প্রত্যেক বছর ইংরেজি মে মাসের প্রথম দিন ‘মে দিবস’ বা ‘শ্রমিক দিবস’ পালন করা হয়। কারণ শতাব্দীর পর শতাব্দী হতে শ্রমিকদের উপর চলে আসা নির্যাতন বিরুদ্ধে রক্তক্ষয়ী সংগ্রামের ফলাফল হচ্ছে এই মে দিবস।
এ ছাড়াও সভ্যতার চাকা সচল রাখার কারিগর হলেন শ্রমিক। আজ আমরা যে আধুনিক ও জাঁকজমকপূর্ণ পৃথিবীর বুকে দাঁড়িয়ে আছি, তার প্রতিটি ইটের ভাঁজে মিশে আছে লাখো মেহনতি বা শ্রমজীবি মানুষের রক্ত আর ঘাম। প্রতি বছর পহেলা মে সারা বিশ্বজুড়ে পালিত হয় আন্তর্জাতিক শ্রমিক দিবস, যা আমাদের মনে করিয়ে দেয় ১৮৮৬ সালের শিকাগোর সেই রক্তঝরা সংগ্রামের কথা।
মে দিবস নিয়ে সেরা ৫০ টি উক্তি
মে দিবস বা শ্রমিক দিবস কেবল একটি ক্যালেন্ডারের তারিখ বা ছুটির দিন নয়; এটি অধিকার আদায়ের এক অবিনাশী চেতনা। শ্রমের মর্যাদা এবং শ্রমিকদের ন্যায্য অধিকার নিয়ে বিশ্বের বিভিন্ন সময়ে গুণীজন ও সফল ব্যক্তিরা অনেক অনুপ্রেরণামূলক কথা বলে গেছেন।
আজকের এই বিশেষ আর্টিকেলে আমরা মে দিবস এবং শ্রমের মহিমা নিয়ে বাছাইকৃত সেরা ১৫০টি উক্তি আপনাদের সামনে তুলে ধরব, যা আমাদের শ্রমকে সম্মান করতে এবং অধিকার আদায়ে সচেতন হতে আরও বেশি উৎসাহিত করবে।
চলুন প্রথমে মে দিবস নিয়ে সেরা ৫০ টি উক্তি দেখে নেই।
বিভাগ অনুযায়ী মে দিবসের সেরা ৫০ টি উক্তি বা ক্যাপশন
বিভাগ অনুযায়ী মে দিবসের সেরা ৫০ টি উক্তি বা ক্যাপশন নিচে দেওয়া হলো:
শ্রমিকের অধিকার ও মে দিব স (১-১০)
১.
“শ্রমিকের ঘাম দিয়ে গড়া ইটের উপর দাঁড়িয়ে থাকে সভ্যতার অট্টালিকা।”
২.
“শ্রম হলো পুঁজির উৎস, তাই শ্রমের মর্যাদা সবার আগে।” — আব্রাহাম লিংকন
৩.
“শ্রমিকদের অধিকার আদায়ের লড়াই কোনো করুণা নয়, এটি ন্যায়বিচারের দাবি।”
৪.
“মে দিবস আমাদের মনে করিয়ে দেয় যে, ঐক্যবদ্ধ শক্তি সব পাহাড় সমান বাধাকে গুঁড়িয়ে দিতে পারে।”
৫.
“শ্রমিকদের মুক্তি মানেই সমাজের মুক্তি।” — ফ্রেডরিখ এঙ্গেলস
৬.
“বিশ্বের শ্রমিক এক হও!” — কার্ল মার্কস
৭.
“অধিকার কেউ কাউকে দেয় না, অধিকার আদায় করে নিতে হয়।”
৮.
“শ্রমিক দিবস কেবল উদযাপনের নয়, এটি শপথ নেওয়ার দিন।”
৯.
“শ্রমিকদের শোষণের অবসান না হলে বিশ্ব শান্তি অসম্ভব।”
১০.
“একজন শ্রমিক যখন তার অধিকার ফিরে পায়, তখন গোটা সমাজ লাভবান হয়।”
শ্রমের মহিমা ও সার্থকতা (১১-২০)
১১.
“পরিশ্রম সৌভাগ্যের প্রসূতি।”
১২.
“শ্রম ছাড়া জীবন স্থবির, আর প্রতিভা ছাড়া শ্রম নিষ্ফল।” — জন রাসকিন
১৩.
“বিশ্রামের আনন্দ কেবল সেই পায়, যে আগে পরিশ্রম করেছে।”
১৪.
“কঠোর পরিশ্রমের কোনো বিকল্প নেই।” — টমাস আলভা এডিসন
১৫.
“শ্রমিক ছাড়া পৃথিবী এক দিনও চলতে পারে না।”
১৬.
“যে ব্যক্তি কাজ করতে লজ্জা পায় না, সাফল্য তার দরজায় কড়া নাড়বেই।”
১৭.
“শ্রম মানুষের মনের সব অন্ধকার দূর করে দেয়।” — ভলতেয়ার
১৮.
“কাজই হলো প্রার্থনা।”
১৯.
“শ্রম হলো সেই চাবিকাঠি যা ভাগ্যের বদ্ধ দুয়ার খুলে দেয়।”
২০.
“পৃথিবীর যা কিছু মহান সৃষ্টি, তার পেছনে রয়েছে শ্রমিকের হাতের স্পর্শ।”
সফল ব্যক্তিদের বাণী (২১-৩০)

২১.
“সাফল্য ৯৯% পরিশ্রম এবং ১% মেধার ফল।” — আলবার্ট আইনস্টাইন
২২.
“তুমি যদি কাজকে সম্মান করো, কাজ তোমাকে বিশ্বজুড়ে সম্মানিত করবে।” — এ পি জে আব্দুল কালাম
২৩.
“পরিশ্রমী মানুষের জন্য প্রতিটি দিনই মে দিবস।”
২৪.
“সুযোগ অনেক সময় শ্রমিকের পোশাক পরে আসে, তাই অনেকে তা চিনতে পারে না।” — টমাস এডিসন
২৫.
“স্বপ্ন দেখা ভালো, কিন্তু শ্রম ছাড়া স্বপ্ন কেবল কল্পনা।”
২৬.
“কাজের মধ্যেই লুকিয়ে থাকে প্রকৃত শান্তি।”
২৭.
“মানুষ তার কর্মের মাধ্যমেই বেঁচে থাকে, বয়সের মাধ্যমে নয়।”
২৮.
“বড় কিছু অর্জন করতে হলে আগে ছোট ছোট কাজে কঠোর শ্রম দিতে হয়।”
২৯.
“বসে থাকার চেয়ে কাজ করা অনেক ভালো।” — লিও তলস্তয়
৩০.
“তোমার কাজই তোমার পরিচয়।” — স্টিভ জবস
নৈতিকতা ও শ্রম (৩১-৪০)
৩১.
“শ্রমিকের গায়ের ঘাম শুকানোর আগেই তার পারিশ্রমিক পরিশোধ করো।” — আল-হাদিস
৩২.
“সৎ শ্রমের মাধ্যমে উপার্জিত সামান্য অর্থও দুর্নীতির পাহাড়ের চেয়ে মূল্যবান।”
৩৩.
“শ্রমিককে ঘৃণা করা মানে মানবতাকে ঘৃণা করা।”
৩৪.
“যে হাতে শ্রমিকের কাজ করে, সেই হাত আল্লাহর প্রিয়।”
৩৫.
“শোষণমুক্ত সমাজ গড়তে শ্রমিকের পাশে দাঁড়ান।”
৩৬.
“একজন সৎ শ্রমিকের সম্মান একজন অলস রাজার চেয়েও বেশি।”
৩৭.
“ন্যায্য মজুরি কেবল শ্রমিকের অধিকার নয়, এটি মালিকের নৈতিক দায়িত্ব।”
৩৮.
“কাজের কোনো ছোট-বড় নেই, সব সৎ কাজই মর্যাদাপূর্ণ।”
৩৯.
“শ্রমিকের ঘরে যখন আলো জ্বলে, তখন দেশ হাসে।”
৪০.
“শ্রমিকের প্রতি অবজ্ঞা একটি জাতির পতনের লক্ষণ।”
সংগ্রাম ও প্রেরণা (৪১-৫০)
৪১.
“আঘাত ছাড়া লোহা যেমন শক্ত হয় না, শ্রম ছাড়া মানুষও তেমন যোগ্য হয় না।”
৪২.
“পিছিয়ে পড়া মানুষকে টেনে তোলার শক্তি আছে কেবল শ্রমে।”
৪৩.
“আগামীকালকে সুন্দর করতে চাইলে আজকেই কঠোর পরিশ্রম করো।”
৪৪.
“শ্রমিকের জয় মানেই মানবতার জয়।”
৪৫.
“পৃথিবীর ইতিহাস মূলত মেহনতি মানুষের ইতিহাস।”
৪৬.
“শ্রমিকের হাতই হলো সৃষ্টির আসল কারিগর।”
৪৭.
“হতাশা দূর করার সবচেয়ে বড় ওষুধ হলো কাজে ব্যস্ত থাকা।”
৪৮.
“ধৈর্য এবং পরিশ্রম সব প্রতিকূলতাকে জয় করে।”
৪৯.
“মে দিবস একটি ত্যাগের মহিমা যা প্রতি বছর আমাদের জাগিয়ে দেয়।”
৫০.
“বিশ্রাম মানে আলস্য নয়, বরং পরবর্তী কাজের শক্তি সঞ্চয়।”
মে দিবসের সংক্ষিপ্ত ইতিহাস
নিচে মে দিবস সম্পর্কে সংক্ষিপ্ত ইতিহাস দেওয়া হলো:
মূলত মে দিবসের ইতিহাসের সূচনা হয় ১৮৮৬ সালের ১লা মে যুক্তরাষ্ট্রের শিকাগো শহরের হে মার্কেট চত্বরে দৈনিক ৮ ঘণ্টা কাজের দাবির মধ্য দিয়ে। তৎকালীন সময়ে শ্রমিকদের প্রতিদিন প্রায় প্রায় ১০ থেকে ১৬ ঘণ্টা পর্যন্ত অমানবিক পরিশ্রম করতে হতো। ছিল না কোনো নির্দিষ্ট কর্মঘণ্টা।
এই অমানবিক শোষণের বিরুদ্ধে সোচ্চার হয়ে শিকাগোর কয়েক হাজার শ্রমিক ধর্মঘটের ডাক দেন। কিন্তু ৪ঠা মে এক শান্তিপূর্ণ সমাবেশে পুলিশ অতর্কিতে গুলি চালালে বেশ কয়েকজন শ্রমিক সেখানে নিহত হন এবং অসংখ্য শ্রমিক আহত হন। এই ঘটনার পর অনেক শ্রমিক নেতাকে গ্রেফতার করা হয় এবং কয়েকজনকে মৃত্যুদণ্ডও দেওয়া হয়।
সেজন্যই মূলত শ্রমিকদের এই আত্মত্যাগ ও অধিকার আদায়ের সংগ্রামকে স্মরণীয় করে রাখার জন্য ১৮৮৯ সালে প্যারিসে অনুষ্ঠিত দ্বিতীয় আন্তর্জাতিক সম্মেলনে ১লা মে-কে ‘আন্তর্জাতিক শ্রমিক দিবস‘ হিসেবে ঘোষণা করা হয়। সেই থেকে প্রত্যেক বছর সারা বিশ্বজুড়ে শ্রমিকদের ঐক্য ও অধিকারের প্রতীক হিসেবে এই দিনটি পালিত হয়ে আসছে।
মে দিবসের সেরা ৫০টি স্লোগান (৫১-১০০)

মে দিবসের সেরা ৫০টি স্লোগান নিচে দেওয়া হলো:
মে দিবসের জনপ্রিয় ও বিপ্লবী স্লোগান (৫১-৬০)
৫১.
শ্রমিকের রক্তে ভেজা মে দিবস, বৃথা যেতে দেবো না।
৫২.
লড়াই লড়াই লড়াই চাই, লড়াই করে বাঁচতে চাই।
৫৩.
মে দিবসের চেতনা, শ্রমিকদের মুক্তি মোহনা।
৫৪.
আমার অধিকার, আমার দাবি—আট ঘণ্টা কাজ, আট ঘণ্টা বিশ্রাম।
৫৫.
মে দিবসের রক্ত লাল, বৃথা যেতে দেবো না কাল।
৫৬.
শ্রমিক শোষণের অবসান চাই, বাঁচার মতো মজুরি চাই।
৫৭.
দুনিয়ার মজদুর, এক হও!
৫৮.
কাজ যার অধিকার, সম্মান তার প্রাপ্য।
৫৯.
শিকাগোর মহান শহীদদের লাল সালাম।
৬০.
ন্যায্য মজুরি নিশ্চিত করো, শ্রমিক অধিকার রক্ষা করো।
শ্রমের মর্যাদা ও অধিকারের স্লোগান (৬১-৭০)
৬১.
ঘাম ঝরানো হাতগুলোই হলো উন্নয়নের মূল চালিকাশক্তি।
৬২.
শ্রমিকের হাতে গড়া দেশ, কেন শ্রমিক হবে নিঃশেষ?
৬৩.
শ্রমের মর্যাদা যেখানে নেই, উন্নয়ন সেখানে মেকি।
৬৪.
নিরাপদ কর্মস্থল চাই, শ্রমিকের সুরক্ষা চাই।
৬৫.
শিশুশ্রম বন্ধ করো, আগামীর ভবিষ্যৎ গড়ো।
৬৬.
কাজের কোনো ছোট-বড় নেই, সব শ্রমিকই সমান।
৬৭.
শ্রমিকের পেটে লাথি মেরে, শিল্প গড়া চলবে না।
৬৮.
মেহনতি মানুষের জয় হোক, মানবতার জয় হোক।
৬৯.
মালিক-শ্রমিক ঐক্য গড়ো, সোনার বাংলা সফল করো।
৭০.
শ্রমিকের দাবি মানতে হবে, অন্যথায় লড়াই চলবে।
প্রেরণা ও সংহতির স্লোগান (৭১-৮০)
৭১.
শ্রমিকের জয় মানেই জাতির জয়।
৭২.
একতাই শ্রমিকের প্রধান শক্তি।
৭৩.
ভয় নেই আর শ্রমিকের, যদি থাকে একতা।
৭৪.
শোষণমুক্ত সমাজ চাই, শ্রমিকের অধিকার চাই।
৭৫.
অধিকার কেউ দেয় না, আদায় করে নিতে হয়।
৭৬.
অন্যায়ের বিরুদ্ধে গর্জে ওঠো, শ্রমিকের পতাকা হাতে ধরো।
৭৭.
মে দিবসের শপথ নিন, শ্রমিকের পাশে দাঁড়ান প্রতিদিন।
৭৮.
তোমার আমার রক্ত লাল, মে দিবস চিরকাল।
৭৯.
শ্রমিকের হাসিতেই দেশের প্রকৃত সমৃদ্ধি।
৮০.
শ্রমজীবী মানুষের জয়গান, গাইবে বিশ্ব চিরকাল।
ছোট ও আধুনিক সোশ্যাল মিডিয়া স্লোগান (৮১-৯০)
৮১.
শুভ মে দিবস: শ্রমের জয়গান।
৮২.
শ্রমিক বাঁচলে বাঁচবে দেশ, সুখে থাকবে বাংলাদেশ।
৮৩.
আট ঘণ্টা কাজ, আট ঘণ্টা বিশ্রাম, আট ঘণ্টা বিনোদন।
৮৪.
শ্রম আমার অহংকার, অধিকার আমার অঙ্গীকার।
৮৫.
শ্রমিক দিবসের রক্তিম শুভেচ্ছা।
৮৬.
শ্রমিকের ঘাম, উন্নয়নের নাম।
৮৭.
অধিকার আদায়ের মিছিলে, সামিল হোন সবাই মিলে।
৮৮.
মে দিবস: সংগ্রামের ঐতিহ্য, সাফল্যের প্রেরণা।
৮৯.
শ্রমের সম্মান, জাতির প্রাণ।
৯০.
শ্রমজীবী মানুষের ত্যাগের প্রতীক—পহেলা মে।
নৈতিকতা ও ন্যায়বিচারের স্লোগান (৯১-১০০)
৯১.
জবরদস্তি শ্রম নয়, সম্মানের শ্রম চাই।
৯২.
শ্রমিকের মজুরি সময়মতো দিন, অভিশাপ থেকে মুক্তি নিন।
৯৩.
বৈষম্যহীন কর্ম পরিবেশ, মে দিবসের মূল কথা।
৯৪.
শ্রমিকের ঘরে অন্ন চাই, ন্যায্য পাওনা গণ্ডা চাই।
৯৫.
মেহনতি মানুষের কান্না, আর সহ্য করা হবে না।
৯৬.
মে দিবসের অঙ্গীকার, ঘুচবে অন্ধকার।
৯৭.
শিকাগো থেকে ঢাকা, শ্রমিকের সংগ্রাম চির অমর।
৯৮.
মালিকের বিলাসিতা নয়, শ্রমিকের অধিকার আগে।
৯৯.
শ্রমিকের শ্রমই সভ্যতার অলংকার।
১০০.
নারীর শ্রমের মর্যাদা চাই, সমান মজুরি নিশ্চিত চাই।
মে দিবস নিয়ে দেশপ্রেমিক ব্যক্তিদের সেরা ৫০টি উক্তি (১০১-১৫০)

মে দিবস নিয়ে দেশপ্রেমিক ব্যক্তিদের সেরা ৫০টি উক্তি নিচে দেওয়া হলো:
বঙ্গবন্ধু ও দেশীয় প্রেক্ষাপটে শ্রমের মর্যাদা (১০১-১২০)
১০১.
“শ্রমিকদের অবজ্ঞা করে কোনো জাতি বিশ্বের দরবারে মাথা উঁচু করে দাঁড়াতে পারে না।”
১০২.
“বাংলাদেশ তখনই সোনার বাংলা হবে, যখন শ্রমিকের গায়ের ঘাম শুকানোর আগেই তার মজুরি পরিশোধ হবে।”
১০৩.
“শোষিত মানুষের পক্ষে দাঁড়ানোই হলো প্রকৃত দেশপ্রেম।”
১০৪.
“দেশের প্রতিটি কল-কারখানা যেন শ্রমিকের রক্তে নয়, সাফল্যে রঙিন হয়।”
১০৫.
“স্বাধীনতা মানে শ্রমিকের মুক্তি, স্বাধীনতা মানে মেহনতি মানুষের হাসি।”
১০৬.
“বাংলার মাটি ও মানুষের অধিকার রক্ষায় মে দিবসের চেতনা চির অম্লান।”
১০৭.
“দেশপ্রেমিক তিনিই, যিনি দেশের প্রতিটি সাধারণ মানুষের কথা ভাবেন।”
১০৮.
“শ্রমিক-কৃষক এই দেশের মালিক, তাদের মুখে হাসি ফোটানোই আমার জীবনের লক্ষ্য।” (বঙ্গবন্ধুর দর্শনের আলোকে)।
১০৯.
“আমাদের দেশ আমাদের অহংকার, শ্রমিকের হাত আমাদের অঙ্গীকার।”
১১০.
“লাখো শহীদের রক্তের বিনিময়ে অর্জিত এই দেশে শ্রমিকের অধিকার হবে অটুট।”
অনুপ্রেরণা ও জাতি গঠন (১১১-১২০)
১১১.
“একটি জাতিকে উন্নত করতে হলে আগে তার কারিগরদের (শ্রমিকদের) যোগ্য সম্মান দিন।”
১১২.
“যে হাত কাজ করে, সেই হাতই দেশকে এগিয়ে নেয়।”
১১৩.
“শ্রমিকের হাতেই রচিত হয় একটি আধুনিক রাষ্ট্রের মানচিত্র।”
১১৪.
“মে দিবস আমাদের শেখায় কীভাবে ত্যাগের মাধ্যমে অধিকার অর্জন করতে হয়।”
১১৫.
“নিজের কাজের প্রতি সততাই হলো দেশপ্রেমের সবচেয়ে বড় প্রমাণ।”
১১৬.
“দেশকে গড়তে হলে আগে শ্রমের প্রতি ভালোবাসা গড়ে তুলতে হবে।”
১১৭.
“দেশপ্রেমের অগ্নিপরীক্ষা হলো শ্রমিকের কষ্টের দিনে পাশে দাঁড়ানো।”
১১৮.
“শ্রমিকের মুক্তি ছাড়া দেশের সামগ্রিক মুক্তি সম্ভব নয়।”
১১৯.
“জাতির প্রতিটি ধূলিকণা শ্রমিকের কঠোর পরিশ্রমের সাক্ষী।”
১২০.
“প্রকৃত দেশপ্রেমিক কখনো শ্রমিকের ন্যায্য পাওনা নিয়ে টালবাহানা করে না।”
ত্যাগের মহিমা ও সংগ্রাম (১২১-১৩০)
১২১.
“মে দিবস কেবল একটি দিন নয়, এটি শ্রমের পবিত্রতার প্রতীক।”
১২২.
“দেশপ্রেমিক মানুষের কাছে মে দিবস হলো আত্মত্যাগের অনুপ্রেরণা।”
১২৩.
“দেশাত্মবোধ কেবল কবিতায় নয়, শ্রমিকের অধিকার আদায়ের মিছিলেও থাকে।”
১২৪.
“প্রতিটি ইটের নিচে একজন শ্রমিকের স্বপ্ন চাপা থাকে, দেশপ্রেমিকরা সেই স্বপ্নকে সম্মান করে।”
১২৫.
“অন্যায়ের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করাই হলো শ্রমিকের আসল সৌন্দর্য।”
১২৬.
“দেশ গড়ার শপথ নিন মে দিবসের এই দিনে।”
১২৭.
“শ্রমিকের ঘাম আর শহীদের রক্ত—দুটিই একটি দেশ গঠনে সমান গুরুত্ব রাখে।”
১২৮.
“শ্রমের অসম্মান মানেই দেশের অসম্মান।”
১২৯.
“শ্রমিক দিবস আমাদের শিকড়ের কথা মনে করিয়ে দেয়।”
১৩০.
“শ্রমিকের ঘাম দিয়ে গড়া ইটের উপর দাঁড়িয়ে থাকে সভ্যতার অট্টালিকা।”
আধুনিক চিন্তা ও দেশপ্রেম (১৩১-১৪০)
১৩১.
“পহেলা মে আমাদের ত্যাগের কথা মনে করায়, আর দেশ আমাদের কর্তব্যের কথা।”
১৩২.
“দেশপ্রেমের নতুন সংজ্ঞা হলো শ্রমিকের নিরাপদ কর্মপরিবেশ নিশ্চিত করা।”
১৩৩.
“শ্রমিক বাঁচলে দেশ বাঁচবে, আর দেশ বাঁচলে আমরা সবাই বাঁচবো।”
১৩৪.
“মে দিবসের অঙ্গীকার, ঘুচবে দেশের অন্ধকার।”
১৩৫.
“সুস্থ শ্রম পরিবেশ একটি সফল রাষ্ট্রের পূর্বশর্ত।”
১৩৬.
“মেহনতি মানুষের শ্রমই হলো একটি জাতির শ্রেষ্ঠ সম্পদ।”
১৩৭.
“দেশপ্রেমিক হতে হলে আগে মানুষের প্রতি দরদী হতে হয়।”
১৩৮.
“শ্রমিকের অধিকার রক্ষা করা একটি ঈমানি ও নৈতিক দায়িত্ব।”
১৩৯.
“ডিজিটাল হোক বা ম্যানুয়াল, শ্রমের মর্যাদা সব জায়গায় সমান।”
১৪০.
“শ্রমিকের জয় মানেই মানবতার জয়, আর মানবতার জয় মানেই দেশের জয়।”
দেশ ও শ্রম নিয়ে মহৎ ব্যক্তিদের উক্তি (১৪১-১৫০)
১৪১.
“একটি দেশের প্রকৃত শক্তি তার অস্ত্রাগারে নয়, বরং তার মেহনতি মানুষের পেশিতে থাকে।”
১৪২.
“দেশপ্রেম মানে কেবল পতাকা ওড়ানো নয়, বরং দেশের প্রতিটি শ্রমিকের ন্যায্য অধিকার নিশ্চিত করা।”
১৪৩.
“মজবুত শ্রম ব্যবস্থা ছাড়া একটি স্বাধীন মানচিত্র টিকে থাকতে পারে না।”
১৪৪.
“তুমি যদি দেশকে ভালোবাসো, তবে দেশের প্রতিটি ঘাম ঝরানো হাতকে শ্রদ্ধা করতে শেখো।”
১৪৫.
“একটি রাষ্ট্র তখনই শক্তিশালী হয়, যখন তার শ্রমিকরা পেট ভরে খেতে পায়।”
১৪৬.
“দেশপ্রেমের প্রথম পাঠ হলো অন্যের শ্রমকে অমর্যাদা না করা।”
১৪৭.
“শ্রমিকরাই হলো একটি স্বাধীন রাষ্ট্রের মেরুদণ্ড।”
১৪৮.
“দেশের জন্য প্রাণ দেওয়া যেমন বীরত্ব, দেশের উন্নয়নে ঘাম ঝরানোও তেমনি দেশপ্রেম।”
১৪৯.
“শ্রমিকের অধিকার রক্ষা করা মানেই একটি জাতির সার্বভৌমত্ব রক্ষা করা।”
১৫০.
“যে দেশে শ্রমের মূল্য নেই, সে দেশের স্বাধীনতা বিপন্ন।”
মে দিবসের কবিতা । মে দিবস নিয়ে কাজী নজুরুল ইসলামের কুলি-মজুর কবিতা

মে দিবসের কবিতা । মে দিবস নিয়ে কাজী নজুরুল ইসলামের কুলি-মজুর কবিতাটি নিচে দেওয়া হলো:
কুলি-মজুর
কাজী নজরুল ইসলাম
দেখিনু সেদিন রেলে,
কুলি ব’লে এক বাবু সা’ব তারে ঠেলে দিল নিচে ফেলে!
চোখ ফেটে এল জল,
এমনি ক’রে কি জগৎ জুড়িয়া মার খাবে দুর্বল?
যে দধীচিদের হাড় দিয়ে ওই বাষ্প-শকট চলে,
বাবু সা’ব এসে চড়িল তাহাতে, কুলিরা পড়িল তলে।
বেতন দিয়াছ?—চুপ রও যত মিথ্যাবাদীর দল!
কত পাই দিয়ে কুলিদের তুই কত ক্রোর পেলি বল?
রাজপথে তব চলিছে মোটর, সাগরে জাহাজ চলে,
রেলপথে চলে বাষ্প-শকট, দেশ ছেয়ে গেল কলে,
বল তো এসব কাহাদের দান? তোমার অট্টালিকা
কার খুনে রাঙা? ঠুলি খুলে দেখ, প্রতি ইটে আছে লিখা।
তুমি জান না কো—কিন্তু পথের প্রতি ধূলিকণা জানে,
ওই পথ, ওই জাহাজ, শকট, অট্টালিকার মানে।
আসিতেছে শুভদিন,
দিনে দিনে বহু বাড়িয়াছে দেনা, শুধিতে হইবে ঋণ!
হাতুড়ি শাবল গাঁইতি চালিয়ে ভাঙিল যারা পাহাড়,
পাহাড়-কাটা সে পথের দু’পাশে হাড় লয়ে যাদের হাড়,
তোমারে সেবিতে হইল যাহারা মজুর, মুটে ও কুলি,
তোমারে বহিতে যারা পবিত্র অঙ্গে লাগাল ধূলি;
তারাই মানুষ, তারাই দেবতা, গাহি তাহাদেরি গান,
তাদেরি ব্যথিত বক্ষে পা ফেলে আসে নব উত্থান!
তুমি শুয়ে রবে তেতলার পরে, আমরা রহিব নিচে,
অথচ তোমারে দেবতা বলিব, সে ভরসা আজ মিছে!
সিক্ত যাদের সারা দেহ আজ রক্ত-জবার মতো,
তারা যে আজিকে ধরণির বুকে লাঞ্ছিত অবিরত।
মাতা ধরিত্রীর তারা যে কোলজোড়া সন্তান,
তাদেরি ব্যথিত বক্ষে পা ফেলে আসে নব উত্থান!
আরও পড়ুন:
পরিশেষে বলা যায় যে, এই মে দিবসের চেতনা আমাদের শুধু মাত্র একদিনের আলোচনা বা র্যালির মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখা উচিত নয়। শ্রমিকদের যথাযথ সম্মান প্রদান এবং তাদের ন্যায্য মজুরি নিশ্চিত করার মাধ্যমেই একটি জাতি প্রকৃত উন্নতির শিখরে পৌঁছাতে পারে। কারণ পৃথিবীর ইতিহাসে যে জাতি শ্রমকে যত বেশি মূল্যায়ন করেছে, তারা তত বেশি শক্তিশালী হয়েছে। এই আর্টিকেলে উপরে উল্লিখিত বিখ্যাত ব্যক্তিদের উক্তিগুলো আমাদের শেখায় যে, কোনো কাজই ছোট নয় এবং একমাত্র সৎ শ্রমের মাধ্যমেই জীবনের প্রকৃত সার্থকতা খুঁজে পাওয়া সম্ভব।
আর্টিকেলটি ভালো লাগলে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শেয়ার করার মাধ্যমে আপনিও শ্রমের এই মহান বার্তাকে ছড়িয়ে দেবেন।
শ্রমিক-মালিক সুসম্পর্ক বজায় থাকুক এবং প্রতিটি শ্রমিকের জীবন হোক নিরাপদ ও সম্মানজনক।



