জাতি-বর্ণ প্রথা কাকে বলে?

Join Telegram Channel

আমরা সমাজে পরিবারগুলোর মর্যাদাকেন্দ্রিক যে শ্রেণিবিভাজন দেখতে পাই তার উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত হচ্ছে ভারত। ভারতীয় সমাজে বর্ণ প্রথা হচ্ছে আধিপত্য পরম্পরা কেন্দ্রিক সামাজিক ব্যবস্থা। প্রতিটি বর্ণেরই নিজস্ব জীবনধারা রয়েছে এবং প্রতিটি জাতি বর্ণের একটি নাম রয়েছে ও এই জাতি বর্ণের সদস্যপদ হচ্ছে সুনির্দিষ্ট।

 

জাতি-বর্ণ প্রথা কি বা জাতি-বর্ণ প্রথা কাকে বলে?

 

জাতিবর্ণ বলতে সাধারণত স্বগোত্রীর পারিবারিক দলকে বুঝায় যারা নিদির্ষ্ট ধর্মীয় বিশ্বাস অনুসারে পবিত্রতা এবং অপবিত্রতায় বিশ্বাসী। কয়েক শতাব্দী ধরে এই সকল ধর্মীয় বিশ্বাসের প্রচলন ঘটায় উচ্চবিত্ত ব্রাহ্মণরা। এ পর্যন্ত বর্ণ প্রথার যে সংজ্ঞা দিয়েছি তার আলোকে বলা যায় যে, ‘জাতিগত ধর্মীয় বিশ্বাসের দিকে সাধারণ বিচারে হিন্দু ধর্মীয় বিশ্বাস ও আচরণে বিভক্ত।’

ভারতীয় সমাজের বর্ণ মর্যাদা এই ভিন্ন ধর্মীয় বিশ্বাস অনুযায়ী নির্ধারিত হয়ে থাকে। যারা অবতারের পূজা করে থাকেন তারা হচ্ছে বৈষ্ণব, গোত্র, শেব, খ্রিস্টান ইত্যাদি। এরা যারা প্রকৃতির পূজা করে তাদের চেয়ে ধর্মীয় বিশ্বাসের দিক থেকে উন্ন।

তবে এই ধরনের অবতার বিশ্বাসের গুরুত্ব Stevenson এর মতে খুবই কম। কেননা অপবিত্রতা সম্বন্ধীয় ধারণারই প্রভাব হিন্দুধর্মের উপর বেশি। বা্রহ্মণ ধর্মযাজকরা হিন্দুধর্মীয় বিশ্বাসে বিভিন্ন অযোক্তিক প্রথার মাধ্যমে বর্ণ প্রথার প্রচলন ঘটায়।

বর্ণ প্রথার ক্ষেত্রে ধর্মের প্রবাব যেমন ধর্মীয় আচারগুলোতে দেখা যায় তেমনি জীবনে অন্যান্য ক্ষেত্রেও বর্ণ প্রথার প্রভাব সুস্পষ্ট। যেমন: বংশ পরম্পরার বিত্তিতে ভারতীয় সমাজগুলো বিভিন্ন পরিবারে বিভক্ত।

 

উপসংহার: উপরোক্ত আলোচনা থেকে পরিশেষে বলা যায় যে, বর্ণ প্রথাকে উপলক্ষ করে ধর্মের ধুয়া তুলে অভিজাত বর্ণের লোকজন নিজেদের অর্থনৈতিক সুযোগ সুবিধা কুক্ষিগত করার দুর্বিসন্ধি আঁকে।

 

আরোও পড়ুন:

 

তথ্যের উৎস: সমাজবিজ্ঞান পরিচিতি বই।

Spread the love
Join Telegram Channel

হ্যালো "ট্রিকবিডিব্লগ" বাসী আমি ওসমান আলী। দীর্ঘদিন থেকে অনলাইনে লেখালেখির পেশায় যুক্ত আছি। Trick BD Blog আমার নিজের হাতে তৈরি করা একটি ওয়েবসাইট। এখানে আমি প্রতিনিয়ত ব্লগিং, ইউটিউবিং ও প্রযুক্তি সহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ টিপস এন্ড ট্রিক্স রিলেটেড আর্টিকেল প্রকাশ করে থাকি।

Leave a Comment