বাংলাদেশে পল্লি উন্নয়নের জন্য সরকারি ও বেসরকারিভাবে যেসব কর্মসূচি রয়েছে সেসবের মধ্যে ভি-এইড (V-AID) হচ্ছে অন্যতম। ভি-এইড কর্মসূচী চালু হওয়ার উদ্দেশ্য হচ্ছে গ্রামীণ জনসাধারণের জীবনযাত্রার মানোন্নয়নের জন্য।
গ্রামীণ কৃষি ও শিল্প উন্নয়নের সাথে বাংলাদেশে পল্লি উন্নয়ন একাডেমী প্রতিষ্ঠার ইতিহাস নিবিড়ভাবে জড়িত।
এই পল্লি উন্নয়ন প্রক্রিয়া বাংলাদেশ তথা পুরো ভারতীয় উপমহাদেশে একদিনের নয়। কিছু ব্যক্তিত্ব ও প্রতিষ্ঠান ঊনবিংশ শতাব্দীর শেষভাগ হতেই পল্লিউন্নয়নের উদ্যোগ গ্রহণ করেন। পল্লিউন্নয়নের মডেল হিসেবে ১৯৫৯ সালে যাত্রা শুরু করে BRAD বা কুমিল্লা মডেল।
১৯৭০ সালের বন্যা ও ১৯৭১ সালের মহান স্বাধীনতা যুদ্ধ এবং পরবর্তীতে দেশ পুনর্গঠনের জন্য জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে এনজিওগুলো ব্যাপক কার্যক্রম পরিচালনা করে।
ভি-এইড (V-AID) কর্মসূচী
গ্রামীণ সমাজের অগ্রগতি, সম্পদের সুষ্ঠু ব্যবহার, জনসাধারণের আয় বৃদ্ধি, উৎপাদন ব্যবস্থার আধুনিকায়ন এবং কৃষি উন্নয়নের লক্ষ্যে ১৯৫৩ সালে V-AID (Village Agricultural and Industrial Development) কর্মসূচির অগ্রযাত্রা শুরু হয়।
গ্রাম উন্নয়নের প্রচেষ্টাকে বাস্তবায়িত করার জন্য এ কর্মসূচির প্রধান উদ্দেশ্য ছিল নিম্নরূপ:
- গ্রামবাসীদের আয় বৃদ্ধির জন্য কৃষি, স্বাস্থ্য, শিক্ষা, সমবায়, কুটির শিল্প প্রভৃতি ক্ষেত্রে আধুনিক জ্ঞান ও কৌশল প্রয়োগ করতে সহায়তা করা।
- আর্থসামাজিক ও রাজনৈতিক উন্নয়নের জন্য গ্রামীণ জনগণের মধ্যে সমবায় এবং নেতৃত্বের সৃষ্টি করা।
- গ্রাম পর্যায়ে জনগণকে সংগঠিত করে ছোট ছোট স্বনির্ভর প্রকল্প গ্রহণে উৎসাহিত করা।
আরও পড়ুন:
- জাতি-বর্ণ প্রথা কাকে বলে?
- ক্ষমতা কাকে বলে? | ক্ষমতার সংজ্ঞা দাও
- সুশীল সমাজ কাকে বলে? | সুশীল সমাজের সংজ্ঞা দাও
- পল্লী বা গ্রাম উন্নয়ন কাকে বলে?
উপসংহার: পরিশেষে বলা যায় যে, পল্লিউন্নয়নের জন্য ষাট ও সত্তরের দশকে যেসব কর্মসূচি গৃহীত হয়েছিল, সেসবের মূল উদ্দেশ্য সফল হয় নি। কর্মসূচির সুফল সাধারণ মানুষের নিকট পৌঁছায় নি। সেই কর্মসূচির সুফল ভোগ করেছেন গ্রামীণ ক্ষমতাশালী ব্যক্তিরা। তবে এক্ষেত্রে জাতিসংঘের কর্মসূচি ও ব্যক্তি উদ্যোগে গড়ে উঠা কর্মসূচি সাফল্যের স্বাক্ষর রেখেছে।



