ঈদ হলো মুসলমানদের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব। মুসলমানরা বছরে দুটি ঈদ পালন করে থাকে। যথা:
- ঈদুল ফিতর ও
- ঈদুল আযহা।
দুটি ঈদই পালিত হয় ত্যাগ তিতিক্ষার মাঝ দিয়ে খুশির বন্যা বইয়ে দিয়ে।
একটি সিয়াম সাধনা ও আরেকটি সম্পদের ত্যাগের মাধ্যমে।
ঈদ কি বা ঈদ কাকে বলে?
‘ঈদ’ হচ্ছে একটি আরবি শব্দ। যার বাংলা শাব্দিক অর্থ হচ্ছে ‘ফিরে আসা’। ঈদ যেহেতু আনন্দের বার্তা নিয়ে মুসলমানের দ্বারে দ্বারে বার বার ফিরে আসে, সঙ্গত কারণেই এ আনন্দকে ঈদ হিসেবে নামকরণ করা হয়েছে। তাই রোজাদার মুসলমান মাসব্যাপী রোজা পালনের পর শাওয়াল মাসের প্রথম তারিখ আল্লা তা’আলার হুকুম পালনে ঈদ বা আনন্দ উদযাপন করে থাকে।
ঈদের সূচনা কিভাবে হলো?
হাদিসে এসেছে, ‘রাসুলুল্লাহ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম যখন মদিনাতে আগমন করলেন, তখন মদিনায় দুটো দিবস ছিলো, যে দিবসে তারা (মদিনার লোকজন) খেলাধুলা করতো। রাসুলুল্লাহ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম জিজ্ঞেস করলেন, এ দুই দিনের তাৎপর্য কী? মদিনাবাসীগণ বললেন, আমরা এ দুই দিনে (আনন্দ) খেলাধুলা করি। তখন রাসুলুল্লাহ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন, ‘আল্লাহ তা’আলা এ দুই দিনের পরিবর্তে তোমাদের এর চেয়ে শ্রেষ্ঠ দুুেটা দিন দান করেছেন। তার একটি হলো ঈদুল আযহা ও আরেকটি হলো ঈদুল ফিতর।’ (আবু দাউদ)
এই হচ্ছে ঈদের সূচনা।
এরপর থেকেই মুসলমানরা দুই ঈদ আদায় করে থাকেন।
ঈদুল ফিতর নাম রাখার তাৎপর্য কী?
ঈদুল ফিতর দ্বারা এ দিবসের নাম রাখার তাৎপর্য হচ্ছে আল্লাহ তা’আলা এ দিনে তার রোজাদার বান্দাদের নিয়ামত ও অনুগ্রহ দ্বারা বার বার ধন্য করেন এবং তাঁর ইহসানের দৃষ্টি বার বার দান করেন। কেননা মুমিন বান্দা আল্লাহর নির্দেশে রমজানে পানাহার ত্যাগ করেছেন আবার রমজানের পর তাঁরই পানাহারের আদেশ পালন করে থাকেন। তাই দীর্ঘ একমাস সিয়াম সাধনার পর ঈদুল ফিতরের মাধ্যমে বান্দাকে আল্লাহ তায়ালা পানাহারে মুক্ত করে দেন। তাই ঈদুল ফিতরকে ঈদুল ফিতর নাম করা হয়েছে।
ঈদুল ফিতরের নামাজ আদায় করার নিয়ম ২০২৬
রমজানের এক মাস রোজা ও আল্লাহর অন্যান্য ইবাদত বেশী বেশী পালন করার খুশিতে উক্ত মাস শেষ হলে শাওয়াল মাসের প্রথম তারিখে মুসলমানগণ যে আনন্দ-উৎসব উদযাপন করে, তা-ই ঈদুল ফিতর।
এই দিন সকাল বেলা ময়দানে গিয়ে জামায়াতের সহিত সশব্দে অতিরিক্ত ছয় তাকবীর ও সরবে কিরআত পাঠ-সহকারে দুই রাকআত ওয়াজিব নামাজ পড়তে হয় (শুধুমাত্র পুরুষরা)।
এই নামাজকে ঈদুল ফিতরের নামাজ বলে। এই নামাজে আজান ও ইকামাত নাই। সূর্যোদয়ের অল্প পর হতে দ্বিপ্রহরের পূর্ব পর্যন্ত ঈদের নামাজের সময়। ঈদুল ফিতরের দিন ভোরে ফিতরা আদায় করতঃ নীরবে নিম্নলিখিত তাকবীর বলতে বলতে নামাজের ময়দানে যাওয়া এবং ফেরার সময় অন্য পথে বাড়ি ফেরা মস্তাহাব।
ঈদুল ফিতরের তাকবীর
আল্লাহু আকবর, আল্লাহু আকবর লা-ইলাহা ইল্লাল্লাহু, ওয়াল্লাহু আকবর। আল্লাহু আকবর। ওয়া লিল্লাহিল হামদ্।
ঈদুল ফিতরের নামাজের নিয়ত
ঈদুল ফিতরের নামাজের আরবি নিয়ত: নাওয়াইতু আন্ উছাল্লিয়া লিল্লাহি তা’য়ালা রাকআতাই সালাতিল ঈদিল্ ফিতরি মা’আ সিত্তাতি তাকবীরাতি ওয়াজিবুল্লাহি তা’য়ালা ইকতাদাইতু বিহাযাল ইমাম মুতাওয়জ্জিহান ইলা জিহাতিল কা’বাতিশ শারীফাতি – আল্লাহু আকবার।
ঈদুল ফিতরের নামাজের বাংলা নিয়ত বা অর্থ: আমি কেবলামুখি হইয়া এই ইমামের পিছনে ঈদুল ফিতরের দুই রাকাত ওয়াজিব নামাজ অতিরিক্ত ৬ তাকবিরের সহিত আদায় করিতেছি – আল্লাহু আকবার।
অথবা,
আমি কেবলামুখি হয়ে পবিত্র ঈদুল ফিতরের দুই ওয়াজিব নামাজ এই ইমামের পিছনে আদায় করিতেছি – আল্লাহু আকবার।
আরও পড়ুন:
ঈদুল ফিতরের নামাজ পড়ার নিয়ম ২০২৬
১. প্রথমে ইমাম ও মুক্তাদিগণ ঈদুল ফিতরের দুই রাকআত নামাজের করে তাকবীরে-তাহরীমা বলে হাত বাঁধবেন (অন্যান্য নামাজের নিয়ম অনুযায়ী)।
২. তারপর মনে মনে ছানা পড়বেন।
৩. তারপর ইমাম সরবে ও মুক্তাদিগণ নীরবে পরপর তিনটি তাকবীর বলবেন।
৪. এই তাকবীর তিনটির প্রথম দুইটি বলার সময় উভয় হাত কান পর্যন্ত উঠানোর পর নিচের দিকে ছেড়ে দিবেন (ঝুলিয়ে রাখবেন)। এবং তৃতীয় তাকবীর বলার পর হাত বাঁধবেন।
৫. তারপর ইমাম যথানিয়মে (অন্যান্য নামাজের নিয়ম অনুযায়ী) আউযুবিল্লাহ্ ও বিসমিল্লাহ্ – সূরা ফাতেহা এবং অন্য একটি সূরা পড়ে প্রথম রাকআত শেষ করবেন। দ্বিতীয় রাকআতেও যথানিয়মে ইমাম কিরআত পাঠ করবেন।
৬. তারপর রুকুতে যাওয়ার পূর্বে তিনটি তাকবীর বলবেন এবং দুই হাত কান পর্যন্ত উঠিয়ে আবার ছেড়ে দিবেন। চতুর্থ তাকবীর বলে রুকুতে যাবেন।
৭. অতঃপর যথানিয়মে নামাজ শেষ করবেন।
৮. নামাজ শেষে ইমাম মিম্বরের উপর দাড়িয়ে দুইটি খোতবা দিবেন। খোতবা দেওয়া এবং তিররারর মাসায়েল বর্ণণা করা সুন্নত। মুক্তাদিগণ তা মনোযোগসহ শুনবেন। ঈদের খোতবা শুনা ওয়াজিব। খোতবা শেষ হলে ইমাম মুনাজাত করবেন।
পরিশেষে, এই ‘ঈদুল ফিতরের নামাজ আদায় করার নিয়ম ২০২৬’ আর্টিকেলটি থেকে আমরা ঈদুল ফিতরের নামাজ আদায় করার নিয়ম, নিয়ত ও তাকবীর সম্পর্কে জানলাম। আশাকরি আর্টিকেলটি আপনাদের ভালো লেগেছে।
![ঈদুল ফিতরের নামাজ আদায় করার নিয়ম ২০২৬ [নিয়ম, নিয়ত, তাকবীর]](https://trickbdblog.com/wp-content/uploads/2024/02/www.trickbdblog.com-12.webp)
![কবি সালমান হাবীব এর উক্তিসমূহ ২০২৬ [৪০টি উক্তি]](https://trickbdblog.com/wp-content/uploads/2026/01/আমায়-তুমি-ফিরিয়ে-নিও-ফুরিয়ে-যাওয়ার-আগে।.jpg)

