ঈদুল আযহার নামাজ পড়ার নিয়ম ২০২৪ [নিয়ম, নিয়ত, তাকবীর]

ঈদ হলো মুসলমানদের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব। মুসলমানরা প্রত্যেক বছরে দুটি করে ঈদ পালন করে থাকে। যথা:

  • ঈদুল ফিতর ও
  • ঈদুল আযহা।

 

এক সিয়াম সাধনা করার পর পালিত হয় ঈদুল ফিতর ও ঈদুল আযহা পালন করা হয় সম্পদের ত্যাগের মাধ্যমে। জিলহজ মাসের ১০ তারিখে প্রত্যেক বছর ঈদুল আযহা পালিত হয়ে থাকে।

 

ঈদ কি বা ঈদ কাকে বলে?

 

ঈদ’ হচ্ছে একটি আরবি শব্দ। যার বাংলা শাব্দিক অর্থ হচ্ছে ‘ফিরে আসা’। ঈদ যেহেতু আনন্দের বার্তা নিয়ে মুসলমানের দ্বারে দ্বারে বার বার ফিরে আসে, সঙ্গত কারণেই এ আনন্দকে ঈদ হিসেবে নামকরণ করা হয়েছে। তাই রোজাদার মুসলমান মাসব্যাপী রোজা পালনের পর শাওয়াল মাসের প্রথম তারিখ আল্লা তা’আলার হুকুম পালনে ঈদ বা আনন্দ উদযাপন করে থাকে যার নাম ঈদুল ফিতর। এবং তারপরে জিলহজ মাসের ১০ তারিখে ঈদুল আযহা পালন করে থাকেন।

 

ঈদের সূচনা কিভাবে হলো?

 

হাদিসে এসেছে, ‘রাসুলুল্লাহ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম যখন মদিনাতে আগমন করলেন, তখন মদিনায় দুটো দিবস ছিলো, যে দিবসে তারা (মদিনার লোকজন) খেলাধুলা করতো। রাসুলুল্লাহ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম জিজ্ঞেস করলেন, এ দুই দিনের তাৎপর্য কী? মদিনাবাসীগণ বললেন, আমরা এ দুই দিনে (আনন্দ) খেলাধুলা করি। তখন রাসুলুল্লাহ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন, ‘আল্লাহ তা’আলা এ দুই দিনের পরিবর্তে তোমাদের এর চেয়ে শ্রেষ্ঠ দুুটা দিন দান করেছেন। তার একটি হলো ঈদুল আযহা ও আরেকটি হলো ঈদুল ফিতর’ (আবু দাউদ)।

এই হচ্ছে ঈদের সূচনা।

এরপর থেকেই মুসলমানরা দুই ঈদ আদায় করে থাকেন। এ নিয়ে অন্য একটি আর্টিকেলে ইতোমধ্যে আলোচনা করা হয়েছে।

 

ঈদুল আযহা নাম রাখার তাৎপর্য কী?

 

আরবী ‘কুরবান’ শব্দটি উর্দূ ও ফারসীতে পরিচিতি পেয়েছে ‘কুরবানী’ রূপে, বাংলা ভাষায় যার অর্থ হচ্ছে ‘নৈকট্য’। আমাদের পবিত্র কুরআন শরীফে কুরবানীর পরিবর্তে ব্যবহার করা হয়েছে ‘কুরবান শব্দটি। এবংকি হাদীছেও ‘উযহিয়াহ ও যাহিয়া’ প্রভৃতি শব্দ ব্যবহৃত হয়েছে ‘কুরবানী শব্দটির পরিবর্তে। আর এইসব কারণেই এই কুরবানীর ঈদকে বলা হয়ে থাকে ‘ঈদুল আযহা’।

 

ঈদুল আযহার নামাজ আদায় করার নিয়ম ২০২৪

 

প্রতিবছর জিলহজ মাসের ১০ থেকে ১২ তারিখের ভিতর পালিত হয় ঈদুল আযহার নামাজ। ঈদুল আযহার দিন কুরবানী করা হয়ে থাকে।

এই দিন সকাল বেলা ময়দানে গিয়ে জামায়াতের সহিত সশব্দে অতিরিক্ত ছয় তাকবীর ও সরবে কিরআত পাঠ-সহকারে দুই রাকআত ওয়াজিব নামাজ পড়তে হয় (শুধুমাত্র পুরুষরা)।

এই নামাজকে ঈদুল আযহার নামাজ বলে। এই নামাজে আজান ও ইকামাত নাই। সূর্যোদয়ের অল্প পর হতে দ্বিপ্রহরের পূর্ব পর্যন্ত ঈদের নামাজের সময়।

 

ঈদুল আযহার তাকবীর

 

আল্লাহু আকবর, আল্লাহু আকবর লা-ইলাহা ইল্লাল্লাহু, ওয়াল্লাহু আকবর। আল্লাহু আকবর। ওয়া লিল্লাহিল হামদ্।

 

ঈদুল আযহার নামাজের নিয়ত

 

ঈদুল আযহার নামাজের আরবি নিয়ত:

ঈদুল আযহার নামাজের আরবি নিয়ত
ঈদুল আযহার নামাজের আরবি নিয়ত

 

উচ্চারণ: নাওয়াইতু আন্ উছাল্লিয়া লিল্লাহি তা’য়ালা রাকআতাই ছালাতি ঈদিল আযহা মা’আ ছিত্তাতি তাকবীরাতি ওয়াজিবুল্লাহি তা’য়ালা ইক্বতাদাইতু বিহাজাল ইমামি মুতাওয়াজ্জিহান ইলা জিহাতিল কা’বাতিশ শারীফাতি – আল্লাহু আকবার।

ঈদুল আযহার নামাজের বাংলা নিয়ত বা অর্থ: আমি কেবলামুখি হইয়া এই ইমামের পিছনে ঈদুল আযহার দুই রাকাত ওয়াজিব নামাজ অতিরিক্ত ৬ তাকবিরের সহিত আদায় করিতেছি – আল্লাহু আকবার।

অথবা,

আমি কেবলামুখি হয়ে পবিত্র ঈদুল আযহার দুই রাকাত ওয়াজিব নামাজ এই ইমামের পিছনে আদায় করিতেছি – আল্লাহু আকবার।

 

আরও পড়ুন: ঈদুল ফিতরের নামাজ আদায় করার নিয়ম ২০২৪

 

ঈদুল আযহার নামাজ পড়ার নিয়ম ২০২৪

 

১. প্রথমে ইমাম ও মুক্তাদিগণ ঈদুল আযহার দুই রাকআত নামাজের নিয়ত করে তাকবীরে-তাহরীমা বলে হাত বাঁধবেন (অন্যান্য নামাজের নিয়ম অনুযায়ী)।

২. তারপর মনে মনে ছানা পড়বেন।

৩. তারপর ইমাম সরবে ও মুক্তাদিগণ নীরবে পরপর তিনটি তাকবীর বলবেন।

৪. এই তাকবীর তিনটির প্রথম দুইটি বলার সময় উভয় হাত কান পর্যন্ত উঠানোর পর নিচের দিকে ছেড়ে দিবেন (ঝুলিয়ে রাখবেন)। এবং তৃতীয় তাকবীর বলার পর হাত বাঁধবেন।

৫. তারপর ইমাম যথানিয়মে (অন্যান্য নামাজের নিয়ম অনুযায়ী) আউযুবিল্লাহ্ ও বিসমিল্লাহ্ – সূরা ফাতেহা এবং অন্য একটি সূরা পড়ে প্রথম রাকআত শেষ করবেন। দ্বিতীয় রাকআতেও যথানিয়মে ইমাম কিরআত পাঠ করবেন।

৬. তারপর রুকুতে যাওয়ার পূর্বে তিনটি তাকবীর বলবেন এবং দুই হাত কান পর্যন্ত উঠিয়ে আবার ছেড়ে দিবেন। চতুর্থ তাকবীর বলে রুকুতে যাবেন।

৭. অতঃপর যথানিয়মে নামাজ শেষ করবেন।

৮. নামাজ শেষে ইমাম মিম্বরের উপর দাড়িয়ে দুইটি খোতবা দিবেন। খোতবা দেওয়া এবং তিররারর মাসায়েল বর্ণণা করা সুন্নত। মুক্তাদিগণ তা মনোযোগসহ শুনবেন। ঈদের খোতবা শুনা ওয়াজিব। খোতবা শেষ হলে ইমাম মুনাজাত করবেন।

 

বি:দ্র: আর্টিকেলের কোন তথ্য আপনার কাছে ভূল হলে তা কমেন্ট জানাতে পারেন। প্রমাণের ভিত্তিতে তা আর্টিকেলে আপডেট করে দেওয়া হবে।

 

পরিশেষে,  এই ‘ঈদুল আযহার নামাজ আদায় করার নিয়ম ২০২৪’ আর্টিকেলটি থেকে আমরা ঈদুল আযহার নামাজ আদায় করার নিয়ম, নিয়ত ও তাকবীর সম্পর্কে জানলাম। আশাকরি আর্টিকেলটি আপনাদের ভালো লেগেছে।

Spread the love

হ্যালো "ট্রিকবিডিব্লগ" বাসী আমি ওসমান আলী। দীর্ঘদিন থেকে অনলাইনে লেখালেখির পেশায় যুক্ত আছি। Trick BD Blog আমার নিজের হাতে তৈরি করা একটি ওয়েবসাইট। এখানে আমি প্রতিনিয়ত ব্লগিং, ইউটিউবিং ও প্রযুক্তি সহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ টিপস এন্ড ট্রিক্স রিলেটেড আর্টিকেল প্রকাশ করে থাকি।

Leave a Comment