ত্বকের উজ্জ্বলতা বাড়ানোর ১৫টি সহজ ঘরোয়া উপায়

Join Telegram Channel

প্রত্যেকেই তাদের চেহারার বা ত্বকের উজ্জ্বলতা বাড়াতে চায়। আর ত্বকের উজ্জ্বলতা বাড়ানোর জন্য অনেকেই অনেক টাকা খরচ করে ফেস ওয়াশ সহ বিভিন্ন ধরনের ক্রিম ব্যবহার করে থাকে।

তাই অনেকেই জানতে চায় যে ত্বকের উজ্জ্বলতা বাড়ানোর জন্য ঘরোয়া কোনো উপায় আছে কিনা। সেজন্য আজকের এই আর্টিকেলটিতে আমি ত্বকের উজ্জ্বলতা বাড়ানোর ১৫টি সহজ ঘরোয়া উপায় আপনাদের সাথে সেয়ার করবো।

 

ত্বকের উজ্জ্বলতা বাড়ানোর ১৫টি ঘরোয়া উপায়

 

এবার আমরা ত্বকের উজ্জ্বলতা বাড়ানোর ১৫টি ঘরোয়া উপায় সম্পর্কে জানবো।

১. টমেটোর জুস পান করুন: নিয়মিত টমেটোর জুস পান করলে ত্বকের সুস্বাস্থ্য নিশ্চিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে থাকে। তাছাড়া গরমের কারণে সবচেয়ে বেশি যে সমস্যাটি দেখা দেয় তা হচ্ছে ত্বকের লোমকূপ বড় হয়ে যায়। আপনি নিয়মিত টমেটোর জুস পান করলে এই সমস্যা থেকেও পরিত্রাণ পাবেন। এবং টমেটোর জুস পান করলে ব্রণ, রোদে পোড়া ভাব ও দূর করতেও কাজে আসবে।

 

২. গাজরের জুস পান করুন: প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন এ থাকে গাজরের জুসের মধ্যে যা ত্বকের বলিরেখা প্রতিরোধ করার ক্ষেত্রে কাজে আসে।

 

৩. বেদানার জুস পান করুন: বেদানার জুসের অনেক গুণাগুণ রয়েছে। তারমধ্যে কয়েকটি হচ্ছে, ত্বকের উজ্জ্বলতা বাড়ায় বা ত্বককে ফর্সা করে, বয়সের ছাপ দূর করে, তারুণ্য ধরে রাখে লম্বা সময় পর্যন্ত, রক্ত পরিষ্কার করে ও কোষের কোলাজেন তৈরিতেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে থাকে এই বেদানার জুস।

 

৪. তরল দুধ: কাঁচা দুধের অনেক কার্যকারীতা রয়েছে। যেমন: লোমকূপের ময়লা দূর করে কাঁচা দুধ, কটন বল দিয়ে মুখের উপর কাঁচা দুধ লাগাতে পারেন, দুধ স্বাস্থ্য ও ত্বক দুটোর জন্যই বেশ উপকারী, কাঁচা দুধ ত্বক নরম ও কোমল করে, অনেকেই কাঁচা দুধ দিয়ে গোসল করে, অনেকে ত্বক পরিষ্কার করার জন্য কাঁচা তরল দুধের ব্যবহার করে থাকে। এসব ছাড়াও কাঁচা দুধ ত্বকের আর্দ্রতা বাড়াতেও অনেক গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে থাকে।

৫. মধু: মধু ত্বকের উজ্জ্বলতা বাড়াতে খুবই গুরুত্বপূর্ণ একটি প্রাকৃতিক উপাদান। মধু ত্বকের কালচে ভাব ও বলিরেখা দূর করার পাশাপাশি ত্বককে নরম রাখতেও কার্যকরী ভূমিকা পালন করে। এসব ছাড়াও মধু ব্রণের জীবাণু ধ্বংস করার ক্ষেত্রেও অনেক কার্যকরী। আপনি যদি অল্প সময়ের ভিতরেই ত্বকের উজ্জ্বলতা বাড়াতে চান তবে মধুর বিকল্প হিসেবে অন্য তেমন কিছু নেই। আপনি শুধু মধু মুখে ব্যবহার করতে পারেন অথবা যদি বেশি ফলাফল চান তবে মধুর সাথে আরও দই, দুধ, পেঁপে, কলা, লেবুর রস মিশিয়ে নিয়ে মুখের উপর লাগাতে পারেন।

 

৬. টক দই: একটা সময় পর ত্বক বুড়িয়ে যায় বা ত্বক ঝুলে যায়। ত্বকের এই বুড়িয়ে যাওয়া বা ঝুলে যাওয়া প্রতিরোধ করার ক্ষেত্রে টক দই অনেক কার্যকরী। শসা ব্লেন্ড করে টক দইয়ের সাথে মিশিয়ে ত্বকে ব্যবহার করলে ত্বকের অ্যান্টি-অক্সিডেন্টের মাত্রা বাড়াতে সাহায্য করে এবং স্কিন টোন ঠিক করে।

 

 ৭. চা পাতা: এক চা চামচ মধু, আধা চা চামচ লেবুর রসের সাথে দুই চা চামচ চা পাতাকে ভালো করে মিশিয়ে নিয়ে একটি ঘন পেস্ট তৈরি করুন এবং তা মুখের উপর ব্যবহার করুন। ১৫ মিনিট অপেক্ষা করার পর তা ধুয়ে নিবেন। এতে করে আপনার ত্বক কোমল হবে এবং ত্বক রুক্ষ ও শুষ্ক থাকলে তা থেকেও পরিত্রাণ পাবেন।

 

৮. কলা: একটি কলা খোঁসা ছাড়িয়ে তাতে পরিমাণ মতো দুধ দিয়ে মিশিয়ে ভালোভাবে মিহি করে একটি পেস্ট তৈরি করে নিবেন। এবং এই পেস্ট মুখে ব্যবহার করলে খুব অল্প সময়ের ভিতর ত্বকে উজ্জ্বলতা বাড়বে।

 

৯. শসা: শসা ত্বকের উজ্জ্বলতা বৃদ্ধি করতে অনেক কার্যকরী। এ জন্য আপনাকে তিন টেবিল চামচ শসার রসের সাথে এক টেবিল চামচ লেবুর মিশিয়ে নিয়ে এই মিশ্রণটিকে ভালো একটি মুখবন্ধ কাঁচের বয়ামের ভিতর সংরক্ষণ করে রাখবেন। এবং প্রতিদিন কয়েক বার করে এই মিশ্রণটি দিয়ে মুখ মুছে নিবেন। এতে করে আপনার ত্বকের উজ্জ্বলতা বাড়ার পাশাপাশি আপনার ত্বককে কোমল রাখতে সহায়তা করবে।

 

১০. পালং জুস: পালং জুসে রয়েছে ভিটামিন-ই, ভিটামিন-কে, ভিটামিন-সি যা ত্বকের সুরক্ষা নিশ্চিত করার পাশাপাশি ত্বককে ফর্সা করতেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

 

১১. চাল ধোয়া পানি: ভাত রান্না করার পূর্বে চাল ধোয়া পানি গুলো ফেলে দেওয়া হয়। এই চাল ধোয়া পানিতে থাকে ভিটামিন-বি যা ত্বকের উজ্জ্বলতা বৃদ্ধি করতে সহায়তা করে। চাল ধোয়া পানিতে প্রচুর পরিমাণে ক্ষার জাতীয় পদার্থ থাকায় তা ত্বক পরিষ্কার করতেও কাজে আসে। চাল ধোয়া পানির সাথে যদি ১ টেবিল চামচ মুলতানি মাটি ও ১ টেবিল চামচ মেথি পাউডার ভালোভাবে মিশিয়ে নিয়ে মুখে লাগান এবং ১০ মিনিট পরে তুলে বা ধুয়ে ফেলবেন। এতে করে ত্বকের যে তৈলাক্ত ভাব রয়েছে তা দূর হবে। এছাড়ও চাল ধোয়া পানির সাথে লেবুর রস মিশিয়ে কয়েক দিন ব্যবহার করলে মেছতার দাগও দূর হয় এবং চাল ধোয়া পানি দিয়ে মুখ ধুলে ত্বকের উজ্জ্বলতাও বৃদ্ধি পায়।

 

১২. বিটরুটের জুস পান করুন: বিটরুটের জুস পান করার ফলে শরীরের রক্ত পরিশোধন হয় ও ত্বকের উজ্জ্বলতা বৃদ্ধি করতেও কাজে আসে। কারণ এক গ্লাস বেগুনী রংগের বিটরুটের জুসের মধ্যে বিভিন্ন ধরনের পুষ্টি উপাদান থাকে। যেমন: ফলিক এসিড, আয়রন, জিংক ও ভিটামিন-সি।

 

১৩. মসুর ডাল: মসুর ডাল বেশ কিছু সময় পানিতে ভিজিয়ে রেখে তা বেটে নিয়ে ঘন একটি পেস্ট তৈরি করে নিবেন। তারপর তা মুখে লাগিয়ে দিবেন এবং না শুকানো পর্যন্ত অপেক্ষা করবেন। পেস্ট মুখে লাগানোর পরে কথা না বলাই বেশি ভালো। পেস্ট শুকিয়ে গেলে ধুয়ে ফেলবেন। এতে করে ত্বকের উজ্জ্বলতা বৃদ্ধি পাবে।

 

১৪. পাতি লেবুর রস: প্রাকৃতিক ব্লিচ হিসেবে অনেকেই এই পাতিলেবুর রস ব্যবহার করে থাকেন। সরাসরি পাতিলেবুর মুখে ব্যবহারে মুখ জ্বালাপোড়া করতে পারে। এর জন্য এক চামচ পাতিলেবুর রসের সাথে এক চা চামচ চিনি মিশিয়ে তা সার্কুলার মোশনে ত্বকে ম্যাসাজ করতে হবে। চিনি যখন একদম গলে যাবে তখন মুখ ধুয়ে ফেলবেন। এতে ত্বকের উজ্জ্বলতা বৃদ্ধি পাবে এবং ত্বকের অতিরিক্ত যে তৈলাক্ত ভাব তা দূর হবে। তবে পাতিলেবুর রস মুখে ব্যবহার করার পরে অবশ্যই ভালো একটি ময়েশ্চরাইজার ব্যবহার করবেন।

 

১৫. চালের গুড়া: স্ক্র্যাব হিসেবে চালের গুড়া ভালো কাজ করে থাকে। চালের গুড়া ক্লিনজারের সঙ্গে মিশিয়ে নিয়ে ব্যবহার করলেও ভালো ফলাফল পাবেন। অথবা চালের গুড়ার সাথে ভাতের মাড় মিশিয়ে নিয়েও স্ক্র্যাব তৈরি করতে পারবেন। এই স্ক্র্যাব ব্যবহার করলে ত্বকের মরা চামরা ও ত্বকের ভিতর থেকে ময়লা পরিষ্কার করবে। এছাড়াও আপনি যদি লেবুর রস, টক দই, ডিমের সাদা অংশ চালের গুড়ার সাথে মিশিয়ে নিয়ে ব্যবহার করলে মেছতার দাগ ও ব্রণ দূর করবে এবং ত্বকের উজ্জ্বলতা বাড়াতেও সহায়তা করবে।

 

আরও পড়ুন:

 

পরিশেষে, আশাকরি এই ‘ত্বকের উজ্জ্বলতা বাড়ানোর ১৫টি সহজ ঘরোয়া উপায়’ আর্টিকেলে উল্লিখিত পদ্ধতি গুলো আপনার ত্বকের উজ্জ্বলতা বৃদ্ধি করতে সহায়তা করবে।

Spread the love
Join Telegram Channel

হ্যালো "ট্রিকবিডিব্লগ" বাসী আমি ওসমান আলী। দীর্ঘদিন থেকে অনলাইনে লেখালেখির পেশায় যুক্ত আছি। Trick BD Blog আমার নিজের হাতে তৈরি করা একটি ওয়েবসাইট। এখানে আমি প্রতিনিয়ত ব্লগিং, ইউটিউবিং ও প্রযুক্তি সহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ টিপস এন্ড ট্রিক্স রিলেটেড আর্টিকেল প্রকাশ করে থাকি।

Leave a Comment