যেকোনো ধরনের একটি লক্ষ্যকে সামনে রেখে উপলক্ষ্য হিসেবে নায়িকা নায়ককে দোষারোপ করে বা না করে দীর্ঘ বারো মাসের নায়ক নায়িকার অর্থনৈতিক দৈন্য বা মানসিক বিরহের যে বর্ণনা প্রদান করে তাকেই মূলত বারমাস্যা বলে।
এই আর্টিকেলে আমরা বারমাসী বা বারমাস্যা কাকে বলে?, বারমাসী বা বারমাস্যা বলতে কী বুঝ? এই সব বিষয় নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করবো।
তাই আর দেরী না করে চলুন মূল আলোচনা শুরু যাক।
বারমাসী বা বারমাস্যা কি বা কাকে বলে?
’বারমাসী’ গীতগুলো বাংলা মধ্যযুগের সাহিত্যে এক অপূর্ব সৃষ্টি। মঙ্গলকাব্য ও মৈমনসিংহ গীতিকাগুলোতে এ বারমাসী বর্ণনার উল্লেখ রয়েছে। মূলত বিরহ কাতর নায়িকার বিরহ-পীড়িত মনের এক নিখুঁত চিত্রই হচ্ছে বারমাসী বারমাস্যা।
তবে শুধু নারীর বিরহ-বেদনাই নয়, মানবমনে আলোড়ন সৃষ্টিকারী যেকোনো করুণ কাহিনীই ছিল বারমাসীর উপজীব্য বিষয়।
তাছাড়া বারমাসী বা বারমাস্যা’র আরেকটি বৈশিষ্ট্য হচ্ছে- এ বর্ণনা সকল ক্ষেত্রে অগ্রহায়ণ বা বৈশাখ মাস হতে আরম্ভ হয়না।
যে মাসে কাহিনীর সূত্রপাত হয় সে মাস হতেই কবি বর্ণনা শুরু করেন।
নিচে বারমাসী বা বারমাস্যার একটি উদাহরণ দেওয়া হলো।
কালকেতু উপাখ্যান হতে ফুল্লরার বারমাস্যা
কালকেতু উপাখ্যান হতে ফুল্লরার বারমাস্যার দৃষ্টান্ত নিচে তুলে ধরা হলো:
জৈষ্ঠ – পাপিষ্ঠ জৈষ্ঠ মাসে প্রচণ্ড তপন,
খরতর পোড়ে অঙ্গ রবির কিরণ।
আষাঢ় – আষাঢ়ে পূরিল মহী নব মেঘে জল,
ছাগল চরাতে প্রভু নাহি পাই স্থল।
শ্রাবণ – শ্রাবণে বরিসে মেঘ দিবস রজনী,
সিততাসিত দুই পক্ষ একাই ন জানি।
ভাদ্র – ভাদ্রপদ মাসে বড় দুরন্ত বাদল,
নদনদী একাকার আটদিকে জল।
আশ্বিন – উত্তম বসনে কেশ করযে বনিতা,
অভাগী ফুল্লরা পরে হরিণের কর যে উদরের চিন্তা।
কার্তিক – কার্তিক মাসেতে হৈল হিমের প্রকাশ,
কর যে সকল লোক শীত নিবারণ।।
নিয়োজন তকৈল বিধি সবার কাপড়,
অভাগী ফুল্লরা পরে হরিণের ছড়।।
আরও পড়ুন:
পরিশেষে, এভাবে অগ্রাহয়ণ, পৌষ, মাঘ, ফাল্গুন, চৈত্র প্রতিটি মাসেই ফুল্লরার কষ্টকর অভিজ্ঞতার মুখোমুখি হতে হয়। মূলত কবি এ বারমাসী বর্ণনার মধ্য দিয়ে সমসাময়িক কালের সাধারণ মানুষের জীবন চিত্র ফুটিয়ে তুলেছেন।
আশাকরি আর্টিকেলটি আপনাদের একটু হলেও উপকারে এসেছে।
![আপনার কোন স্কিলটা শেখা উচিত ভবিষ্যতের জন্য [৫টি স্কিল]](https://trickbdblog.com/wp-content/uploads/2023/07/Screenshot_68.png)

