আমরা অনেকেই বিভিন্ন প্রয়োজনে পুরাতন ল্যাপটপ ক্রয় করে থাকি। পুরাতন ল্যাপটপ ক্রয় করার পূর্বে বেশ কিছু বিষয় দেখে নিতে হয় বা চেক করতে হয়। তা না করলে পরবর্তীতে পুরাতন ল্যাপটপে বিভিন্ন ধরনের সমস্যা দেখা যায় যা বিরক্তির কারণ হয়ে দাড়ায়।
তাই আজকের এই আর্টিকেলটি আমরা আলোচনা করবো যে, পুরাতন ল্যাপটপ কেনার আগে কি কি বিষয় চেক করতে হবে? বা পুরাতন ল্যাপটপ কেনার আগে করণীয় কি?
পুরাতন ল্যাপটপ কেনার আগে করণীয় কি কি?
পুরাতন ল্যাপটপ কেনার আগে বেশ কিছু বিষয় যেমন: র্যাম, এসএসডি, প্রোসেসর, ডিসপ্লে, ব্যাটারি হেলথ ইত্যাদি চেক করে তারপর পুরাতন ল্যাপটপ কিনতে হবে।
১. ল্যাপটপের বডির কন্ডিশন: আপনি পুরাতন যে ল্যাপটপটি কিনতে চাচ্ছেন সেটির বডির কি কন্ডিশন তা দেখে নিবেন। অর্থাৎ, ডিসপ্লেতে কোনো প্রকার দাগ পড়েছে কিনা, বডির কোন অংশ ফেটে গিয়েছে কিনা এইসব খুঁটিনাটি বিষয়গুলো দেখে নিবেন। কারণ এ থেকেও ল্যাপটপটি সম্পর্কে মোটামুটি একটি ধারণা পাওয়া যায়।
২. ল্যাপটপটি কবে মার্কেটে এসেছে: অনেক দোকানিই বলে থাকে যে ল্যাপটপটির বয়স ৩ মাস, ৬ মাস বা ১ বছর। তবে আপনার যদি তাদের কোথায় কোনো সন্দেহ থাকে তাহলে আপনি নিজেই তা চেক নিতে পারবেন। ল্যাপটপ কবে মার্কেটে এসেছে তা চেক করার জন্য,
- প্রথমে উইন্ডোজ বার থেকে Run অপশনে গিয়ে cmd লিখে Enter বাটনে ক্লিক করবেন।
- আপনার সামনে একটি ইন্টারফেইস আসবে সেখানে systeminfo.exe লিখবেন।

পুরাতন ল্যাপটপ কেনার আগে করণীয় - এবার আপনার সামনে যে ইন্টারফেইসটি আসবে সেখানে স্ক্রোল করে একটু উপরের দিকে যাবেন। সেখানে BIOS version নামের একটি লেখা পাবেন, সেই লেখার ডানপাশে তাকেলই সেখানে দেখতে তারিখ দেখতে পাবেন। এই তারিখটিই হচ্ছে ল্যাপটপটির Manufacturing Date। এই তারিখ দেখেই আপনি বুঝতে পারবেন যে ল্যাপটপটি কবে বাজারজাত করা হয়েছিল।

পুরাতন ল্যাপটপ কেনার আগে করণীয়
৩. ল্যাপটপের ব্যাটারি হেলথ: ল্যাপটপ কেনার আগে অবশ্যই চেক করে নিবেন যে ল্যাপটপটির ব্যাটারি হেলথ বা ব্যাটিরর কন্ডিশন কেমন আছে। এটি আপনি চাইলে নিজেই চেক করে নিতে পারবেন। ল্যাপটপের ব্যাটারি হেলথ চেক করার জন্য আপনাকে,
- প্রথমে উইন্ডোজ বার থেকে Run অপশনে গিয়ে cmd লিখে Enter বাটনে ক্লিক করবেন
- আপনার সামনে যে ইন্টারফেইসটি আসবে সেখানে Powercfg/batteryreport লিখে Enter প্রেস করবেন।

পুরাতন ল্যাপটপ কেনার আগে করণীয় - এবার দেখবেন আপনার সামনে একটি লিংক আসবে। সেটি কপি করে নিয়ে যে কোনো ব্রাউজারে গিয়ে সার্চ দিবেন।

পুরাতন ল্যাপটপ কেনার আগে করণীয় - আপনার সামনে Battery Report এর একটি পেজ আসবে। সেখানে নিচের ছবিটির মতোন DESIGN CAPACITY ও FULL CHARGE CAPACITY নামে দুইটি অপশন পাবেন।

পুরাতন ল্যাপটপ কেনার আগে করণীয় এখানে ফুল চার্জ ক্যাপাসিটি সংখ্যাটির সাথে ১০০ গুণ করবেন 27,942 x 100 = 2,794,200 । এখন এই গুণফলটিকে ডিজাইন ক্যাপাসিটি সংখ্যার সাথে ভাগ করবেন 2,794,200 ÷ 41,440 = 67.4। অর্থাৎ ল্যাপটপটির ব্যাটারি হেলথ হচ্ছে 67.4%। ব্যাটারি হেলথ বেশি দেখে পুরাতন ল্যাপটপ কেনার চেষ্টা করবেন। অবশ্যই যেন ৮০% এর আশেপাশে বা তার চেয়ে বেশি থাকে ব্যাটারি হেলথ।
৪. ল্যাপটপের ডিসপ্লে কন্ডিশন চেক: আপনি যেহেতু একটি পুরাতন ল্যাপটপ কিনছেন তাই অবশ্যই সেটির ডিসপ্লেটি চেক করে নিবেন। কারণ ডিসপ্লেতে সমস্যা থাকলে আপনার কাজ করতে অনেক ঝামেলা হবে।
ল্যাপটপের ডিসপ্লে চেক করার জন্য আপনি প্রথমে গুগলে গিয়ে Online Display Check লিখে সার্চ করবেন। সেখানে অনেকগুলো ওয়েবসাইট চলে আসবে। যে কোনো একটি ওয়েবসাইটে প্রবেশ করলে বিভিন্ন টেস্ট দিবে যেমন এক কালার বিভিন্ন রং দিবে। এগুলো ক্লিক করলে আপনি স্পস্টভাবে দেখতে পারবেন যে ল্যাপটপের ডিসপ্লেতে কোনো দাগ বা স্পট আছে কিনা।
৫. টাচ স্ক্রিন ল্যাপটপ: আপনি যে ল্যাপটপটি কিনতে চাচ্ছেন সেটি যদি টাচস্ক্রিন হয়ে থাকে তাহলে টাচ ঠিকঠাক মতোন কাজ করে কিনা তা চেক করে নিবেন। ল্যাপটপের টাচস্ক্রিন চেক করার জন্য আপনি উইন্ডোজ বার থেকে Paint অপশনটি চালু করে সেখানে লেখালেখি বা আঁকাআঁকি করবেন। আঁকাআঁকির সময় কোথাও যদি সমস্যা হয় তাহলে বুঝে নিবেন যে ল্যাপটপটির টাচস্ক্রিনে সমস্যা রয়েছে।
৬. হার্ডডিস্ক কন্ডিশন: পুরাতন ল্যাপটপ কেনার আগে চেক করে নিবেন যে ল্যাপটপটিতে HDD নাকি SSD ব্যবহার করা হয়েছে। কারণ HDD তে উইন্ডোজ ওপেন হতে যদি ৪০-৫০ সেকেন্ড সময় লাগে তবে SSD সময় লাগবে মাত্র ১০-১৫ সেকেন্ড।
৭. হার্ডডিস্ক হেলথ কন্ডিশন: পুরাতন ল্যাপটপে যে HDD বা SSD রয়েছে সেটির হেলথ কন্ডিশন কি তা চেক করে নিবেন। হার্ডডিস্ক হেলথ কন্ডিশন চেক করার জন্য,
- প্রথমে আপনি এই hdd health check পেজটিতে চলে যাবেন।
- আপনার সামনে নিচের ছবিটির মতোন একটি ইন্টারফেইস আসবে।

হার্ডডিস্ক হেলথ কন্ডিশন চেক এখানে একটি Software রয়েছে সেটি Download করে Install করে নিয়ে ওপেন করবেন।
- আপনার সামনে নিচের ছবিটির মতোন একটি ইন্টারফেইস আসবে।

হার্ডডিস্ক হেলথ কন্ডিশন চেক এখান থেকে আপনি ল্যাপটপের HDD বা SSD যাই হোক সেটির হেলথ কন্ডিশন দেখতে পারবেন। পুরাতন ল্যাপটপের ক্ষেত্রে HDD বা SSD এর হেলথ কন্ডিশন যেন ৭৫%-৮০% এর বেশি থাকে সেটি দেখে নেওয়ার চেষ্টা করবেন।
৮. কি-বোর্ড কন্ডিশন: পুরাতন ল্যাপটপের কি-বোর্ডে অনেক সময় কিছু কিছু বাটন কাজ করতে চায় না। তাই কি-বোর্ড কন্ডিশন চেক করার জন্য এই Online Keyboard Test এই পেজে যাবেন। সেখানে নিচের ছবিটির মতোন একটি কি-বোর্ড আসবে।

এবার আপনি ল্যাপটপের বাটনগুলোতে একটি একটি করে চাপ দিবেন। ডিসপ্লেতে দেখানো কি-বোর্ডে যে যে বাটনগুলো বা লেখাগুলো সাদা হয়ে যাবে সেই বাটন গুলো ঠিক আছে।
৯. ওয়েবক্যাম টেস্ট: অনেক সময় পুরাতন ল্যাপটপের ওয়েবক্যাম কাজ করে না তাই পুরাতন ল্যাপটপ কেনার আগে অবশ্যই ওয়েবক্যাম একবার চালু করে দেখবেন যে অন হয় কিনা।
১০. প্রোসেসর: পুরাতন ল্যাপটপ কেনার সময় দোকানদার আপনাকে আকর্ষিত করার জন্য বলতে পারে যে এটি Core-i5 বা Core-i7 এর ল্যাপটপ অনেক কম দামে পাচ্ছেন। কিন্তু আপনাকে এটি দেখলে চলবে না। আপনাকে দেখতে হবে যে মার্কেটে বর্তমান কত জেনারেশন চলছে। মার্কেটে যদি ১৪ জেনারেশন চলে তাহলে আপনি সর্বোচ্চ ২-৩ জেনারেশন আগের ল্যাপটপ গুলো ক্রয় করতে পারেন। এতে আপনার জন্য বেশি ভালো হবে।
১১. স্পিকার কন্ডিশন: পুরাতন ল্যাপটপ কেনার আগে সেটির স্পিকার কন্ডিশন চেক করে নিবেন যে সাউন্ডে কোনো প্রবলেম বা সমস্যা আছে কিনা।
১২. স্পেসিফিকেশন চেক: আপনি যে মডেলের ল্যাপটপটি কিনতে চাচ্ছেন সেটি প্রথমে অনলাইনে সার্চ করে দেখে নিবেন যে ল্যাপটপটিতে কি কি ফিচারস রয়েছে।
১৩. বিজনেস সিরিজ ল্যাপটপ: পুরাতন ল্যাপটপ কেনার ক্ষেত্রে অবশ্যই Business Series Laptop গুলো কেনার। কারন অন্যান্য ল্যাপটপের তুলনায় বিজনেস সিরিজের ল্যাপটপগুলো বেশি টেকসই হয়ে থাকে। বিজনেস সিরিজ ল্যাপটপ গুলো হচ্ছে যেমন: HP এর ক্ষেত্রে ELITBOOK, DELL এর ক্ষেত্রে LATITUDE, Lenovo এর ক্ষেত্রে THINKPAD ।
এসব ছাড়াও ল্যাপটপের Fingerprint, Bluetooth, Wi-fi, Lan port এইসব বিষয় গুলো ঠিক আছে কিনা সেটিও চেক করে নিবেন।
পুরাতন ল্যাপটপ কোথায় থেকে কিনবেন?
পুরাতন ল্যাপটপ কেনার জন্য আপনি অনেক দোকান পেয়ে যাবেন। ছোট বাজারে না হলে উপজেলা বা জেলা শহরের মার্কেট গুলোতে একটু খোঁজ নিলেই পুরাতন ল্যাপটপ বিক্রির দোকান খুঁজে পাবেন।
তাছাড়া অনলাইনে বিভিন্ন সাইট রয়েছে যেগুলোতে পুরাতন ল্যাপটপ কিনতে পাওয়া যায় যেমন: Bikroy.com।
তবে দোকান থেকে পুরাতন ল্যাপটপ কেনার আগে আশপাশে পরিচিত কেউ তাদের ল্যাপটপ বিক্রি করতে চায় কিনা তা দেখে নিবেন। কারন পরিচিত কারও কাছ থেকে পুরাতন ল্যাপটপ নিলে সেই ল্যাপটপের কন্ডিশন সম্পর্কে আপনি সব সত্য তথ্য গুলো পাবেন।
আরও পড়ুন:
- ১০ হাজার টাকার মধ্যে ভালো ৫টি মোবাইল ফোন
- ১৫ হাজার টাকার মধ্যে ভালো ৫টি মোবাইল ফোন ২০২৩
- বাংলাদেশে আপকামিং ৫টি মোবাইল ফোনের ফোন ও দাম ২০২৪
- বাংলাদেশে আইটেল বাটন মোবাইলের নাম ও দাম ২০২৪
- বাংলাদেশে সিম্ফনি বাটন মোবাইলের নাম ও দাম ২০২৪
- বাংলাদেশে ওয়ালটন বাটন মোবাইলের নাম ও দাম ২০২৪
- কিভাবে দুই পাশের কথা সহ যে কোনো ভিডিও কল রেকর্ড করবো?
পরিশেষে, আশাকরি আপনি যদি এই ‘পুরাতন ল্যাপটপ কেনার আগে কি কি বিষয় চেক করতে হবে?’ আর্টিকেলে উল্লিখিত বিষয় গুলো একটু সময় নিয়ে ভালোভাবে চেক করার পরে পুরাতন ল্যাপটপ কিনেন তাহলে ঠকার সম্ভবনা কমে যাবে।











বাংলাদেশে পুরাতন ল্যাপটপ কেনার আগে ১২ টি বিষয় খেয়ার রাখতে হবে। এগুলো যথাক্রমে –
১. বডির কন্ডিশন (ল্যাপটপের আউটলুকটা কেমন তা দেখবেন)
২. কত সালে মার্কেটে এসেছে চেক করবেন
৩. কোন ব্র্যান্ডের ল্যাপটপ কিনবেন তা খুব কৌশলের সাথে ঠিক করতে হবে
৪. পুরাতন ল্যাপটপ কোথা থেকে কিনবেন (শপ বা জায়গা না চিনলে আপনি ঠকবেন)
৫. ল্যাপটপের ব্যাটারি কন্ডিশন চেক করুন
৬. ডিসপ্লে ঠিক আছে কিনা দেখুন
৭. হার্ডডিস্ক ঠিক আছে কিনা দেখুন
৮. কিবোর্ডের অবস্থা কেমন দেখে নিন
৯. ওয়েবক্যাম থাকলে ওয়েবক্যাম টেস্ট করুন
১০. প্রসেসর জেনারেশন চেক করুন (দোকানদারের কথা শুনে ইমপ্রেসড হবেন না)
১১. সাউন্ড ঠিক আছে কিনা দেখুন
১২. ল্যাপটপ স্পেসিফিকেশন যাচাই করুন
এই তো গেল ১২ টা স্টেপ পুরাতন ল্যাপটপ কেনার আগে। এবার এই স্টেপগুলো প্রয়োগের অনেক টেকনিক এবং ধাপ আছে। যেমন, সাউন্ড টেস্ট, কিবোর্ড টেস্ট, ডিসপ্লে টেস্টের জন্য আলাদা টুলস আছে। আবার ল্যাপটপের ব্যাটারি কন্ডিশন যাচাই, ওয়েবক্যাম টেস্ট ইত্যাদি করার জন্যও আলাদা টুলস আছে।
তার সবকিছুই বিস্তারিত বর্ণনা করা হয়েছে এই আর্টিকেলে (ক্লিক করুন)।
https://www.defenserelatedpost.com/2024/09/Puraton-laptop-kenar-age-koronio.html
pls approve