কিভাবে অনলাইনে ই টিন সার্টিফিকেট তৈরি করবো? । ই টিন সার্টিফিকেট তৈরি করার নিয়ম

যারা বাংলাদেশে নিয়মিত কর দিয়ে থাকেন বা কোনো ব্যাবসা প্রতিষ্ঠান রয়েছে তাদের কাছে টিন সার্টিফিকেট (TIN Certificate) শব্দটি অনেকটাই পরিচিত একটি শব্দ।

টিন সার্টিফিকেটে আপনাকে ১২ ডিজিটের একটি ইউনিক নাম্বার প্রদান করা হয়। এই টিআইএন বা টিন সার্টিফিকেট ব্যবহার করে আপনি বিভিন্ন কাজ করতে পারবেন। যা পুরো আর্টিকেলটি পড়লেই আপনি ভালোভাবে বুঝতে পারবেন।

এই আর্টিকেলটি পড়ার মাধ্যমে ই টিন সার্টিফিকেট (E TIN Certificate) সম্পর্কে বিস্তারিত জানার পাশাপাশি কিভাবে অনলাইনে ই টিন সার্টিফিকেট তৈরি করবেন বা ই টিন সার্টিফিকেট তৈরি করার নিয়ম সমূহ জানতে পারবেন।

 

টিন সার্টিফিকেট কাকে বলে?

 

তিন শব্দের টিআইএন, টিন বা TIN এর পূর্ণরূপ হচ্ছে Taxpayer Identification Number (টেক্সপেয়ার আইডেন্টিফিকেশন নাম্বার)

আপনি যে এদেশের একজন নাগরিক এবং নিয়মিত কর প্রদান করে থাকেন এটির একটি আইডেন্টিফিকেশন নাম্বার রয়েছে যাকে টেক্সপেয়ার আইডেন্টিফিকেশন নাম্বার বা টিন সার্টিফিকেট (TIN Certificate) বলা হয়।

জাতীয় রাজস্ব বোর্ড এর ওয়েবসাইট এর তথ্য মতে, একজন করদাতা কর প্রদানের উদ্দেশ্যে কোন সার্কেলে আবেদন করিলে সংশ্লিষ্ট সার্কেল থেকে উপকর কমিশনার কর্তিক করদাতা শনাক্ত করতে যে সনদ প্রদান করা হয় তাকে টিআইএন সনদ বলে।

 

ই টিন সার্টিফিকেট কাকে বলে?

 

ই-টিআইএন, ই-টিন বা  E-TIN Certificate এর পূর্ণরূপ হচ্ছে ইলেকট্রনিক্স ট্যাক্স আইডেন্টিফিকেশন নাম্বার (E-TIN: Electronix Tax Identification Number)।

ই টিন সার্টিফিকেট হচ্ছে আয়কর নিবন্ধনের নতুন বা আধুনিক সংস্করণ। একজন করদাতা যাতে সহজেই ঘরে বসে অনলাইনের মাধ্যমে এই ই টিন (TIN Certificate) সার্টিফিকেটের জন্য নিবন্ধন করতে পারে। সেজন্যই এ ই-টিন সেবা চালু করা হয়েছে।

 

টিন বা ই-টিন সার্টিফিকেট কি কি কাজে লাগে?

 

শুধু যে কর প্রদানের জন্যই টিন বা ই টিন সার্টিফিকেটের প্রয়োজন হয় এমনটা নয়। বর্তমানে কর প্রদান ছাড়াও আরও বিভিন্ন কাজে টিন বা ই টিন সার্টিফিকেটের প্রয়োজন হয়ে থাকে।

যে কোনো ব্যবসা প্রতিষ্ঠান, কোনো সংস্থা, ফ্রিল্যান্সিং, ট্রেড লাইসেন্স নেওয়া সহ আরও অনেক কাজে টিন সার্টিফিকেট প্রয়োজন হয়।

নিচে টিন বা ই টিন সার্টিফিকেট কি কি কাজে লাগে তার তালিকা দেওয়া হলো:

  • নিজের কোনো কোম্পানি নিবন্ধন করার জন্য টিন বা ই টিন সার্টিফিকেট লাগবে।
  • কোনো কোম্পাপি থেকে যদি সেয়ার কিনতে যান তবে টিন বা ই টিন সার্টিফিকেট লাগবে।
  • নতুন কোন ব্যবসা শুরু করতে চাইলে আপনার টিন বা ই টিন সার্টিফিকেট লাগবে।
  • কোন ব্যবসার জন্য ট্রেড লাইসেন্স তৈরি করতে টিন বা ই টিন সার্টিফিকেট লাগবে।
  • ট্রেড লাইসেন্স নবায়ন করার জন্যও টিন বা ই টিন সার্টিফিকেট লাগবে।
  • কোন ব্যাংক থেকে যদি ক্রেডিট কার্ড নেওয়ার জন্য আবেদন করেন সেক্ষেত্রেও টিন বা ই টিন সার্টিফিকেট লাগবে।
  • বিদেশ থেকে কোন পণ্য আমদানি করার জন্য যে আমদানিপত্র রেজিস্ট্রেশন করতে হবে সেখানেও টিন বা ই টিন সার্টিফিকেট লাগবে।
  • নতুন গাড়ির মালিক হওয়ার জন্য টিন বা ই টিন সার্টিফিকেট লাগবে।
  • পুরাতন গাড়ির মালিকানা পরিবর্তন করার জন্যও টিন বা ই টিন সার্টিফিকেট লাগবে।
  • আধা-সরকারি, সরকারি বা স্বায়ত্তশাসিত সংস্থার দরপত্রে অংশ নেওয়ার জন্য টিন বা ই টিন সার্টিফিকেট লাগবে।
  • মুক্ত পেশাজীবী হিসেবে যদি আপনি আইনজীবী, হিসাব রক্ষক, প্রকৌশলী বা চিকিৎসকের পেশায় চর্চা করতে চান সেক্ষেত্রেও আপনার টিন বা ই টিন সার্টিফিকেট লাগবে।
  • সিটি কর্পোরেশনের এলাকার ভিতর যদি কোন জমি, ফ্ল্যাট বা ভবন কিনতে বা রেজিস্ট্রেশন করতে চান তার জন্যও আপনার টিন বা ই টিন সার্টিফিকেট লাগবে।
  • কোন নির্বাচনে যদি আপনি প্রার্থী হিসাবে দাড়াতে চান সেজন্যও আপনার টিন বা ই টিন সার্টিফিকেট লাগবে।
  • কোনো রাইড সেয়ারিং কোম্পানিতে যদি নিজের গাড়ি দিতে যান তখনও আপনার টিন বা ই টিন সার্টিফিকেট লাগবে।
  • কোন ব্যবসায়িক সমিতি বা সংস্থাতে যদি আপনি সদস্য হতে চান সেক্ষেত্রেও আপনার টিন বা ই টিন সার্টিফিকেট লাগবে।

 

টিন বা ই টিন সার্টিফিকেট কাদের জন্য লাগবে?

 

টিন বা ই টিন সার্টিফিকেট অনেক গুরুত্বপূর্ণ। এটি অনেকরই বিভিন্ন কাজে প্রয়োজনে আসে যা ইতিমধ্যেই আপনার উপরে ‘টিন বা ই টিন সার্টিফিকেট কি কি কাজে লাগে’ সেখান থেকে জানতে পেরেছেন।

মূলত উপরোক্ত তালিকার যে কোনো একটি প্রয়োজন যদি কারও হয় তাদেরই টিন বা ই টিন সার্টিফেকেট প্রয়োজন হবে।

 

কত টাকা হলে আপনাকে আয়কর দিতে হবে?

 

আয়কর প্রদানের ক্ষেত্রে শেণী ও বয়স ভেদে কিছুটা পার্থক্য রয়েছে।

নিচে কত টাকা হলে আপনাকে আয়কর দিতে হবে তা দেওয়া হলো:

  • একজন পুরুষ মানুষের বছরে বা বাৎসরিক আয় তিন লক্ষ (৩০০০০০) টাকার ঊর্ধ্বে  হলে তাদেরই আয়কর দিতে হবে বা প্রদান করতে হবে।
  • সব বয়সের নারী এবং ৬৫ বছরের ঊর্ধ্বে সব নারগরিকের বাৎসরিক আয় যদি সাড়ে তিন লক্ষ (৩,৫০০০০) টাকা হয় তাহলে তাদের প্রত্যেককে আয়কর প্রদান করতে হবে।
  • প্রতিবন্ধীদের বাৎসরিক আয় সাড়ে চার লাখ (৪,৫০০০০) টাকা হলে তাদের আয়কর প্রদান করতে হবে।

 

টিন বা ই টিন সার্টিফিকেট তৈরি করতে কি কি কাগজ পত্র লাগবে?

 

টিন (TIN) বা ই-টিন (E-TIN) সার্টিফিকেট তৈরি করার জন্য আপনাকে নিচে উল্লিখিত কাগজ পত্র সমূহ লাগবে।

টিন বা ই টিন সার্টিফিকেট তৈরি করতে যা যা লাগবে:

  • আবেদনকারী ব্যক্তির জাতীয় পরিচয় পত্র (NID Card)।
  • আবেদনকারী ব্যক্তির নাম (অবশ্যই জাতীয় পরিচয় পত্রের নাম অনুসারে)।
  • আবেদনকারী ব্যক্তির পিতা ও মাতার নাম।
  • আবেদনকারী ব্যক্তির স্বামী বা স্ত্রীর নাম (এটি অপশনাল, বাধ্যতামূলক নয়)।
  • আবেদনকারী ব্যক্তির বর্তমান ঠিকানা এবং স্থায়ী ঠিকানা।

 

কিভাবে অনলাইনে ই টিন সার্টিফিকেট তৈরি করবো?

 

তথ্য প্রযুক্তির উন্নয়নে আপনি এখন চাইলেই খুব সহজ কিছু ধাপ অনুসরণ করেই তৈরি করতে পারবেন ই-টিন সার্টিফিকেট।

এখন আমরা এ বিষয়েই বিস্তারিতভাবে ধাপে ধাপে নিচে দেখাবো যে কিভাবে আপনি অনলাইনে ই টিন সার্টিফিকেট তৈরি করবেন।

অনলাইনে ই টিন সার্টিফিকেট তৈরি করার নিয়ম:

ধাপ ০১: অনলাইনে ই টিন সার্টিফিকেট তৈরি করার জন্য প্রথমে গুগলে গিয়ে সার্চ দিন, ’ই-টিন বা E-TIN লিখে। প্রথমে যে ওয়েবসাইটটি আসবে সেটিতে ভিজিট করুন অথবা সরাসরি, ‘অনলাইনে ই টিন সার্টিফিকেট তৈরি নিয়ম’ লেখাটিতে ক্লিক করেও সেই ওয়েবসাইটে যেতে পারবেন।

অনলাইনে ই টিন সার্টিফিকেট তৈরি করার নিয়ম
অনলাইনে ই টিন সার্টিফিকেট তৈরি করার নিয়ম

 

ধাপ ০২: ওয়েবসাইটটিতে প্রবেশ করার পর আপনাকে প্রথমে রেজিস্ট্রেশন (Registration) করতে হবে। রেজিস্ট্রেশন করার জন্য মেন্যু বারে দেখুন রেজিস্ট্রেশন একটি অপশন আছে সেটিতে ক্লিক করুন।

অনলাইনে ই টিন সার্টিফিকেট তৈরি করার নিয়ম
অনলাইনে ই টিন সার্টিফিকেট তৈরি করার নিয়ম

 

ধাপ ০৩: রেজিস্ট্রেশন অপশনে ক্লিক করার পর আপনার সামনে নিচের ছবিটির মতোন একটি রেজিস্ট্রেশন ফর্ম চলে আসবে।

অনলাইনে ই টিন সার্টিফিকেট তৈরি করার নিয়ম
অনলাইনে ই টিন সার্টিফিকেট তৈরি করার নিয়ম

 

যেভাবে অনলাইনে ই টিন সার্টিফিকেট তৈরি করার রেজিস্ট্রেশন ফর্ম পূরণ করতে হবে:

  • প্রথমে একটি ইউজার আইডি (User ID) দিবেন। যেমন: Osman2545 ।
  • একটি পাসওয়ার্ড দিবেন।
  • পাসওয়ার্ডটি পুনরায় রিটাইপ করবেন।
  • Security Questions অপশন থেকে একটি প্রশ্ন বেছে নিন।
  • Security Answer অপশনে সেই প্রশ্নটির উত্তর দিন (পরবর্তীতে একাউন্টে কোনো প্রবলেম হলে বা পাসওয়ার্ড মনে হারিয়ে গেলে এই সিকিউরিটি প্রশ্ন ও উত্তর কাজে আসবে)।
  • কান্ট্রি বা দেশ সিলেক্ট করে দিন।
  • একটি মোবাইল নাম্বার দিন।
  • একটি ইমেইল এডড্রেস দিন।
  • এবার আপনার সামনে একটি টেক্সট ক্যাপচা (Text Captcha) দেখতে পাবেন। ক্যাপচার টেক্সটগুলো দেখে দেখে Verification letters এর বক্সটিতে তলুন।
  • সব তথ্য সঠিক ভাবে দেওয়া হয়ে গেলে রেজিস্ট্রেশন (Registration) অপশনটিতে ক্লিক করুন।
  • রেজিস্ট্রেশন (Registration) অপশনটিতে ক্লিক করার পরে আপনার সামনে নতুন একটি ইন্টাফেস আসবে। এখানে আপনি যে ফোন নাম্বারটি দিয়েছেন সেটিতে একটি ভেরিফিকেশন কোড গিয়েছে সেটি দিয়ে এক্টিভেট (Activate) বাটনে ক্লিক করবেন।

    যেভাবে অনলাইনে ই টিন সার্টিফিকেট তৈরি করার রেজিস্ট্রেশন ফর্ম পূরণ করতে হবে
    যেভাবে অনলাইনে ই টিন সার্টিফিকেট তৈরি করার রেজিস্ট্রেশন ফর্ম পূরণ করতে হবে

এক্টিভেট অপশনে ক্লিক করার সাথে সাথেই আপনার রেজিস্ট্রেশন সফল হয়ে যাবে।

 

ধাপ ০৪: রেজিস্ট্রেশন কমপ্লিট হওয়ার পর আপনাকে সেই ওয়েবসাইটে লগ ইন (Log In) করতে বলবে।

লগ ইন করার জন্য উপরের লগ ইন অপশনটিতে ক্লিক করুন।

আপনি তখন যেই ইউজার আইডি ও পাসওয়ার্ডটি দিয়েছিলেন সেগুলো এখানে দিয়ে Login অপশনটি ক্লিক করলেই লগইন হয়ে যাবে।

অনলাইনে ই টিন সার্টিফিকেট তৈরি করার নিয়ম
অনলাইনে ই টিন সার্টিফিকেট তৈরি করার নিয়ম

 

ধাপ ০৫: লগইন করার পর আপনার সামনে নিচের ছবিটির মতোন একটি ইন্টারফেস আসবে।

অনলাইনে ই টিন সার্টিফিকেট তৈরি করার নিয়ম
অনলাইনে ই টিন সার্টিফিকেট তৈরি করার নিয়ম

 

এখানে দেখুন লেখা আছে যে, ‘For TIN Registration/Re-registration Click here‘। অনলাইনে ই-টিন সার্টিফিকেট তৈরি করার জন্য এখানে Click here লেখাটিতে ক্লিক করতে হবে।

 

ধাপ ০৬: here লেখাটিতে ক্লিক করলে আপনার সামনে নিচের ছবিটির মতোন একটি ফর্ম আসবে।

অনলাইনে ই টিন সার্টিফিকেট তৈরি করার নিয়ম
অনলাইনে ই টিন সার্টিফিকেট তৈরি করার নিয়ম

 

যেভাবে ফর্ম পূরণ করতে হবে:

  • Taxpayer’s Status/করদাতার ধরণ এ আপনার কর প্রদান করার ধরনটি সিলেক্ট করে দিবেন। যেমন: যদি ব্যক্তিগত হয়ে থাকে Individual > Bangladeshi এটি সিলেক্ট করে দিবেন অথবা কোম্পানি বা অন্যকিছু হলে সেটি সিলেক্ট করে দিবেন।
  • দ্বিতীয় নাম্বারে আমার ক্ষেত্রে আমি Individual > Bangladesi > Having NID এই অপশনটি সিলেক্ট করবো।
  • রেজিস্ট্রেশন টাইপ (Registration Type) এ New Registration ‍সিলেক্ট করে দিবো।
  • Purpose of TIN অর্থাৎ আপনি কোন উদ্দেশ্যে টিআইএন বা টিন খুলছেন সেটি সিলেক্ট করে দিবেন। আমি ‘Others’ সিলেক্ট করে দিচ্ছি।
  • Main Source of Income বা আপনার আয়ের মূল উৎস কি সেটি সিলেক্ট করে দিবেন।
  • Location of main source of Income অর্থাৎ আপনার আয়ের যে মূল উৎসটি রয়েছে সেটি কোন যায়গায় বা এলাকায় সেটি নির্বাচন করে দিবেন।
  • Type of Employer / Service Locaiton এ অপশনে আপনার সাথে যেটির মিল রয়েছে সেটি সিলেক্ট করে দিবেন।
  • সব তথ্য দেওয়া হয়ে গেলে এবার Go to Next বাটনে ক্লিক করুন।

 

ধাপ ০৭: Go to Next বাটনে ক্লিক করার পরে আপনার সামনে নিচের ছবিটির মতোন আরও ফর্ম আসবে।

অনলাইনে ই টিন সার্টিফিকেট তৈরি করার নিয়ম
অনলাইনে ই টিন সার্টিফিকেট তৈরি করার নিয়ম

 

যেভাবে ফর্ম পূরণ করতে হবে:

  • প্রথমে করদাতার নাম দিতে হবে।
  • জেন্ডার অর্থাৎ আপনি মহিলা না পুরুষ সেটি সিলেক্ট করে দিবেন।
  • জাতীয় পরিচয় পত্রের নাম্বার দিতে হবে।
  • জন্ম তারিখ দিতে হবে।
  • পিতার নাম দিতে হবে।
  • মাতার নাম দিতে হবে।
  • স্বামী বা স্ত্রীর নাম দিতে হবে।
  • মোবাইল নাম্বার দিতে হবে।
  • আপনার বর্তমান ঠিকানা দিতে হবে।
  • আপনার স্থায়ী ঠিকানা দিতে হবে।

সব তথ্য সঠিকভাবে দেওয়া হয়ে গেলে Go to Next বাটনে ক্লিক করবেন।

ধাপ ০৮: Go to Next বাটনে ক্লিক করলে আপনার সামনে নিচের ছবিটির মতোন একটি ইন্টারফেস আসবে।

অনলাইনে ই টিন সার্টিফিকেট তৈরি করার নিয়ম
অনলাইনে ই টিন সার্টিফিকেট তৈরি করার নিয়ম

 

এখানে আপনি এতক্ষণ থেকে যে তথ্য গুলো দিলেন সেটির একটি ফাইনাল প্রিভিউ (Final Preview) দেখতে পারবেন।

সব তথ্য গুলো ঠিক আছে কিনা তা ভালোভাবে চেক করে নিবেন।

সব কিছু ঠিকঠাক থাকলে নিচে দেখবেন একটি চেক বক্স আছে সেটিতে টিক দিয়ে দিবেন।

এবং তারপরে Submit Application অপশনটিতে ক্লিক করবেন।

 

ধাপ ০৯: Submit Application এ ক্লিক করলে দেখবেন যে নিচের ছবিটির মতোন আপনার এনআইডি কার্ডের (NID Card) ছবি সহ বিস্তারিত তথ্য গুলো চলে আসবে।

কিভাবে অনলাইনে ই টিন সার্টিফিকেট তৈরি করবো?
কিভাবে অনলাইনে ই টিন সার্টিফিকেট তৈরি করবো?

 

আপনি চাইলে এখান থেকে Print Details এ ক্লিক করে তথ্য গুলো প্রিন্ট করে নিতে পারবেন।

আপনার টিআইএন বা টিন সার্টিফিকেটটি দেখার জন্য View Certificate অপশনটিতে ক্লিক করুন।

View Certificate এ ক্লিক করলেই আপনার সামনে নিচের ছবিটির মতোন আপনার টিন সার্টিফিকেটটি (TIN Certificate) চলে আসবে।

টিন সার্টিফিকেটের ছবি
টিন সার্টিফিকেটের ছবি

 

আপনি চাইলে এখান থেকে আপনার টিন সার্টিফিকেটটি প্রিন্ট বা সেইভ করে নিতে পারবেন।

উপরোক্ত ধাপগুলো সঠিকভাবে পালন করতে পারলেই আপনার ই-টিন সার্টিফিকেটটি তৈরি হয়ে যাবে।

 

টিন বা ই-টিন সার্টিফিকেটের সুবিধা কি কি?

 

টিন বা ই-টিন সার্টিফিকেট থাকলে সবচেয়ে বড় যে গর্বের বিষয় সেটি হচ্ছে আপনি এই দেশের একজন করদাতা এবং আপনার টাকায় অর্থাৎ আপনার আয়কর দিয়ে চলবে দেশ।

তারপরেও টিন বা ই-টিন সার্টিফিকেট থাকলে আপনি বিশেষ কিছু সুবিধা পাবেন।

টিন বা ই-টিন সার্টিফিকেট থাকলে আপনি যেসব সুবিধা পাবেন:

  • আপনি ব্যাংক থেকে ঋণ অথবা ক্রেডিট কার্ড তুলতে পারবেন। কারণ ব্যাংক থেকে ক্রেডিট কার্ড তুলার বা নেওয়ার জন্য টিন সার্টিফিকেটের প্রয়োজন হয়।
  • টিন সার্টিফিকেট না থাকলে আপনার সঞ্চয়পত্র বা ব্যাংক একাউন্টে জমাকৃত অর্থের উপর ১৫% কর্তন করা হবে। আর যদি আপনার টিন সার্টিফিকেট থেকে থাকে তাহলে কাটবে ১০%।
  • অনেক সময় সরকার বিভিন্ন পেশাজীবী কিংবা ক্ষুদ্র যেসব উদ্যোক্তা রয়েছে তাদের বিভিন্ন ধরনের প্রণোদনা দিয়ে থাকে। এসব প্রণোদনা নেওয়ার জন্যও আপনার টিন সার্টিফিকেট লাগবে।

টিন বা ই-টিন সার্টিফিকেট থাকার ফলে আপনি এইসব সুবিধার পাশাপাশি আরও অনেক সুবিধা পাবেন যা আমি ইতিমধ্যে উপরে ‘টিন বা ই টিন সার্টিফিকেট কি কি কাজে লাগে’ সেখানে আলোচনা করেছি।

 

টিন বা ই-টিন সার্টিফিকেটের অসুবিধাগুলো কি কি?

 

আপনাকে অবশ্যই প্রতিবছরেই আপনার ট্যাক্স রিটার্ণ দাখিল করতে হবে। এতে আপনার করযোগ্য আয় থাকুক কিংবা না থাকুন (এটি অনেকের কাছে টিন সার্টিফিকেটের একটি অসুবিধে মনে হতে পারে)।

যদি আপনি ট্যাক্স রিটার্ণ দাখিল না করেন কিংবা রিটার্ণ জমা না করেন তবে আপনার টাকা গণ্য হবে কালো টাকা হিসেবে।

তবে আপনার করযোগ্য আয় যদি টানা তিন বছর শূণ্য হয়ে থাকে অর্থাৎ আপনার বাৎসরিক আয় করসীমার মধ্যে না পরে তাহলে আপনার চতুর্থ বার থেকে আর রিটার্ণ দাখিল না করলেও চলবে।

তবে আপনি চাইলে আপনার আয়কর নিবন্ধন বাতিল করার জন্য আবেদন করতে পারবেন।

 

পরিশেষে, আজকের আর্টিকেলের আলোচ্য বিষয় ‘কিভাবে অনলাইনে ই টিন সার্টিফিকেট তৈরি করবো? । ই টিন সার্টিফিকেট তৈরি করার নিয়ম’ নিয়ে আলোচনা করার পর আশাকরি এ বিষয়ে আর কারও কোন সমস্যা থাকবে না।

তার পরেও যদি আর্টিকেলটি কারও কোথাও ‍বুঝতে সমস্যা হয়ে থাকে তা আমাকে কমেন্ট বক্সে জানাতে পারেন। আমি যত দ্রুত সম্ভব আপনাকে রিপ্লাই দেওয়ার চেষ্টা করবো।

Spread the love

হ্যালো "ট্রিকবিডিব্লগ" বাসী আমি ওসমান আলী। দীর্ঘদিন থেকে অনলাইনে লেখালেখির পেশায় যুক্ত আছি। Trick BD Blog আমার নিজের হাতে তৈরি করা একটি ওয়েবসাইট। এখানে আমি প্রতিনিয়ত ব্লগিং, ইউটিউবিং ও প্রযুক্তি সহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ টিপস এন্ড ট্রিক্স রিলেটেড আর্টিকেল প্রকাশ করে থাকি।

Leave a Comment