সুশীল সমাজ কাকে বলে? | সুশীল সমাজের সংজ্ঞা দাও

Join Telegram Channel

ইংরেজি ‘Civil Society’ শব্দটির বাংলা প্রতিশব্দ হচ্ছে ‘সুশীল সমাজ’। পৃথিবীর প্রায় প্রত্যেকটি দেশেই বর্তমানে এই সুশীল সমাজের ধারণাটি অত্যন্ত গুরুত্বের সহিত আলোচিত হচ্ছে।

তাই আজকের আর্টিকেলে আমরা  ‍সুশীল সমাজের সংজ্ঞা, সুশীল সমাজ কাকে বলে?, সুশীল সমাজের লক্ষ্য কি কি? এইসব বিষয় নিয়ে আলোচনা করবো।

 

সুশীল সমাজ কী? বা সুশীল সমাজ কাকে বলে?

 

সমাজের প্রয়োজনীয়তা ও গুরুত্ব বিশ্বব্যাপী গণতন্ত্রায়ন প্রক্রিয়া ত্বরান্বিত হওয়ার সাথে সাথে দ্রুততার সাথে বৃদ্ধি পাচ্ছে। সুশীল সমাজের কোনো বিকল্প নেই যদি একটি রাষ্ট্রকে সুশীল রাষ্ট্রে পরিণত করতে হয়।

ইংরেজি ‘Civil Society‘ শব্দটির বাংলা প্রতিশব্দ বিভিন্নভাবে করা হয়েছে। যেমন: সুশীল সমাজ, সিভিল সমাজ, নাগরিক সমাজ ইত্যাদি। লক ও রুশোর মতো চিন্তবিদেরা এ শব্দটিকে তাদের লেখায় ব্যবহার করেছিলেন।

 

সুশীল সমাজের সংজ্ঞা দাও

 

ইংরেজি ‘Civility’ শব্দটির বাংলা প্রতিশব্দ হচ্ছে ভদ্রতা বা ভদ্র কাজ। এবং ইংরেজি ‘Civil’ শব্দটির বাংলা প্রতিশব্দ হচ্ছে ভদ্র বা সুশীল।

অতএব, শাব্দিক অর্থে ভদ্র বা পরিমিতবোধসম্পন্ন ব্যক্তিবর্গকে সুশীল সমাজ বলা যেতে পারে।

বিভিন্ন সমাজবিজ্ঞানী সুশীল সমাজকে বিভিন্নভাবে সংজ্ঞায়িত করেছেন।

নিচে বিভিন্ন সমাজবিজ্ঞানীর সুশীল সমাজ সম্পর্কে দেওয়া কতিপয় সংজ্ঞা উল্লেখ করা হলো:

 

সমাজবিজ্ঞানী Anthony Giddens তার ‘Sociology’ শীর্ষক গ্রন্থে বলেন, ”সুশীল সমাজ হলো উপরে রাষ্ট্র এবং নিচে পরিবার-এর মধ্যবর্তী একটি সংগঠন। সুশীল সমাজের প্রধান সংস্থাগুলো হলো ঐচ্ছিক সংঘ, গণমাধ্যম এবং প্রিন্ট মাধ্যম, পেশাজীবী সংগঠন, ট্রেড ইউনিয়ন ইত্যাদি।” (Civil society is a reain intermediate between the family and the state. The key institutions of civil society are: Voluntary association, massmedia and printmedia , professional associations, trade union.)

মুনতাসির মামুন ও জয়ন্ত কুমার তাঁদের ‘বাংলাদেশের সিভিল সমাজ প্রতিষ্ঠার সংগ্রাম’ গ্রন্থে বলেন, ”ইংরেজি ‘Civil Society’ এর বাংলা করা হয়েছে সিভিল সমাজ। সিভিল সমাজকে নাগরিক সমাজ নামেও অ্যাখ্যা দিয়েছেন অনেকে। আবার সিভিল সোসাইটি শব্দটিও ব্যবহৃত হয়েছে। বস্তুত এ তিনটি শব্দের মধ্যে কোন দ্বন্দ্ব নেই। তবে বাংলাদেশে সিভিল সমাজ শব্দটি বেশ পরিচিত।”

Harry Blair তাঁর ‘Analyzing and Closing the Bureaucratic Performance Gap in Bangladesh’ শীর্ষক গ্রন্থে বলেন, “সুশীল সমাজ হচ্ছে সেইসব সামাজিক সংগঠনের সমষ্টি যারা রাষ্ট্রের কাছ থেকে স্বায়ত্তশাসন ভোগ করে এবং এদের অনেক লক্ষ্যের মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ একটি হচ্ছে তাদের সদস্যদের পক্ষে রাষ্ট্রকে প্রভাবিত করা।”

বিচারপতি কে. এম. সোবহান তাঁর লেখা ‘সিভিল সোসাইটি ও আইনের শাসন’ প্রবন্ধে বলেন, “সমাজবিজ্ঞানীদের দৃষ্টিভঙ্গি থেকে শব্দটি আলোচনা করলে বাংলায় এর যে অর্থ দাঁড়ায় তা হচ্ছে গণতান্ত্রিক সমাজ।”

বিচারপতি হাবিবুর রহমান সিভিল সমাজ সম্পর্কে বলেন, “সিভিল সমাজের ধারণাটি সামাজিক মুক্তি মতবাদ থেকে যা আঠারো শতকে পশ্চিম ইউরোপের বুদ্ধিজীবীদের মাধ্যমে প্রকাশ পায়। ‘প্রকৃতির রাজ্য’ (State of nature) তত্ত্ব এ ধারণাকে আরো বিকশিত করতে সহায়তা করেছে। বিগত কয়েক দশকে রাষ্ট্রীয় বিশৃঙ্খলার প্রামাণ্য চিত্র থেকে এ সুশীল সমাজের ধারণা পুনরুজ্জীবিত হয়েছে।”

UNDP-এর মতানুযায়ী, “সুশীল সমাজ হলো সেই ক্ষেত্র যেখানে সামাজিক আন্দোলন জন্ম নেবে ও বিকশিত হবে।”

 

সুশীল সমাজের লক্ষ্য কি কি?

 

সার্বিকভাবে সুশীল সমাজের লক্ষ্যসমূহ নিচে তুলে ধরা হলো:

  • যথার্থ দেশপ্রেমিক নাগরিক গড়ে তোলা।
  • রাষ্ট্রকে জনকল্যাণমুখী প্রতিষ্ঠানে পরিণত করা।
  • সমাজে আইনের শাসন ও ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা করা।
  • দেশ ও জাতির সংকটময় মুহূর্তে জনগণের পাশে দাঁড়ানো।
  • রাষ্ট্রের মধ্যে গণতন্ত্রের চর্চা নিশ্চিত করা।
  • বিভিন্ন সামাজিক ও অর্থনৈতিক সমস্যার সমাধান করা।
  • সব ধরনের অন্যায়ের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তোলা।
  • স্থানীয় ভিত্তিতে বিভিন্ন নাগরিক সংগঠন গড়ে তোলার মাধ্যমে বিভিন্ন সমস্যার সমাধান ও উন্নয়নে ভূমিকা রাখা।
  • জনগণের সচেতনতা বৃদ্ধিতে সাহায্য করা যাতে করে তারা নিজ নিজ অধিকার, দায়িত্ব ও কর্তব্যের ব্যাপারে সজাগ থাকে।
  • দেশ পরিচালনায় সরকারকে কল্যাণমুখী দিক-নির্দেশনা প্রদান।
  • নৈতিকতা ও মূল্যবোধ রক্ষায় দেশীয় সংস্কৃতির চর্চা করা।
  • দেশের সার্বিক উন্নয়ন প্রকল্পে জাতীয় ঐক্য গড়া তোলা।

 

উপসংহার: পরিশেষে বলা যায় যে, সুশীল সামাজ হলো গণতান্ত্রিক চেতনা সমৃদ্ধ সমাজ। বিভিন্ন পেশার সম্মানিত ব্যক্তিবর্গ এখানে স্বেচ্ছায় যৌথভাবে সকলের কল্যাণ সাধনে সবসময় সচেষ্ট থাকে। এবং সুশীল সমাজের মূল বা প্রধান লক্ষ হচ্ছে সকল প্রকার শোষণ ও নিপীড়ন প্রতিরোধের মাধ্যমে জনগণের মতামতকে সাথে নিয়ে আইনের শাসন ও ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা করা।

 

আরও পড়ুন:

Spread the love
Join Telegram Channel

হ্যালো "ট্রিকবিডিব্লগ" বাসী আমি ওসমান আলী। দীর্ঘদিন থেকে অনলাইনে লেখালেখির পেশায় যুক্ত আছি। Trick BD Blog আমার নিজের হাতে তৈরি করা একটি ওয়েবসাইট। এখানে আমি প্রতিনিয়ত ব্লগিং, ইউটিউবিং ও প্রযুক্তি সহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ টিপস এন্ড ট্রিক্স রিলেটেড আর্টিকেল প্রকাশ করে থাকি।

Leave a Comment