দীনবন্ধু মিত্রের প্রথম নাটক ‘নীল দর্পণ’ এ (১৮৬০) এদেশের নীলকরদের অত্যাচারের চিত্র ফুটে উঠেছে। দীনবন্ধুর চরিত্রগুলো নানাদিক হতে বিশেষত্ব অর্জন করেছে। তবে একথা সত্য যে, ভদ্রশ্রেণির চরিত্রগুলোর মধ্যে সেই বিশেষত্ব প্রকাশ পায় নাই।
সাবিত্রী চরিত্রের সংক্ষিপ্ত পরিচয়
সাবিত্রী ছিলেন গোলকবসুর স্ত্রী। গোলকবসুর স্ত্রী সাবিত্রীর চরিত্রটি গোলকবসুর চরিত্রেরই পরিপূরক। তিনি উচ্চ পরিবারের গৃহিনী হয়েও তিনি মমতা ও ভালোবাসার মূর্ত প্রতীক।
তিনি স্বামী, পুত্র এবং পুত্রবধূদের খুব ভালোবাসতেন ও স্নেহ করতেন। তিনি ছিলেন ধর্মপরায়ণ একজন নারী। গোলকবসুকে যখন নীলকরেরা আক্রমণ করেছিলেন তখন তিনি বলেছিলেন, “ভগবতীর মনে যদি তািই থাকে হবে।”
স্বামী, পুত্র, পুত্রবধূ নিয়ে ছিল তার সুখের সংসার। যখন গোলকবসুকে জেলে আটকে রাখা হয়েছিল তখন তার ছেলে নবীন মাধবকে ব্যবসা করার পরামর্শ দেন।
এই নাটকে অনেকেই নানাভাবে আত্মহত্যা করেছে গোলকবসু জেলে আত্মহত্যা করলেও তিনি নিজেকে সামলে নিয়েছিলেন পুত্রদের কথা ভেবে কিন্তু যখন নীলকরদের হাতে নবীন মাধবের মৃত্যু হলো তখন তিনি উন্মাদিনী হয়ে গেলেন এবং সাবিত্রীর পুত্রবধূ সরলতা ও তার পায়ের নীচে প্রাণ দিলেন এবং যখন তার জ্ঞান ফিরল সেই অনুশোচনায় সাবিত্রীরও মৃত্যুবরণ করলেন।
আরও পড়ুন:
- বিদ্রোহী কবিতার মূলভাব ও জ্ঞানমূলক প্রশ্ন ও উত্তর
- আবেগ ও আবেগিক বিকাশ কি? | আবেগিক বিকাশের বৈশিষ্ট্য
- চর্যাপদের শিল্পমূল্য নির্ণয় কর
- চর্যাপদ নিয়ে ৫০+ টি গুরুত্বপূর্ণ জ্ঞানমূলক প্রশ্ন উত্তর
- সামাজিক পরিবর্তন বলতে কী বুঝায়?
- সমাজ কাঠামো কাকে বলে?
- সামাজিক অসমতা বলতে কি বুঝায়?
পরিশেষে বলা যায় যে, শোকের আঘাতে উন্মাদনা একটুও অসঙ্গতি নয় এবং দীনবন্ধু সাবিত্রীর চরিত্রে স্বাভাবিকতা রক্ষা করেছিলেন। তাই বলঅ যায়, ‘নীল দর্পণ’ নাটকে সাবিত্রী চরিত্রটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন।



