বাংলা সাহিত্যের প্রথম সাহিত্যিক নিদর্শন হচ্ছে চর্যাপদ যা নেপালের রাজদরবারের গ্রন্থশালা থেকে ১৯০৭ সালে মহামহোপাধ্যায় হরপ্রসাদ শাস্ত্রী এর পান্ডুলিপিগুলো উদ্ধার করেন।
পরে ড. হরপ্রসাদ শাস্ত্রী বঙ্গীয় সাহিত্য পরিষদ থেকে ১৯১৬ সালে এগুলো সম্পাদনা করে নাম দেন ‘চর্য্যাচর্য্যবিশ্চিয়’।
২৩ জন মতান্তরে ২৪ জন হচ্ছেন এর পদকর্তা এবং চর্যার মোট পদসংখ্যা হচ্ছে ৫০টি মতান্তরে ৫১টি। তবে উদ্ধার করা হয়েছে সাড়ে ছেচল্লিশটি।
চর্যাপদের শিল্পমূল্য
চর্যাপদের পদকর্তা গণ হচ্ছেন বৌদ্ধ সহজিয়া ধর্মপন্থী।
চর্যাপদের পদ গুলো লেখা হয় ৬৫০ থেকে ১২০০ খ্রিস্টাব্দের মধ্যে। চর্যাপদের প্রথম পদ রচিয়তা হচ্ছে লুইপা এবং চর্যাপদের সবচেয়ে বেশি পদ যিনি রচনা করেন তার নাম হচ্ছে কাহ্নপা।
মূলত চর্যাপদের হচ্ছে গানের সংকলন।
চর্যাপদে ধর্মীয় অনুভূতি প্রকাশিত হলেও এতে স্বতঃস্ফূর্ত রসের আবেদন এবং বাকনির্মিতির শিল্পকৌশল, রূপক, ছন্দ, অলঙ্কার, উপমা ও প্রবাদের যথাযথ ব্যবহারে এগুলোর শিল্পমূল্য অনেক বেশি।
মূলত চর্যাপদ গুলো হচ্ছে গান। আবার এগুলো গানের সমন্বয়ে কবিতাও। কবিতাগুলো চর্যাপদের পদকর্তা গণ সুরের মাধ্যমে আবৃত্তি করতেন।
আরও পড়ুন:
- সামাজিক পরিবর্তন বলতে কী বুঝায়?
- মহাকাব্য কাকে বলে? মহাকাব্য হিসেবে মেঘনাদবধ কাব্যের সার্থকতা আলোচনা কর
- পড়াশোনায় মনোযোগ আনার ১০টি কার্যকরী উপায়
- ছয় দফা কর্মসূচী আসলে কি? ছয় দফা কর্মসূচীর দফা ছয়টি কি কি?
- সামজিক অসমতা বলতে কি বুঝায়?
বৌদ্ধ ধর্মের সিদ্ধাচার্যদের এতে ধর্মীয় সাধন তত্ত্বের মাধ্যমে সহজপন্থার সাধন তত্ত্ব সহজিয়াগণ তত্ত্বিক চিন্তা ধারায় এসব গান গাইবেন। মানুষের সমস্ত সত্য দেহের মধ্যেই অবস্থিত এবং সেই সত্যই হচ্ছে সহজ এমনটাই মনে করেন বৌদ্ধ তাত্ত্বিকগণ।
চর্যাপদের কাব্যমূল্য তার এই সাধ্যন সংগীতধর্মিতার মধ্যেই প্রোথিত।
মূলত চর্যাপদ হচ্ছে একটি গীতি সংকলন। চর্যাপদে ২৩ জন কবির মোট সাড়ে ছেচল্লিশটি পদ পাওয়া গেছে।
হয়ত কীটদৃষ্ট না হলে ৫০ টি পদই অক্ষত অবস্থায় পাওয়া যেত।
সহজিয়া পথের অনুসারী চর্যাপদের রচয়িতাগণ এবং চর্যাপদের গীতগুলোতে ধর্মের সাধন প্রণালি ব্যক্ত করা হয়েছে।
তবে চর্যার একটি অখণ্ড সমাজচিত্র মেলে পদকারেরা গূঢ় ধর্মতত্ত্ব বোঝাতে গিয়ে সমকালীন যে উপাদান উপকরণ ব্যবহার করেছেন তাতে।
চর্যাপদ গান হিসেবে রচিত, গানের মাধুর্য বালীর উৎকর্ষে নয়, সুর লালিত্যে।
এখানে সুরকেই প্রাধান্য দেয়া হযেছে কথাকে গৌণ ধরে। তবুও বাণীপ্রধান গান এগুলো।
চর্যাপদের ভাষাকে এর টীকাকার সান্ধ্যভাষা বলে উল্লেখ করেছেন।
পরিশেষে বলা যায় যে, চর্যাপদের গান গুলো হচ্ছে দ্ব্যর্থবোধক। চর্যার বক্তব্যকে বাগার্থ ও ব্যঙ্গার্থ দুর্বোধ্য ও অবোধ্য করেছে, সেজন্যই এর ভাষাকে সান্ধ্যভাষা বলা হয়ে থাকে। চর্যাপদ সমকালীন সমাজজীবনের প্রকৃষ্ট উদাহরণ ও বাংলা সাহিত্যের প্রথম সাহিত্যিক নিদর্শন।



