- জীবনধারাগত পার্থক্য: জাতি বর্ণ প্রথায় বিভিন্ন বর্ণের মধ্যে জীবনধারাগত পার্থক্য একটি উল্লেখযোগ্য বৈশিষ্ট্য হিসেবে বিবেচিত হয়।
- পেশাগত বিভাজন: পেশাগত বিভাজন হচ্ছে জাতি বর্ণ প্রথার একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈশিষ্ট্য। সমাজবিজ্ঞানী রিসলে জাতি-বর্ণ ব্যবস্থার যে সমস্ত ভিত্তির কথা বলেছেন তার মধ্যে পেশাই হচ্ছে মূখ্য।
উপসংহার: উপরোক্ত আলোচনার উপর ভিত্তি করে পরিশেষে বলা যায় যে, জাতি-বর্ণ ব্যবস্থা হলো নির্দিষ্ট কোন একটি দল যার রয়েছে অভিন্ন পরিচয় এবং দলের সদস্যপদ হচ্ছে বংশানুক্রমিক এবং অন্যান্যদের সাথে মেলামেশার ক্ষেত্রে যাদের রয়েছে সামাজিক বিধিনিষেধ। এবং প্রতিটি বর্ণের রয়েছে একটি প্রথাগত নাম যা তাদেরকে অন্যটি থেকে পৃথক করে রাখে।
আরও পড়ুন:
- সুশীল সমাজ কাকে বলে? | সুশীল সমাজের সংজ্ঞা দাও
- সমাজ কাঠামো কাকে বলে?
- সামাজিক মূল্যবোধ কাকে বলে?
- বাংলাদেশে জনসংখ্যা বৃদ্ধির ৮টি কারণ
- জাতি-বর্ণ প্রথা কাকে বলে?
Source of Information: Introducing Sociology (Book) | তথ্যের উৎস: সমাজবিজ্ঞান পরিচিতি বই।



![মোবাইল দিয়ে নগদ একাউন্ট খোলার সঠিক নিয়ম [ছবি সহ]](https://trickbdblog.com/wp-content/uploads/2023/07/Screenshot_63-1.png)