শিশুদের মোবাইল আসক্তি কমানোর ১১টি ‍কার্যকরী উপায়

Join Telegram Channel

হাতে থাকা মোবাইলে এক ক্লিকেই দেখা যায় কি হচ্ছে বিশ্বে, তাইতো এই মোবাইল ফোন ব্যবহারকারীর সংখ্যাও পৌঁছেছে শীর্ষে।

বর্তমান সময়ে ছেলে কিংবা মেয়ে, শিশু থেকে বয়স্ক কমবেশি সবাই এই মোবাইল আসক্তিতে ভূগছেন। অনেকে চাইলেও এই আসক্তি থেকে মুক্ত হতে পারছেন না।

সেজন্য আমাদের আজকের আর্টিকেলের টপিক হচ্ছে কিভাবে শিশুরা মোবাইলের প্রতি আসক্ত হয়ে উঠে?, কিভাবে শিশুদের মোবাইল আসক্তি দূর করবেন?, শিশুদের মোবাইল আসক্তি দূর করার ১১টি কার্যকরী উপায় ইত্যাদি।

 

কিভাবে শিশুরা মোবাইলের প্রতি আসক্ত হয়ে উঠে?

 

শিশুদের অনেক ধরনের বাহানা বা আবদার থাকে, অনেক শিশুর প্রচুর জেদ থাকে, আবার কেউ অল্পতেই কেঁদে দেয়। শিশুদের এইসব বাহানা, জেদ এবং কান্না থামানোর সবচেয়ে সহজ একটি উপায় হচ্ছে মোবাইল ফোন।

আপনি যদি বাচ্চাদের হাতে একটি মোবাইল ধরিয়ে দেন দেখবেন সাথে সাথেই তাদের সব বাহানা, জেদ এবং কান্না শেষ হয়ে যায়। এই একই প্রক্রিয়া যখন দীর্ঘদিন অনবরত চলতে থাকে তখন একসময়ে গিয়ে বাচ্চারা মোবাইলের প্রতি প্রচুর পরিমাণে আসক্ত হয়ে উঠে।

এসব ছাড়াও আরও অনেক কারণ রয়েছে। যেমন: বাচ্চারা খাবার খাওয়ার সময় শর্ত দেয় যে মোবাইল দিলে খাবে তানাহলে খাবে না। আবার অনেক বাবা-মা মনে করেন বাচ্চারা বাইরে অন্য বাচ্চাদের সাথে খেলতে গেলে মারামারি বা কোনো গোন্ডগোল করবে তাই বাচ্চাদের হাতে মোবাইল ধরিয়ে দিয়ে ঘরেই বসিয়ে রাখে।

এভাবেই ধীরে ধীরে বাচ্চারা মোবাইল ফোনের প্রতি আসক্ত হয়ে উঠে।

 

শিশুরা মোবাইলের প্রতি আসক্ত হয়ে গেলে কি কি সমস্যা বা লক্ষণ দেখা দেয়?

 

শিশুরা যখন মোবাইল ফোনের প্রতি আসক্ত হয়ে যায় তখন তাদের কিছু নমুনা দেখা যায়। যেমন: তারা অল্প কিছুতেই রেগে যায়, আগে যেসব কাজ আগ্রহ সহকারে করত এখন সেইসব কাজের প্রতি অনীহা তৈরি হয়ে গিয়েছে, স্ক্রিন টাইম বেড়ে যাওয়ার কারণে তাদের শারিরীক ও মানসিক স্বাস্থ্যের উপরও নেতিবাচক প্রভাব পরে।

তাছাড়াও মেজাজ খিটখিটে হয়ে যায়, কাজে অমনোযোগী হয়ে উঠে, ঘুম কম হয় ইত্যাদি বিভিন্ন ধরনের লক্ষণ বা নমুনা দেখা দেয়।

 

শিশুদের মোবাইল আসক্তি কমানোর ১১টি ‍কার্যকরী উপায়

 

এবার আমরা আলোচনা করবো  কিভাবে শিশুদের মোবাইল আসক্তি দূর করবেন বা শিশুদের মোবাইল আসক্তি দূর করার ১১টি কার্যকরী উপায় নিয়ে।

শিশুদের মোবাইল আসক্তি কমানোর ১১টি উপায়:

১. ছোট বাচ্চার সামনে মোবাইল রাখবেন না: বাচ্চা যদি খুব ছোট হয়ে থাকে তাহলে তাদের সামনে মোবাইল ফোন রাখবেন না এবং তাদের সাথে নিয়ে দেখবেনও না। ছোট বাচ্চাদের সাথে মজার মজার গল্প ও হাসাহাসি করুন। এতে করে তারা মোবাইল থেকে দূরে থাকবে।

২. শিশুদের জন্য আকর্ষনীয় বই কিনেন: শিশুরা রং-চং আলা জিনিস অনেক পছন্দ করেন। তাই শিশুদের জন্য রং-বেরঙের ছবিওয়ালা বই কিনে আনুন এবং তাদের নাগালের মধ্যে রাখুন। এতে করে তারা সেইসব বইয়ের প্রতি মনোযোগী হয়ে উঠবে।

৩. কিশোর বয়সীদের বুঝান: আপনার বাচ্চা যদি কিছুটা বড় অর্থাৎ কিশোর হোন এবং মোবাইলের প্রতি আসক্ত হয়ে যান তবে তার মোবাইল ব্যবহার করা একেবারে বন্ধ করা অনেক কঠিন একটা কাজ। সেজন্য তাকে সারাদিনের একটি রুটিন তৈরি করে দিতে পারেন। সেই রুটিনে খাওয়া-দাওয়া, পড়াশোনা, বিশ্রাম, খেলাধুলা করার পাশাপাশি মোবাইল ব্যবহার করার একটি নির্দিষ্ট সময় যোগ করে দিবেন এবং তাকে এই রুটিন মেনে চলার জন্য আগ্রহী করে তুলবেন।

৪. বাচ্চাদের ভালো কাজের প্রশংসা করুন: আপনার বাচ্চা যদি কোনো ভালো কাজ করে তাহলে তাকে তার সেই কাজের জন্য প্রসংসা করুন এবং আরও ভালো কাজ করার জন্য উৎসাহ দিন। উদাহরণস্বরূপ: আপনার বাচ্চা যদি একটি ছড়া মুখস্থ করে আপনাকে শুনাতে যায় তাহলে তা মনোযোগ দিয়ে শুনুন এবং তার প্রশংসা করুন।

৫. ছবি আঁকা: বাচ্চাদের জন্য মার্কেট থেকে রঙিন কাগজ ও বিভিন্ন কালারের রঙ পেন্সিল কিনে এনে দিতে পারেন এবং সেগুলো তাদের ছবি আঁকতে বলতে পারেন। তারা আগ্রহ সহকারে রঙিন কাগজ ও রঙ পেন্সিল নিয়ে খেলবে ও ছবি আঁকবে।

৬. মজার মজার ধাঁধা বলুন: বাচ্চাদের মজার মজার ধাঁধা বলুন এবং তার সমাধান করতে দিন। এই ধরনের ধাঁধা বা পাজল গেম শিশুদের মানসিক বিকাশ করাতেও সহায়ক ভূমিকা পালন করে থাকে। উদাহরণস্বরূপ একটি ধাঁধা, ‘ডাব না খেলে কি হয়?’ (উত্তর: নারকেল)।

৭. ফোনের স্ক্রিন টাইমিং: আপনার মোবাইল ফোনটি যদি বাচ্চাদের দিতেই হয় তবে স্ক্রিন টাইমিং সেট করে দিবেন। এতে করে নির্দিষ্ট সময় পরে মোবাইল আপনা আপনি বন্ধ হয়ে যাবে।

৮. ইন্টারনেট সংযোগ বিচ্ছিন্ন: আপনার ঘরে বা ফোনে ইন্টারনেট সংযোগ বিচ্ছিন্ন রাখবেন। এতে করে মোবাইলে থাকা নির্দিষ্ট কয়েকটি ভিডিও দেখে বা গেমস খেলতে খেলতে তারা বিরক্ত হয়ে মোবাইল দেখা কমিয়ে দিবে।

৯. কঠিন পাসওয়ার্ড: আপনার মোবাইল ফোনে একটি কঠিন পাসওয়ার্ড সেট করে রাখুন। এতে করে আপনি ঘরে ফোন রেখে বাইরে কোথাও গেলেও বাচ্চারা ফোনের পাওয়ার্ড বা লক খুলতে পারবে না।

১০. ঘরে খেলার পরিবেশ তৈরি: ঘরের ভিতর খেলার জন্য আলাদা যায়গা ঠিক করে দিন এবং খেলার সরঞ্জাম কিনে দিন। এতে করে বাইরে খেলতে যেতে না পারলেও ঘরেই খেলতে পারবে।

১১. নিজেরা সময় দিন: বড়রা যদি তাদের ফ্রি সময়ে বাচ্চাদের সময় না দিয়ে ফোনে ডুবে থাকে তাহরে বাচ্চারা আর কি করবে। তাই বড়দের অর্থাৎ বাবা-মা’র উচিৎ বাচ্চাকে পর্যাপ্ত সময় দেওয়া, তাদের সাথে গল্প করা, মজা করা, তাদের পছন্দ-অপছন্দ, আগ্রহ-অনাগ্রহ সম্পর্কে জানা।

 

আরও পড়ুন:

 

পরিশেষে, মোবাইল জিনিসটা দেখতে ছোট হলেও এর প্রতি অতিরিক্ত আসক্তি খুবই খারাপ। তাই যতটা সম্ভব শিশুদের মোবাইলের নাগালের বাইরে রাখবেন। শুধু শিশুরাই নয় বরং বড়দেরও উচিত প্রয়োজন ছাড়া ফোনে বেশি সময় ব্যয় না করা।

আশাকরি এই, ‘শিশুদের মোবাইল আসক্তি কমানোর ১০টি ‍কার্যকরী উপায়’ আর্টিকেলটি আপনার একটু হলেও উপকারে আসবে।

Spread the love
Join Telegram Channel

হ্যালো "ট্রিকবিডিব্লগ" বাসী আমি ওসমান আলী। দীর্ঘদিন থেকে অনলাইনে লেখালেখির পেশায় যুক্ত আছি। Trick BD Blog আমার নিজের হাতে তৈরি করা একটি ওয়েবসাইট। এখানে আমি প্রতিনিয়ত ব্লগিং, ইউটিউবিং ও প্রযুক্তি সহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ টিপস এন্ড ট্রিক্স রিলেটেড আর্টিকেল প্রকাশ করে থাকি।

Leave a Comment