আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচন ২০২৬ প্রায় আমাদের দোরগড়ায় এসে হাজির হয়েছে। কিন্তু এখনো অনেক মানুষ কিছু বিষয় বুঝে উঠতে পারছেন না যে এবার কি একদিনে দুই ভোট হবে?, ভোট দিতে কি ভোট কেন্দ্রে দুইবার যেতে হবে?, ভোট দেওয়ার জন্য কি দুইবার লাইনে দাড়াতে হবে? ইত্যাদি।
এ জাতীয় নানা দ্বিধা দন্ধে রয়েছে সাধারণ মানুষ।
সেজন্য আজকের লেখায় আপনাদের দেখাবো যে কিভাবে ভোট দিবেন বা ভোট দেওয়ার সঠিক নিয়ম গুলো কি সে বিষয় নিয়ে।
তাই আর দেরী না করে চলুন মূল লেখা শুরু করা যাক।
কীভাবে ভোট দিবেন? ভোট দেওয়ার সঠিক নিয়ম A to Z
আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় নির্বাচন ও গণভোটের দিন কিভাবে ভোট দিবেন ও ভোট দেওয়া সঠিক নিয়ম গুলো নিচে দেওয়া হলো:
- ভোটের দিন সকাল বেলা আপনার কাঙ্খিত ভোট প্রদান কেন্দ্রে এসে হাজির হবেন।
- তারপর মহিলা ও পুরুষ আলাদা আলাদা লাইনে দাড়াবেন।
- লাইনের শুরুতে আপনার ভোটার ক্রমিক নাম্বার উল্লেখ করে লেখা থাকবে যে আপনি কোন কক্ষে ভোট দিবেন।
- ভোট কেন্দ্রে কোন কক্ষে আপনি ভোট দিবেন সে বিষয়ে আনসাররাও আপনাকে সহায়তা করবে।
- ভোট কেন্দ্রে ভোট কক্ষ খুঁজে পাওয়ার পর সোজা চলে যাবেন আপনার ভোট কক্ষে। কক্ষ গুলোর বাইরেও ভোটার ক্রমিক নম্বর গুলো লেখা থাকবে।
- ভোট কক্ষে প্রবেশ করার পর প্রথমে একজন পোলিং অফিসার আপনার নাম ও ভোটার নম্বর জিজ্ঞেস করবে।
- আপনার চেহারার সাথে ভোটার তালিকায় থাকা ছবির সাথে মিলিয়ে থাকবে।
- প্রথম পোলিং অফিসার আপনার নাম ও ভোটার নম্বর জোরে উচ্চারণ করবেন যাতে কক্ষে থাকা প্রিজাইডিং অফিসার ও পোলিং এজেন্টরা তা শুনতে পারে।
- তারপর দ্বিতীয় পোলিং অফিসার আপনার আঙ্গুলে একটি অমোচনীয় কালী লাগিয়ে দিবে যাতে বুঝা যায় যে আপনি ভোট দিয়েছেন।
- এরপর আপনাকে যেতে হবে সহকারী প্রিজাইডিং অফিসারের টেবিলে। সেখানে প্রিজাইডিং অফিসার আপনার ভোটার নম্বর লিখে আপনাকে দুটো ব্যালট পেপার দিবে।
- একটি হচ্ছে সংসদ সদস্য নির্বাচনের ব্যালট পেপার ও অন্যটি গণভোট দেওয়ার ব্যালট পেপার।
- সংসদ সদস্য নির্বাচনের ব্যালট পেপারের রং সাদা ও গণভোট দেওয়ার ব্যালট পেপারের রং হচ্ছে গোলাপি।
- ব্যালট পেপার নেওয়ার সময় আপনাকে সাক্ষর বা টিপসিই দিতে হবে।
- ব্যালট পেপার গুলোর সাথে সীল মারার জন্য দেওয়া হবে একটি রাবার স্ট্যাম্প।
- আপনি দুটো ব্যালট পেপার ও রাবার স্ট্যাম্প নিয়ে একটি গোপণ কক্ষে যাবেন।
- এবার কিন্তু সময় সাশ্রয় করার জন্য অনেক ভোট কেন্দ্রেই দুটো গোপণ কক্ষ থাকবে। যাতে করে একই সময়ে দুজোন ভোটার দুটো গোপণ কক্ষে একই সঙ্গে ভোট দিতে পারে।
- গণভোট দেওয়ার গোলাপি ব্যালট পেপারে “হ্যা” বা “না” দুটো অপশন থাকবে। আপনি যদি সংস্কারের বা পরিবর্তনের পক্ষে থাকেন তাহলে “হ্যা” সীল মারবেন। অথবা আপনি যদি সংস্কার বা পরিবর্তনের বিপক্ষে থাকেন তাহলে “না” তে সীল মারবেন।
- তারপর ব্যালট পেপারটি লম্বালম্বি ভাজ করুন যাতে সীলের কালি অন্যটি গিয়ে না লাগে। এরপর আড়াআড়ি ভাজ করবেন।
- সংসদ সদস্য নির্বাচন করার জন্য সাদা ব্যালট পেপারে আপনার পছন্দের ব্যাক্তি বা দলের মার্কায় সীল মারুন। সীলটি যেন নির্ধারিত ঘরের বাইরে না যায়। সীলটি ঘরের বাইরে পড়লে আপনার মূল্যবান ভোটটি কিন্তু বাতিল হিসেবে বিবেচিত হবে।
- সীল মারা শেষে এই ব্যালট পেপারটিও প্রথমে লম্বালম্বি তারপর আড়াআড়ি ভাবে ভাজ করে নিবেন। যাতে সীলের কালি অন্য মার্কায় না লাগে।
- এবার গোপণ কক্ষ থেকে বের হয়ে রাবার স্ট্যাম্পটি সহকারী প্রিজাইডিং অফিসারকে ফেরত দিন।
- এবং একই ব্যালট বক্সে আপনার হাতে থাকা ভাজ করা ব্যালট পেপার দুইটি ফেলুন।
ব্যাস আপনার কাজ শেষ।
গণভোট কি এবং কেন?
গণভোট হচ্ছে ”হ্যা” ও ”না” ভোট। যদি আপনি সংস্কার ও পরিবর্তন চান তবে গণভোটে “হ্যা” তে সীল মারতে হবে। অথবা আপনি যদি সংস্কার ও পরিবর্তন না চান তবে গণভোটে “না” তে সীল মারতে হবে এটিই হচ্ছে গণভোট।
গণভোটের চারটি প্রশ্ন কি কি?
আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ২০২৬ এ গণভোটের চারটি প্রশ্ন নিচে দেওয়া হলো:
(ক) নির্বাচনকালীন তত্ত্বাবধায়ক সরকার, নির্বাচন কমিশন এবং অন্যান্য সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান জুলাই সনদে বর্ণিত প্রক্রিয়ার আলোকে গঠন করা হইবে।
(খ) আগামী জাতীয় সংসদ হইবে দুই কক্ষ বিশিষ্ট ও জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দলগুলোর প্রাপ্ত ভোটের অনুপাতে ১০০ সদস্য বিশিষ্ট একটি উচ্চকক্ষ গঠিত হইবে এবং সংবিধান সংশোধন করিতে হইলে উচ্চকক্ষের সংখ্যাগরিষ্ঠ সদস্যের অনুমোদন দরকার হইবে।
(গ) সংসদে নারী প্রতিনিধি বৃদ্ধি, বিরোধী দল হইতে ডেপুটি স্পীকার ও সংসদীয় কমিটির সভাপতি নির্বাচন, মৌলিক অধিকার, বিচার বিভাগের স্বাধীনতা, স্থানীয় সরকার, প্রধানমন্ত্রীর মেয়াদ, রাষ্ট্রপতির ক্ষমতাসহ তফসিলে বর্ণিত যে ৩০টি বিষয়ে জুলাই জাতীয় সনদে ঐকমত্য হইয়াছে- সেগুলো বাস্তবায়নে আগামী সংসদ নির্বাচনে বিজয়ী রাজনৈতিক দলগুলো বাধ্য থাকিবে।
(ঘ) জুলাই জাতীয় সনদে বর্ণিত অপরাপর সংস্কার রাজনৈতিক দলগুলোর প্রতিশ্রুতি অনুসারে বাস্তবায়ন করা হইবে।
জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট ২০২৬ নিয়ে কিছু সাধারণ জিজ্ঞাসা
নিচে জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট ২০২৬ নিয়ে মানুষ জানতে চায় এমন কিছু প্রশ্ন ও উত্তর নিচে দেওয়া হলো:
জাতীয় সংসদ নির্বাচন ২০২৬ কবে অনুষ্ঠিত হবে?
উত্তর: জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে ১২ ই ফেব্রুয়ারী ২০২৬ সালে।
ভোট কেন্দ্রে কয়টি ব্যালট পেপার দিবে এবং কি কি?
উত্তর: ভোট কেন্দ্রে দুইটি ব্যালট পেপার দেওয়া হবে। যথা: একটি হবে জাতীয় সংসদ নিবার্চনের ও অন্যটি হবে গণভোট দেওয়ার ব্যালট পেপার।
জাতীয় নির্বাচন ও গণভোটের ব্যালট পেপার কেমন হবে?
উত্তর: জাতীয় নির্বাচনের ব্যালট পেপার হবে সাদা রংয়ের এবং গণভোটের ব্যালট পেপার হবে গোলাপি রংয়ের।
ভোটের ব্যালট পেপার কিভাবে ভাজ করতে হয়?
উত্তর: ব্যালট পেপারে সীল মারার পর পেপারটিকে প্রথমে লম্বালম্বি ভাবে ভাজ করবেন। তারপর সেটিকে আবার আড়াআড়ি ভাবে ভাজ করবেন।
কীভাবে ভোট দিবেন? ভোট দেওয়ার সঠিক নিয়ম (ভিডিও)
কীভাবে ভোট দিবেন? ভোট দেওয়ার সঠিক নিয়ম নিচে ভিডিও সহকারে দেওয়া হলো:
আরও পড়ুন:
পরিশেষে, আশাকরি এই ‘কীভাবে ভোট দিবেন? ভোট দেওয়ার সঠিক নিয়ম A to Z [2026]’ আর্টিকেলটি আপনার একটু হলেও কাজে লেগেছে।


