প্রত্যেক মাসে মাসে সবচেয়ে বড় দুশ্চিন্তার এবটি কারণ হয়ে দাঁড়ায় বিদ্যুৎ, গ্যাস, পানি এবং ইন্টারনেটের মতো নিত্যপ্রয়োজনীয় বিলগুলো পরিশোধ করা। বিল পরিশোধ করার জন্য দীর্ঘ লাইন ধরে ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করতে হয়।
কিন্তু ডিজিটাল এই যুগে এসে বিভিন্ন ধরনের বিল দেওয়ার জন্য দীর্ঘ লাইন ধরে ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করার দুশ্চিন্তা মাথা থেকে ঝেড়ে ফেলুন।
এই ঝামেলা থেকে চিরতরে মুক্তি দিতে বাংলাদেশী মোবাইল ব্যাংকিং সেবা ‘নগদ (Nagad)’ নিয়ে এসেছে ওয়ান-স্টপ সলিউশন।
ফলে আলাদা আলাদা বিলের জন্য আলাদা জায়গায় যাওয়ার ঝামেলা থেকে মুক্তি পাওয়ার পাশাপাশি বিদ্যুৎ থেকে গ্যাস সব ধরনের ইউটিলিটি বিল নগদের মাধ্যেমে ঘরে বসেই পরিশোধ করতে পারবেন।
এই নিবন্ধে আমরা ‘বিদ্যুৎ থেকে গ্যাস সব ধরনের ইউটিলিটি বিল নগদে দেওয়ার সহজ নিয়ম’ সম্পর্কে জানবো।
তাই আর দেরী না করে চলুন অনলাইনের মাধ্যমে নগদ দিয়ে যে কোন বিল পরিশোধ করার নিয়ম গুলো দেখে নেই।
নগদে বিদ্যুৎ, গ্যাস, পানি ও ইন্টারনেটের বিল দেওয়ার কি কি কাগজপত্র প্রয়োজন হয়?
নগদে বিদ্যুৎ, গ্যাস, পানি ও ইন্টারনেটের বিল দেওয়ার জন্য যেসব কাগজপত্র প্রয়োজন হয় তা নিচে টেবিল আকারে দেওয়া হলো:
| ক্রমিক নং: | বিলের ধরন | যেসব কাগজপত্র প্রয়োজন |
| ১ | বিদ্যুৎ বিল | বিদ্যুৎ বিল দিতে কাস্টমার আইডি নম্বর এবং বিলের মাস প্রয়োজন হবে যা আপনি বিলের কাগজেই পেয়ে যাবেন। |
| ২ | গ্যাস বিল | গ্যাস বিল দিতে কাস্টমার কোড বা অ্যাকাউন্ট নম্বর প্রয়োজন হয়। |
| ৩ | পানি বিল (WASA) | পানির বিল দিতে অ্যাকাউন্ট নম্বর প্রয়োজন হয়। |
| ৪ | ইন্টারনেট বিল | ইন্টারনেটের বিল দেওয়ার জন্য সার্ভিস প্রোভাইডারের নাম এবং ইউজার আইডি প্রয়োজন হয়। |
নগদ অ্যাপের মাধ্যমে বিদ্যুৎ, গ্যাস, পানি ও ইন্টারনেট বিল দেওয়ার পদ্ধতি
স্মার্টফোন ব্যবহারকারীদের জন্য এটি একটি দারুন সুযোগ। কারন স্মার্টফোনে নগদ অ্যাপ এর মাধ্যমে নিম্নোক্ত নিয়ম অনুসারে খুব সহজে বিদ্যুৎ, গ্যাস, পানি ও ইন্টারনেট সহ যে কোন বিল পরিশোধ করতে পারবেন।
চলুন ধাপে ধাপে নগদ অ্যাপের মাধ্যমে বিল দেওয়ার পদ্ধতি দেখে নেই:
ধাপ ১: প্রথমে আপনার ফোনে থাকা নগদ অ্যাপে কাঙ্খিত ফোন নম্বর ও পিন দিয়ে লগ ইন করুন। অ্যাকাউন্ট না থাকলে একটি নতুন নগদ অ্যাকাউন্ট তৈরি করুন।
ধাপ ২: হোম স্ক্রিন থেকে ‘বিল পে (Bill Pay)’ নামক যে অপশনটি রয়েছে সেখানে ক্লিক করুন।
ধাপ ৩: এবার আপনি কোন ধরনের বিল (যেমন: বিদ্যুৎ, গ্যাস, পানি, ইন্টারনেট বা শিক্ষা প্রতিষ্ঠান) দিতে চাচ্ছেন তা সিলেক্ট করুন।
ধাপ ৪: সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের নাম সিলেক্ট করুন (যেমন: বিদ্যুতের জন্য DPDC/DESCO, গ্যাসের জন্য Titas, পানির জন্য WASA ইত্যাদি)।
ধাপ ৫: আপনার কাঙ্খিত বিলের কাগজে থাকা কাস্টমার আইডি বা অ্যাকাউন্ট নাম্বার দিন। (অনেক ক্ষেত্রে বিলের মাস এবং সাল সিলেক্ট করতে হতে পারে। সেক্ষেত্রে যেটা চাইবে সেটা দিবেন)।
ধাপ ৬: এবার আপনার বিলে থাকা টাকার পরিমাণ দেখে নিয়ে তা বসিয়ে দিন এবং আপনার নগদ অ্যাকাউন্টের পিন (PIN) দিন।
ধাপ ৭: সবশেষে আপনার স্ক্রিনের নিচের অংশে ট্যাপ করে ধরে রাখুন। পেমেন্ট সফল হলে আপনি একটি ডিজিটাল রিসিট পাবেন সেখানে আপনি যে বিল পরিশোধ করলেন সে সম্পর্কে বিস্তারিত প্রমাণ থাকবে।
উল্লিখিত ধাপ গুলো সঠিকভাবে পালন করলে আপনি নগদ অ্যাপের মাধ্যমে যেকোন বিল খুব সহজেই দিতে পারবেন, তাও আবার ঘরে বসেই।

বাটন ফোন বা USSD কোডের মাধ্যমে বিদ্যুৎ, গ্যাস, পানি ও ইন্টারনেট বিল দেওয়ার পদ্ধতি
আপনার কাছে যদি কোন স্মার্টফোন না থাকে তবে নগদ অ্যাপ ব্যবহার করে কোন ইউটিলিটি বিল পরিশোধ করতে পারবেন। তবে চিন্তার কিছু নেই, নিম্নোক্ত নিয়ম অনুসারে আপনার হাতে থাকা বাটন ফোন বা USSD কোডের মাধ্যমে বিদ্যুৎ, গ্যাস, পানি ও ইন্টারনেটের বিল দিতে পারবেন।
বাটন ফোন বা USSD কোডের মাধ্যমে বিদ্যুৎ, গ্যাস, পানি ও ইন্টারনেট বিল দেওয়ার পদ্ধতি নিচে ধাপে ধাপে দেওয়া হলো:
ধাপ ১: প্রথমে আপনার বাটন ফোনের ডায়াল প্যাডে গিয়ে *১৬৭# ডায়াল করুন।
ধাপ ২: তারপন মেনু থেকে ৫ নম্বর অপশনটি অর্থাৎ ‘Bill Pay’ অপশনটি সিলেক্ট করুন।
ধাপ ৩: এবার সেখানে বিলের ধরন নির্বাচন করুন (যেমন: ১ চেপে Electricity, ২ চেপে Gas ইত্যাদি)।
ধাপ ৪: আপনি যে ধরনের বিল দিতে চাচ্ছেন সেই বিল দাতা প্রতিষ্ঠানটি খুঁজে নিয়ে তার নম্বর দিন।
ধাপ ৫: এরপর কাস্টমার আইডি/অ্যাকাউন্ট নম্বরটি সেখানে প্রদান করুন।
ধাপ ৬: সবশেষে আপনার পিন (PIN) দিয়ে কনফার্ম করুন। সফল হলে ফিরতি মেসেজে কনফার্মেশন পাবেন।
কনফার্মেশন মেসেজ পেলেই বুঝবেন যে আপনি বিদ্যুৎ, গ্যাস, পানি ও ইন্টারনেট যে বিলটি নগদের মাধ্যমে পরিশোধ করতে চেয়েছিলেন তা পরিশোধিত হয়ে গেছে।
কেন নগদের মাধ্যমে বিল পরিশোধ করবেন?
নগদের মাধ্যমে ’বিল পে’ করলে বেশ কিছু সুবিধা রয়েছে যেমন:
১. সব ধরনের বিল এক প্ল্যাটফর্মে: বিদ্যুৎ (DPDC, DESCO, BPDB, NESCO, REB), গ্যাস (Titas, Jalalabad, Karnaphuli), পানি (WASA), ইন্টারনেট এবং শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের বেতনসহ সব ধরণের পেমেন্ট এক অ্যাপেই করতে পারবেন।
২. নিরাপদ ও তাৎক্ষণিক: যে কোন বিল পরিশোধ করার সাথে সাথেই প্রমাণ স্বরূপ একটি ডিজিটাল কনফার্মেশন পাওয়া যায় এবং পেমেন্ট স্লিপটি অ্যাপিই সংরক্ষিত থাকে। ফলে পরবর্তীতে যে কোন সময় তা চেক করতে পারবেন।
৩. অতিরিক্ত খরচ ও সময় সাশ্রয়: বিভিন্ন ধরনের বিল দেওয়ার জন্য বাইরে যাওয়ার যাতায়াত খরচ বাঁচে এবং ব্যাংকের দীর্ঘ লাইনে দাঁড়ানোরও কোন প্রয়োজন হয় না। তাছাড়াও অনেক ক্ষেত্রে বিল পে-তে আকর্ষণীয় ক্যাশব্যাক বা ডিসকাউন্টও পাওয়া যায়।
৪. নগদে ২৪/৭ সেবা: নগদ এর মাধ্যমে দিন বা রাত যেকোনো সময়, এমনকি আপনি ছুটির দিনেও যে কোন বিল নগদের মাধ্যমে পরিশোধ করতে পারবেন।
উল্লিখি সুবিধা গুলো পাওয়ার জন্যই আপনি চাইলে নগদের মাধ্যমে যে কোন ধরনের বিল পরিশোধ বা দিতে পারেন।
৩ টি প্রো টিপস:
১. বিলার তথ্য সেভ করে রাখুন প্রতি মাসে একই তথ্য বার বার টাইপ করতে হবে না।
২. যে কোন বিল পরিশোধ করার সাথে সাথেই ভবিষ্যতের জন্য প্রমাণ স্বরূপ একটি ডিজিটাল রিসিট ডাউনলোড করে রাখুন।
৩. অনেক সময় নগদে নির্দিষ্ট বিলের ওপর ক্যাশব্যাক বা ডিসকাউন্ট দেয় অফার দিয়ে থাকে, তাই পেমেন্ট করার আগে নগদ অ্যাপের ‘অফার‘ সেকশনটি দেখে নিতে পারেন।
আরও পড়ুন:
- বাটন মোবাইল দিয়ে নগদ থেকে টাকা সেন্ড মানি করার নিয়ম
- নগদ একাউন্টের পিন রিসেট করার নতুন নিয়ম
- বাটন মোবাইল দিয়ে নগদ থেকে যেকোনো সিমে রিচার্জ করার নিয়ম
পরিশেষে, আশাকরি এই “বিদ্যুৎ থেকে গ্যাস সব ধরনের ইউটিলিটি বিল নগদে দেওয়ার সহজ নিয়ম” আর্টিকেলে উল্লিখিত উপায় গুলো ব্যবহার করে আপনি স্মার্টফোন বা বাটন ফোন দুই ফোন দিয়েই নগদের মাধ্যেমে খুব সহজে যে কোন বিল পরিশোধ করতে পারবেন।



