ইএমআই ও কিস্তিতে যে কোন ফ্রিজ কেনার নিয়ম

প্রতিদিন বাজার করা অনেকের কাছেই বিরক্তিকর মনে। তাই অনেকেই একদিনে বেশি করে বাজার করে রাখতে চান। কিন্তু বেশি করে বাজার করলে তা নষ্ট হয়ে যাওয়ার সম্ভবনা থাকে। সেজন্য প্রয়োজন ফ্রিজ।

কিন্তু মধ্যবিত্তদের দ্বারা একসাথে অনেক টাকা খরচ করে ফ্রিজ একটি ফ্রিজ কেনা শুধু স্বপ্নই থেকে যায়।

তবে যারা ইকুয়েটেড মান্থলি ইন্সটলমেন্ট বা ইএমআই ও কিস্তিতে ফ্রিজ কেনার নিয়ম সম্পর্কে জানেন তারা ইএমআই ও কিস্তিতে ফ্রিজ কিনে থাকেন।

তবে এ বিষয়ে বিস্তারিত এখনো অনেকেই জানে না। সেজন্যই মূলত এই আর্টিকেলটি তৈরি করা।

আপনার কাছে যদি নগদ টাকা না থাকে সেক্ষেত্রেও আপনি অল্প কিছু টাকা নগদ প্রদান করে বাকীটা ইএমআই ও কিস্তিতে পরিশোধ করতে পারবেন।

পুরো আর্টিকেলটি পড়লে এ বিষয়ে বিস্তারিত জানতে পারবেন।

 

ইএমআই ও কিস্তিতে ফ্রিজ কিনতে কি কি কাগজপত্র লাগবে?

 

ইএমআই ও কিস্তিতে ফ্রিজ কেনার জন্য আপনার কিছু কাগজপত্র বা ডুকুমেন্টস লাগবে।

ইএমআই ও কিস্তিতে ফ্রিজ কিনতে যা যা কাগজপত্র বা ডুকুমেন্টস লাগবে:

  • যে ব্যক্তি ফ্রিজ কিনবে তার ভোটার আইডি কার্ড বা এনআইডি কার্ডের ফটোকপি লাগবে।
  • যে ব্যক্তি ফ্রিজ কিনবে তার দুই কপি ছবি লাগবে।
  • দুইজন পরিচিত জামিনদার লাগবে।
  • জামিনদার দুইজনের এক কপি করে ভোটার আইডি কার্ডের ফটোকপি লাগবে।

 

ইএমআই ও কিস্তিতে ফ্রিজ কেনার শর্ত সমূহ কি?

 

ইএমআই  ও কিস্তিতে ফ্রিজ কেনার কিছু শর্ত রয়েছে যা আপনাকে মানতে হবে।

নিচে ইএমআই ও কিস্তিতে ফ্রিজ কেনার শর্ত সমূহ দেওয়া হলো:

  • ফ্রিজ কেনার পরের মাস থেকে আপনাকে নিয়মিত কিস্তি প্রদান করতে হবে।
  • যে ব্যক্তি ফ্রিজ কিনেছেন তিনি যদি কোন কারণে কিস্তি পরিশোধ করতে ব্যর্থ হয় তবে জামিনদারদের কিস্তি পরিশোধ করতে হবে।
  • কিস্তি প্রত্যেক মাসের ১ তারিখ থেকে ১০ তারিখের মধ্যেই পরিশোধ করতে হবে।
  • পূর্বের কিস্তি পরিশোধ না হওয়া পর্যন্ত নতুন কোন পণ্য আপনি কিস্তিতে ক্রয় বা কিনতে পারবেন না।

 

ফ্রিজ কিনলে কত মাসের ভিতর কিস্তি পরিশোধ করতে হবে?

 

আপনি ৩ মাস মেয়াদ, ৬ মাস মেয়াদ ও ১২ মাস মেয়াদে ইএমআই (EMI) ও কিস্তিতে ফ্রিজ কিনতে পারবেন।

অনেক ব্র্যান্ডের ফ্রিজ আপনি সর্বোচ্চ ৩৬ মাসের ইএমআই সুবিধাতেও নিতে পারবেন। সময় বাড়িয়ে নিলে সেক্ষেত্রে সুদের পরিমাণ অল্প কিছু বাড়তে পারে। অনেক ব্যাংক আপনাকে সর্বোচ্চ ২৪ মাস পর্যন্ত বিনা সুদে মূল্য পরিশোধ করার সুবিধা দিয়ে থাকবে।

তাই ইএমআই ও কিস্তিতে ফ্রিজ কেনার সময় কর্তৃপক্ষের কাছে এসব বিষয়ে বিস্তারিত জেনে নিবেন।

অনেক কোম্পানি ৬ মাসের ভিতর বিনা সুদে মূল্য পরিশোধ করার অফার দেয়। অর্থাৎ, আপনি যদি ফ্রিজ কেনার দিন থেকে পরবর্তী ৬ মাসের ভিতর কিস্তি পরিশোধ করতে পারেন সেক্ষেত্রে ফ্রিজের MRP যত টাকা আছে তত টাকা পরিশোধ করলেই হবে। অতিরিক্ত কোন টাকা দিতে হবে না।

 

আরও পড়ুন: কোন ফ্রিজ ভালো তা কিভাবে বুঝবো? [গুরুত্বপূর্ণ ১২টি উপায়]

 

ইএমআই ও কিস্তিতে ফ্রিজ কিনতে কত টাকা ডাউন পেমেন্ট করতে হয়?

 

ইএমআই ও কিস্তিতে ফ্রিজ কিনতে হলে আপনাকে কিছু টাকা ডাউন পেমেন্ড করে তারপর ফ্রিজ কিনতে হবে।

এই ডাউন পেমেন্ট টাকার পরিমাণ কত টাকা হবে তা নির্ভর করবে ফ্রিজটির দাম কত তার উপর ভিত্তি করে।

সাধারণত কোম্পানিগুলো ফ্রিজের দামের উপর নির্ভর করে ১৫%, ২০%, ২৫% বা ৩০% এরকম একটা টাকার পরিমাণ ডাউন্ট পেমেন্ট হিসেবে নেয়।

আপনি যে ফ্রিজটি পছন্দ করেছেন সেটির ডাউন পেমেন্ট কত টাকা দিতে হবে তা কর্তৃপক্ষের সাথে আলোচনা করলেই জানতে পারবেন।

সহজ ভাষায়, ইএমআই ও কিস্তিতে ফ্রিজ কিনতে গেলে প্রথমে আপনাকে অল্প কিছু টাকা পরিশোধ করে বাকীটা কিস্তিতে দিতে হবে। ফ্রিজ কেনার সময় নগদ যে পরিমাণ টাকার প্রদান করবেন সেটিই হচ্ছে ডাউন পেমেন্ট।

 

বাংলাদেশের ভালো ১2টি ফ্রিজের ব্র্যান্ড

 

নিচে বাংলাদেশের ভালো ১২ ফ্রিজ ব্র্যান্ডের নাম দেওয়া হলো:

  • স্যামসাং ফ্রিজ (Samsung Fridge)
  • এলজি ফ্রিজ (LG Fridge)
  • হিটাচি ফ্রিজ (Hitachi Fridge)
  • ভিশন ফ্রিজ (Vision Fridge)
  • সিঙ্গার ফ্রিজ (Singer Fridge)
  • শার্প ফ্রিজ (Sharp Fridge)
  • মাইওয়ান ফ্রিজ (MyOne Fridge)
  • ওয়ালটন ফ্রিজ (Walton Fridge)
  • কনকা ফ্রিজ (KONKA Fridge)
  • যমুনা ফ্রিজ (Jamuna Fridge)
  • মিনিস্টার ফ্রিজ (Minister Fridge)
  • কেলভিনেটর ফ্রিজ (Kelvinator Fridge)

 

ইএমআই ও কিস্তিতে ফ্রিজ কেনার সঠিক নিয়ম কি?

 

ইএমআই ও কিস্তিতে ফ্রিজ কেনার সঠিক নিয়ম নিচে দেওয়া হলো:

  • যে ফ্রিজ কিনবে তার ভোটার আইডিকার্ডের ফটোকপি ও তার দুই কপি নিতে হবে।
  • তার দুই জন জামিনদার ও তাদের ভোটার আইডিকার্ডের ফটোকপি ও এক কপি করে ছবি নিতে হবে।
  • তার যে ব্র্যান্ডের ফ্রিজ কিনবেন তাদের শোরুমে গিয়ে ফ্রিজ পছন্দ করুন।
  • শোরুম কর্তৃপক্ষের সাথে আলোচনা করুন যে কত মাসের কিস্তিতে ফ্রিজটি কিনতে চাচ্ছেন।
  • কর্তৃপক্ষের কাছে আরও জানুন আপনি যে ফ্রিজটি পছন্দ করেছেন সেটি ইএমআই ও কিস্তিতে নেওয়ার জন্য কত টাকা ডাউন পেমেন্ট করতে হবে।
  • সব কাজ সম্পূর্ণ হয়ে গেলে ডাউন পেমেন্ট জমা দিয়ে আপনার পছন্দের ফ্রিজটি কিনে আপনার বাসায় চলে আসুন।

 

পরিশেষে, এই আর্টিকেলে ইএমআই ও কিস্তিতে কিভবে ফ্রিজ কিনব? বা ইএমআই ও কিস্তিতে ফ্রিজ কেনার নিয়ম বিস্তারিত আলোচনা শেষে আশাকরি আপনার সব কনফিউশন দূর হয়েছে। তাছাড়া যে কোন ব্র্যান্ডেরই ফ্রিজ কিনতে যান না কেন সেখানেই কিস্তির নিয়ম-কানুন সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে পারবেন।

Spread the love

হ্যালো "ট্রিকবিডিব্লগ" বাসী আমি ওসমান আলী। দীর্ঘদিন থেকে অনলাইনে লেখালেখির পেশায় যুক্ত আছি। Trick BD Blog আমার নিজের হাতে তৈরি করা একটি ওয়েবসাইট। এখানে আমি প্রতিনিয়ত ব্লগিং, ইউটিউবিং ও প্রযুক্তি সহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ টিপস এন্ড ট্রিক্স রিলেটেড আর্টিকেল প্রকাশ করে থাকি।

Leave a Comment