নতুন ইউটিউব চ্যানেলে দ্রুত মনিটাইজেশন পাওয়ার ৫টি উপায়

Join Telegram Channel

বর্তমান সময়ে অনলাইন থেকে আয় করার জনপ্রিয় একটি মাধ্যম হচ্ছে ইউটিউব (Youtube)। ইউটিউবে একটি চ্যানেল তৈরি করে সেখানে নিয়মিত ভিডিও আপলোড করে ইউটিউব থেকে ভালো পরিমাণ টাকা আয় করা যায়।

এর ইউটিউব চ্যানেলে মনিটাইজেশন অন করা থাকতে হয়। ইউটিউব চ্যানেলে মনিটাইজেশন অন করার জন্য কিছু শর্ত রয়েছে। যেমন: ইউটিউব চ্যানেলে লাস্ট ১২ মাসের ভিতর ১০০০ সাবস্ক্রাইবার ও ৪০০০ ঘণ্টা ওয়াচ টাইম পূরণ করতে হবে। তারপর ইউটিউব চ্যানেলে মনিটাইজেশন অন করার অপশন আসবে।

অনেকে ইউটিউব চ্যানেল তৈরি করে নিয়ম মেনে কাজ না করার জন্য মাসের পর মাস, বছরের পর বছর পার করে ফেলে তাও এই শর্তটি পূরণ করতে পারে না।

তাই আজকের এই আর্টিকেলটিতে আমি নতুন একটি ইউটিউব চ্যানেলে দ্রুত কিভাবে মনিটাইজেশন অন করবেন বা নতুন ইউটিউব চ্যানেলে দ্রুত মনিটাইজেশন পাওয়ার ৫টি উপায় আপনাদের সাথে সেয়ার করবো।

 

১. ইউটিউব চ্যানেলের জন্য নির্দিষ্ট ক্যাটাগোরি নির্বাচন করা

 

আপনি যদি এক ইউটিউব চ্যানেলেই সব ধরনের ভিডিও আপলোড করতে চান তবে এই চিন্তা বাদ দিন। এভাবে ইউটিউবে সফল হতে অনেক সময় লেগে যাবে।

তাই ইউটিউব চ্যানেলের জন্য নির্দিষ্ট একটি ক্যাটাগোরি নির্বাচন করবেন। উদাহরণস্বরূপ: যদি মোবাইল রিভিউ ইউটিউব চ্যানেল তৈরি করেন তবে সেখোনে শুধু মোবাইল রিভিউ ভিডিও আপলোড করবেন। আবার যদি ফুড রিভিউ ইউটিউব চ্যানেল তৈরি করেন তবে সেখানে শুধু ফুড রিভিউ রিলেটেড ভিডিও আপলোড করবেন।

এভাবে কাজ করলে দ্রুত আপনার চ্যানেলের রিচ বাড়বে। একবার আপনার ইউটিউব চ্যানেলটি দাড়িয়ে গেলে পরে চাইলে আপনি অন্যান্য ভিডিও ও আপলোড করতে পারবেন।

 

২. লং ভিডিও ও শর্ট ভিডিও

 

ইউটিউব চ্যানেলে শুধু লং ভিডিও আপলোড করে বসে থাকলেই হবে। লং ভিডিওর সাথে নিয়মিত শর্ট ভিডিও ও আপলোড করুন।

আপনার লং ভিডিওটা থেকেই বিভিন্ন ক্লিপ নিয়ে শর্ট ভিডিও তৈরি করে ফেলতে পারবেন। শর্ট ভিডিও ভাইরাল হওয়ার সম্ভবনা বেশি থাকে।

এবং শর্ট ভিডিওটার শেষে লং ভিডিওটাও প্রোমোট করে দিবেন। এতে করে যারা পুরো ভিডিওটি দেখতে আগ্রহী তারা আপনার চ্যানেলে ডুকে পুরো ভিডিওটা দেখে আসবে। ফলে আপনার ওয়াচ টাইম বেড়ে যাবে।

 

৩. নির্দিষ্ট সময়ে নিয়মিত ভিডিও আপলোড

 

ইউটিউব চ্যানেলে ভিডিও আপলোড করার ক্ষেত্রে ধারবাহিকতা বজায় রাখবেন। যদি দিনে একটা বা দুই দিনে একটা কিংবা সপ্তাহে একটা ভিডিও আপলোড করেন তাহলে সেই ধারাবাহিকতা বজায় রেখেই নিয়মিত ভিডিও আপলোড করবেন।

ভিডিও আপলোড করার নির্দিষ্ট একটি সময় বের করে নিবেন এবং নিয়মিত সেই সময়েই ভিডিও আপলোড করবেন। এতে করে দ্রুত সফলতা আসবে।

আর যদি মন চাইলে ভিডিও আপলোড দেন আর মন না চাইলে ভিডিও আপলোড না দেন তবে আপনার সফল হওয়া একটু কষ্টকর হয়ে যাবে।

 

৪. সোশ্যাল মিডিয়া একাউন্ট (Social Media Accounts)

 

বিভিন্ন সোশ্যাল মিডিয়া গুলোতে গিয়ে একাউন্ট তৈরি করে রাখবেন। যেমন: ফেসবুক, টুইটার, ইন্সাগ্রাম, হোয়াটসঅ্যাপ চ্যানেল, টেলিগ্রাম চ্যানেল ইত্যাদি।

এবং আপনি ইউটিউবে যে ভিডিও গুলো আপলোড করবেন সেগুলোর ডেস্ক্রিপশন বক্সে এই সোশ্যাল মিডিয়া একাউন্ট গুলোর লিংক দিয়ে দিবেন। এতে করে ভিডিও দেখার পর অনেক ভিউয়ার আপনার বিভিন্ন সোশ্যাল মিডিয়া একাউন্ট গুলোতে গিয়ে ফলো দিয়ে রাখবে। এভাবে আপনার সোশ্যাল মিডিয়া একাউন্ট গুলোতে ফলোয়ার বেড়ে যাবে।

পরবর্তীতে যখন আপনার ইউটিউব চ্যানেলে কোনো ভিডিও আপলোড দিবেন তখন ভিডিওর লিংকটি এই সোশ্যাল মিডিয়া একাউন্ট গুলোতে গিয়ে সেয়ার দিবেন। আপনার পোস্ট দেখা মাত্রই অনেকেই সেই লিংকে ক্লিক করে আপনার ভিডিওটি দেখতে যাবে। এভাবে দ্রুত আপনার ভিডিওতে ভিউস বাড়বে।

 

৫. কম্পেটিটরদের অনুসরণ করুন

 

আপনার মতোন সেইম ক্যাটাগোরিতে যতজন ভিডিও তৈরি করে তারা সবাই আপনার কম্পেটিটর। আপনার কম্পেটিটরদের ভিতর যাদের ভিডিওতে ভালো ভিউস আসে তাদের ভিডিও গুলো ভালোভাবে দেখুন ও তাদের ভিডিওর ধরন বুঝার চেষ্টা করুন। তারপর তাদের চেয়েও ভালোভাবে ভিডিও তৈরি করার চেষ্টা করুন।

তাছাড়া যাদের ভিডিওতে ভিউস আসে না, সেই ভিডিও গুলোও দেখুন এবং বুঝার চেষ্টা করুন তারা কি ভুল করছে। এবং আপনার ভিডিওতে সেই ভূলগুলোকে এড়িয়ে চলবেন।

 

আরও পড়ুন:

 

পরিশেষে, আশাকরি এই ‘নতুন ইউটিউব চ্যানেলে দ্রুত মনিটাইজেশন পাওয়ার ৫টি উপায়’ আর্টিকেলটিতে দেখানো নিয়ম গুলো অনুসরণ করলে খুব দ্রুতই আপনার নতুন ইউটিউব চ্যানেলে মনিটাইজেশন পেয়ে যাবেন।

Spread the love
Join Telegram Channel

হ্যালো "ট্রিকবিডিব্লগ" বাসী আমি ওসমান আলী। দীর্ঘদিন থেকে অনলাইনে লেখালেখির পেশায় যুক্ত আছি। Trick BD Blog আমার নিজের হাতে তৈরি করা একটি ওয়েবসাইট। এখানে আমি প্রতিনিয়ত ব্লগিং, ইউটিউবিং ও প্রযুক্তি সহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ টিপস এন্ড ট্রিক্স রিলেটেড আর্টিকেল প্রকাশ করে থাকি।

Leave a Comment